জেল থেকে ছাড়া পেলেন আসিয়া বিবি | বিশ্ব | DW | 08.11.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

পাকিস্তান

জেল থেকে ছাড়া পেলেন আসিয়া বিবি

পাকিস্তানে মৃত্যুদণ্ডের অভিযোগ থেকে নিস্তার পাওয়া আসিয়া বিবি অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন৷ ব্লাসফেমির অভিযোগে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল দেশটির আদালত৷ প্রায় এক দশক আইনি লড়াই চালিয়ে দণ্ড মওকুফ পান তিনি৷

এক সপ্তাহ আগে সুপ্রিম কোর্ট পাকিস্তানের খ্রিষ্টান নারী আসিয়া বিবির বিরুদ্ধে ব্লাসফেমির অভিযোগ খারিজ করে দিলেও মুক্তি মিলছিল না আসিয়ার৷ দেশটির কট্টরপন্থিদের প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মুখে আদৌ আসিয়া ছাড়া পাবেন কিনা তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল৷

এর মধ্যে সরকার কট্টরপন্থিদের সঙ্গে এ বিষয়ে একটি চুক্তিও করে, যা ব্যাপক সমালোচিত হয়৷

অবশেষে বুধবার আসিয়া মুক্তি পেয়েছেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো খবর প্রকাশ করে৷ কেউ কেউ দাবি করে যে, তিনি বিমানে করে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন৷

তবে বিষয়টি এখনো পরিষ্কার নয়৷ পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র মোহাম্মদ ফয়সাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘‘আসিয়া বিবির দেশ ছাড়ার খবর সত্য নয়৷’’

এদিকে, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট আন্টোনিও তাজানি টুইট করে বলেছেন, ‘‘আসিয়া জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন এবং নিরাপদ জায়গায় আছেন৷’’

তাজানি আরো জানান, তিনি ইউরোপে আসিয়া ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের অপেক্ষায় আছেন৷

পাকিস্তনে ব্লাসফেমি একটি সংবেদনশীল বিষয়৷ আশির দশকে সামরিক স্বৈরশাসক জেনারেল জিয়া-উল-হকের সময়ে বিতর্কিত এই আইনটি জারি করা হয়৷ এই আইনের বিরোধীদের একটি বড় অভিযোগ যে, আইনটি ব্লাসফেমি'র চেয়ে ব্যক্তিগত রেষারেষির কারণে বেশি ব্যবহৃত হয়৷

২০০৯ সালের জুনে আসিয়া বিবি'র প্রতিবেশীরা তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন ব্লাসফেমির৷ তারা বলেন যে, আসিয়া ইসলাম ধর্মের নবির অবমাননাসূচক কথা বলেছেন৷ মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ব্যাপক প্রতিবাদের মুখেও এক বছর পরে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়৷ এরপর লাহোর হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখে৷

এ বছর ৮ অক্টোবর পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হয়৷ সেখানে আসিয়া বিবির দণ্ড মওকুফের রায় দেয়া হয়৷

এদিকে, আসিয়ার মুক্তিকে কেন্দ্র করে আবারো কট্টর ইসলামপন্থিদের প্রতিবাদ বিক্ষোভের আশঙ্কা করা হচ্ছে৷

এর আগে রায়ের পর বিক্ষোভ শুরু করে তেহরিক-ই-লাবায়েক (টিএলপি) নামের একটি ইসলামপন্থি দল৷ তারা লাহোরের বড় বড় রাস্তা বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করে৷ প্রতিবাদের মুখে তাদের সঙ্গে একটি চুক্তিতে আসতে বাধ্য হয় পাকিস্তান সরকার৷ চুক্তির পর গত শুক্রবার রাতে বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত করে টিএলপি৷

পাঁচ দফা সেই চু্ক্তিতে বলা আছে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলে সরকার আপত্তি তুলবে না৷

জেডএ/এসিবি (রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন