1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

জেলে যেতে সমস্যা নেই, আমি জেলে যেতে চাচ্ছি : হুমায়ূন আহমেদ

১২ নভেম্বর ২০২৪

চলতি বছর বাংলাদেশের র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (ব়্যাব) প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পূর্তি হয়েছে৷ ব়্যাব আত্মপ্রকাশের তিন বছরের মাথায় ‘হলুদ হিমু কালো র‍্যাব' নামে একটি বই লিখেন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ৷

https://p.dw.com/p/4mvS2
হুমায়ূন আহমেদ
ব়্যাব নিয়ে লেখা হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসটি বিষয়বস্তুর কারণে প্রকাশেই আগেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিলছবি: Mustafiz Mamun

আলোচিত এই বই নিয়ে ২০০৬ সালে হুমায়ূন আহমেদের সাক্ষাৎকার নেন ডয়চে ভেলের ঢাকা প্রতিনিধি হারুন উর রশীদ স্বপন৷

র‌্যাব নিয়ে ‘হিমু' চরিত্রের কাণ্ডকারখানা, বাহিনীটির বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং বইটি প্রকাশের পর তাদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন প্রয়াত এই লেখক৷ হুমায়ূন আহমেদের ৭৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সাক্ষাৎকারটি পাঠকদের জন্য হুবহু প্রকাশ করা হলো৷

ডয়চে ভেলে : স্যার, আপনার এই সময়ের সবচেয়ে আলোচিত উপন্যাস ‘হলুদ হিমু কালো র‍্যাব' নানা কারণে আলোচিত, একে তো রাবের এটি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে আর আপনার পাঠকপ্রিয়তা, জনপ্রিয়তা তো আকাশস্পর্শী৷ যে কারণে এটি আলোচনায় এসেছে, সেটি হচ্ছে, র‍্যাবের ইনভলভমেন্ট – এটি র‍্যাব মনে করছে৷ তো আপনি কী মনে করেন, কেন এটি আলোচনায় এলো?

হুমায়ূন আহমেদ : না, আমি তেমন কিছু মনে করি না, আমার প্রধান কাজ তো একটা বই লেখা, একটা বই লিখেছি, কী আলোচনা হচ্ছে না হচ্ছে এই বিষয়ে আমি এখনো পুরোপুরি জানি না৷ লেখা নিয়েই ব্যস্ত৷ লেখা যখন শেষ হবে তখন খোঁজ-খবর করে দেখবো ব্যাপারটা কী...

র‍্যাবের যেটা প্রধান দাবি- তারা বলতে চাচ্ছে, যে কারণেই হোক, নানা কারণে আপনার জনপ্রিয়তায় ধ্বস নেমেছে৷ এবং সেটাকে আপহোল্ড করার জন্য র‍্যাবের মতো একটি জনপ্রিয় বিষয়কে আপনি উপন্যাসে টেনে নিয়ে এসেছেন৷

হ্যাঁ, র‍্যাবদের ধারণা র‍্যাবদের কাছে৷ র‍্যাবের ধারণার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক... মানে যোগাযোগ তো নাই৷ র‍্যাব র‍্যাবের কথা বলবে...

র‍্যাব এখন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে৷ তারা মেইনলি যে পার্টগুলো দেখছে, তাদের সঙ্গে কালও আমার কথা হয়েছে, আপনার অন্যান্য বিষয় নিয়ে তাদের ক্ষোভ রয়েছে বলে তারা বলছে, কিন্তু তারা একটি আপত্তিকর অংশ নিয়ে জনমনে প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করছে৷ সেটি হচ্ছে যে ‘আমার কৃষ্ণ র‍্যাব, আমি তোমায় ভালোবাসি৷ তোমার অস্ত্র, তোমার বুলেট আমার প্রাণে বাজায় বাঁশী'৷ তারা মনে করছে, এটি জাতীয় সংগীতের প্যারোডি হয়েছে৷

আমি সেটা মনে করি না৷ আমি মনে করি, এখানে যে চরিত্রটি আছে, হিমু, সে সমস্ত কিছু নিয়েই প্যারোডি করে৷ প্রহসনমূলক চরিত্র তো, তাই হিমু এবং তার আশেপাশে যারা থাকে, তারাও প্রহসনধর্মী কথা-বার্তা বলে৷ উপন্যাসের বিষয়বস্তু তো, আমার হিমু ধরনের উপন্যাসগুলি প্রহসনধর্মী উপন্যাস, ঠাট্টা, তামশা (তামাশা), ফাইজলামি (ফাজলামো) করা হিমুর স্বভাব এবং হিমুর আশেপাশে যারা থাকে তাদেরও সেই স্বভাব৷ যেই লোকটি এই কথাগুলো বলেছে, যে র‍্যাব সংগীত... সে মানসিকভাবে মোটামুটি বিপর্যস্ত একজন লোক৷ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত একজন লোক অনেক কিছুই বলতে পারে৷

আপনি সাধারণত হিমুর বইয়ে ভূমিকা লেখেন না, এই বইটি তে আপনার ছোট্ট একটি কৈফিয়ত রয়েছে, এখানে যে চরিত্রগুলো কাল্পনিক, কেন এই বইটিতে কৈফিয়তটি দিতে গেলেন? অন্য বইতে কেন দিলেন না?

না, আমার অনেক বইয়ে কৈফিয়তধর্মী লেখা আছে, শুধু যে এটাতে আছে তা না কিন্তু... অনেক বইয়ে আছে৷ তবে এবার যে কয়টি উপন্যাস লিখেছি, প্রতিটাতেই ছোট না বড় কিছু না কিছু ভূমিকা আছে...

আপনার এ বইয়ের যে ক্যারেক্টারগুলো ... র‍্যাবের গোয়েন্দার যে ক্যারেক্টার রয়েছে, যে গোয়েন্দা হিমুর মেসে গিয়ে ঘুমায়, সে সেখানে ভাত খায়, যেটা একজন অথর্ব গোয়েন্দার চরিত্র, বাট মানবিক, আপনি কি মনে করেন র‍্যাবের গোয়েন্দা নেটওয়ার্কটা এরকম?

সমস্ত কিছু নিয়েই তো একটা বাহিনী, তুমি কি মনে করো যে, র‍্যাবে এমন লোকও আছে তারা ডাকাতি করছে? কিন্তু আমরা তো দেখি পত্রিকাতে তারা ডাকাতি করছে, করছে না? এরা যদি একদল এইখান থেকে বাইরে গিয়া যদি ডাকাতি করতে পারে, দু-একটা থাকতে পারে না যে সে ঘুমাবে? আমরা তো পত্রিকায় দেখেছি ডাকাতি করসে, অমুক বাড়ি থেকে টাকা-পয়সা নিয়ে যাচ্ছে৷ অমুককে ভয় দেখাইয়া অস্ত্র নিচ্ছে, র‍্যাবের ....ওদের হাতে র‍্যাবের সদস্যরা ধরা পড়ছে৷ কাজেই এমন বিচিত্র জিনিস যদি থাকতে পারে, একজন থাকতেই পারে যে সেখানে ঘুমাচ্ছে৷ আর এইটা তো শুরুতেই বলসি, এইটা একটা প্রহসনধর্মী লেখা, একটা ফান করার উদ্দেশ্য এখানে সবসময়ই কাজ করেছে৷

অপরাধীর আত্মপক্ষের সমর্থনের একটা ব্যবস্থা থাকতেই হবে: হুমায়ূন আহমেদ

আপনার হিমু তো এই প্রথমবার র‍্যাবের হাতে ধরা পড়লো৷ এবং দুইবার... এই উপন্যাসে হিমু দুইবার কিন্তু র‍্যাবের হাতে ধরা... নিয়ে যায়... প্রথমবার ধরা, তারপর নানা কারণে নিয়ে যায়৷ তো র‍্যাব গঠিত হয়েছে দু বছর, হিমু এত দেরি করলো কেন র‍্যাবের হাতে ধরা পড়তে?

হিমুর এই বই এইমাত্রই লেখা হইলো তো, কাজেই ধরা পড়লো আর র‍্যাব গঠিত হওয়ার পরে পরেই তো আমরা র‍্যাবের কর্মকাণ্ড দেখতে পাইনি৷ আর র‍্যাব ছাড়াও হিমু কিন্তু সবসময়ই পুলিশের হাতে ধরা পড়ে৷ আমার যে কয়টি উপন্যাস আছে, হিমুকে নিয়ে লেখা, আমি জানি না তুমি পড়েছো কিনা, প্রতিটা উপন্যাসেই হিমু কিছুটা সময় পুলিশের সাথে কাটায়, কাজেই এখানে কিছুটা সময় সে র‍্যাবের সঙ্গে কাটাইলো, নতুন কোনো বাহিনী যদি তৈরি হয়, মে বি কিছুটা সময় ও ওদের সঙ্গেও কাটাবে৷

আমরা কি আশা করতে পারি, হিমু নামের যুবকটি, যে যুবক অনেকেই হতে চায়, শোনা যায় আপনারও স্বপ্ন ছিল হিমুর মতো হওয়ার, এই হিমু আরো কিছুটা সময় ভবিষ্যতে র‍্যাবের সাথে কাটাবে?

আমি এখনো বুঝতে পারছি না, তবে কাটাইতেও পারে৷ সে প্রতি বইয়ে একবার পুলিশের হাতে ধরা পড়ে, তো র‍্যাবের হাতে ধরা পড়তে সমস্যা কোথায়? ক্রসফায়ারে মারা না গেলেই হইসে আরকি৷

শেষ দিকে, শেষের যে চ্যাপ্টারটা, তার আগে ওই যে বিপর্যস্ত লোকটির কথা বলেছেন, যে হিমুর খালু…

হু হু হু হু

এখানে প্রথমেই বলা হয়েছে যে, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিতে হবে র‍্যাবের হাতে, এবং সে এইটা কেন বলছে, মানে এইটার অবজার্ভেশনটা কী?

মানে সেটা তো যে বলছে সে-ই সবচেয়ে ভালো জানে, সে তো চূড়ান্ত রকমের বিপর্যস্ত একটা লোক, মাইর-টাইর খাইয়া তার তো অবস্থা কাহিল, তাই না? তখন তার কাছে মনে হইসে যে, এই দেশকে ঠিক করার জন্য র‍্যাব লাগবে৷ কাজেই সেইটা তো তার দৃষ্টিভঙ্গি, তার চিন্তাধারা, এটা তো লেখকের চিন্তাধারা না৷ একটি উপন্যাসে দশটি ক্যারেক্টার থাকবে, দশটি ক্যারেক্টার দশভাবে কথা বলবে৷ এখন আমরা যদি মনে করি, দশটি ক্যারেক্টারে লেখকই কথা বলতেছে- সে তো ঠিক না৷ আমার কথা কী, আমার কথা ডেফিনিটলি রাষ্ট্র পরিচালনা ব়্যাবের কাছে থাকবে সেটা তো আমার কথা হইতে পারে না৷

বিষয়টা কি সেরকম ঘটতে যাচ্ছে?

না, আমি কখনোই সেইটা মনে করি না৷

একটা র‍্যাব সংগীত থাকলে তো ভালো হয়- তিনি বলছেন, এবং একটি র‍্যাব দিবস, যেখানে কালো পোশাক পরে...

আমরা সবাই মিছিল-টিছিল করবো... হুম...

তাহলে বিষয়টি তার দৃষ্টিতে যদি হয়, তাহলে র‍্যাব কি সর্বব্যাপ্ত হয়ে উঠছে?

তার ইচ্ছা, সর্বব্যাপ্ত হয়ে উঠুক৷ আমাদের মধ্যে কিন্তু এমন অনেকেই আছে, যারা হয়ত বলবে যে, না র‍্যাব খুব ভালো কাজ করছে, অপরাধ কমছে৷ আছে না? অনেকেই বলবে৷ সে হচ্ছে সেই অনেকের একজন, যে র‍্যাবপ্রেমিক৷ র‍্যাবপ্রেমিক আছে না আমাদের মধ্যে? অনেকেই র‍্যাব প্রমিক আছে, হ্যাঁ? সে র‍্যাবপ্রেমিক, কাজেই সে র‍্যাবপ্রেমিক হিসেবে র‍্যাবদের কথা বলছে এবং র‍্যাবদের তো খুশি হওয়া উচিত যে, একজন প্রেমিক তাদের পক্ষে কথা বলছে৷

র‍্যাবের যে এই প্রেমিক জন, তার চরিত্রের কিন্তু একটা অদ্ভুত দিক আছে, যেটি আপনি খুব হালকাভাবে তুলে ধরলেও প্রচণ্ডভাবে নেগেটিভ এই লোকটি৷ মারধর খেয়ে, প্রতারণার শিকার হয়ে উনি মনে করলেন র‍্যাবই তার আশ্রয়৷

না, একজন লোককে দিয়ে তো সবাইকে বিচার করা যাবে না, ওই বিশেষ লোকটি যে নির্যাতিত, নিপীড়িত, ইন আ সেন্স, উনি নিপীড়িত কাদের হাতে? সন্ত্রাসীদের হাতে৷ তো এরা তো চাইবে সন্ত্রাসটা দূর হয়ে যাক, সে যত খারাপ লোকই হোক, সে তো চাইবে দেশ থেকে সন্ত্রাস যাক৷ আচ্ছা, তুমি যদি রাস্তায় ইয়ের হাতে পড়ো, ডাকাইতের হাতে পড়ো, সেই ডাকাইত যদি র‍্যাব ধরে ফেলে, তুমি র‍্যাবের ওপর খুশি হবে না? যথেষ্ট পরিমাণে খুশি হবে৷ ওই লোকটা সেই পরিমাণেই খুশি হয়েছে৷

হিমুর মেসের যে কাজের ছেলেটা, জয়নাল, যে রান্নাবান্না করে, হিমু জীবিত হিসেবে যখন আবার ব্যাক করলো, ওই ছেলেটি তখন প্রচণ্ড বিস্মিত হলো, তাহলে কি র‍্যাবের হাতে ধরা পড়লে কেউ জীবিত ফেরে না?

না, আমাদের মধ্যে এই ধারণাটা কিন্তু আছে, সেটা তো তুমি জানো ভালো করে, জানো না অ্যাজ অ্যান ইন্টারভিউয়ার? আরে সর্বনাশ, র‍্যাব ধরে নিয়ে গেছে এখন তো শেষ- ওই সাধারণ ধারণাটাই আমার উপন্যাসে চলে এসেছে৷

রেস্টুরেন্টের কর্মচারীরা, হিমুর সাথে যে চীনা মেয়েটির বিয়ে হওয়ার কথা ছিল৷ তো রেস্টুরেন্টে যে ভূত রেস্টুরেন্টের কথা আপনি বলেছেন, সেখানে কর্মচারীরা কালো পোশাক পরে এবং সেখানে ভূতনৃত্য হয়৷ বিষয়টা কী এমন র‍্যাব একটি ভৌতিক পরিবেশ সৃষ্টি করছে?

না, র‍্যাব কী করেছে জানি না, তবে রেস্টুরেন্টটা করছে৷

কেন করে স্যার রেস্টুরেন্টে এসব?

ওইটা রেস্টুরেন্টের মালিক বলতে পারবে, আমি বলতে পারবো না৷

ব্যক্তিগত জীবনে র‍্যাবের সঙ্গে কখনো কথা-বার্তা হয়েছে?

না, কখনো হয় নাই৷ওহ আচ্ছা আচ্ছা, নুহাশ পল্লিতে একবার একদল র‍্যাব বেড়ানোর জন্য গিয়েছিল, দূর থেকে দেখেছি, আমার সাথে কোনো কথা-বার্তা হয় নাই৷

ওভার অল এই উপন্যাসটায় আপনার মেসেজটা কী?

আমার মেসেজ হচ্ছে যে, সর্ব প্রাণী সুখে থাকুক, আনন্দে থাকুক৷ আমার সমস্ত হিমু উপন্যাসেই একটা মেসেজ থাকে, যে জীবনটি আমাদের আছে, সেটি নিয়ে আমরা আনন্দে থাকি, আনন্দে বাস করি৷

নিশ্চয়ই চান হিমুও তার মতো আনন্দে থাকুক?

হ্যাঁ, সবাই আনন্দে থাকুক৷

তাহলে হিমু কেন র‍্যাবের হাতে ধরা পড়লো? সে তো কোনো অন্যায় করেনি?

না, হিমু তো পুলিশের হাতেও অকেশনালি ধরা পড়ে, তখনো কোনো অন্যায় করে না৷ হিমুর তো কাজই ধরা পড়া, আমার তো স্টোরিটি তৈরি করতে এটার প্রয়োজন পড়ে৷ তার তো ইন্টারেকশনে যাইতে হবে... র‍্যাবের কাছে ধরা না পড়লে সে ইন্টারেকশনে যাবে কী করে?

তো র‍্যাবের সঙ্গেও হিমুর ইন্টারেকশন হবে?

হ্যাঁ, হিমু এমন একটা ক্যারেক্টার তার সবার সঙ্গে ইন্টারেকশন হয়৷ সে তো আমার মতো গর্তজীবী না, সে তো রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়৷ যে লোকটা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়, তার সঙ্গে তো বহু লোকের ইন্টারেকশন হবে৷

এবং ইন্টারেকশন হিমু তাদের সাধেই মেইনলি করে, প্রধান ইন্টারেকশন...

হ্যাঁ, বইয়ের নামও তো ‘... কালো র‍্যাব', বইয়ের নাম তো অন্য কিছুও হইতে পারতো৷ যেহেতু বইয়ের নাম ‘হলুদ হিমু কালো র‍্যাব', কাজেই ব়্যাবের সঙ্গে তার একটা ইন্টারেকশন হবেই, নয়তো অন্য নাম দিতাম, শুধু দিতাম হলুদ হিমু৷

একজন যে ক্রসফায়ারে মারা গেল৷ তার কোমরের পাশে গুলি পাওয়া গেল, পিস্তল পাওয়া গেল, যেটি প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে৷ এই ধরনের ঘটনা কি বাস্তবেও ঘটেছে?

আমি তো পত্রিকায় দেখেছি৷ পত্রিকায় দেখেই তো লিখেছি৷

কী দেখেছেন?

এই জাতীয় নিউজ তো পত্রিকায় পড়েছি৷ না দেখে বলার তো প্রশ্নই ওঠে না, পত্রিকায় দেখছি, প্রায়ই লেখে ইয়ে পাওয়া যায় আবার সাথে৷

সেখানে প্রশ্নটা কী?

আমার প্রশ্নটা হইলো, এরা যে ইন্টারোগেশন করসে এতক্ষণ ধরে লোকটিকে, কখনো হাত দিয়ে দেখে নাই যে তার সাথে পিস্তল আছে বা গুলি আছে? প্রশ্নটি তো হিমু করেছে৷

দেশ পরিচালনার ভার আসলেই র‍্যাবের হাতে দিলে কেমন হয়?

দেশ পরিচালনার ভার র‍্যাবের হাতে আমরা কেন দেবো, বলো৷ আমরা হচ্ছি, সারা জীবন আমরা কথা বলি গণতন্ত্রের জন্য, হঠাৎ করে যদি আমরা চিন্তা করি দেশ পরিচালনার ভার র‍্যাবের হাতে দেই, দিবো, সেইটা খুবই অন্যায় একটা কথা না?

র‍্যাব কি এভাবে চললে ভালো হবে?

না, ডেফিনিটলি এভাবে চললে ভালো হবে না৷

কিভাবে চললে ভালো হবে?

তাকে... তাকে... তাদের প্রতিটি কাজ-কর্মের একটা জবাবদিহিতা থাকতে হবে৷ একটা লোক ক্রসফায়ারে মারা যাবে, এসে বলবে যে ক্রসফায়ারে মারা গেল, এটা কখনোই হতে দেয়া যাবে না৷ যত বড় অপরাধীই হোক, অপরাধীর আত্মপক্ষের সমর্থনের একটা ব্যবস্থা থাকতেই হবে৷ তার একটা বিচারের অধিকার আছে৷

মানুষের মৌলিক অধিকারগুলোর একটি হচ্ছে বিচারের অধিকার৷ ওই বিচারটি তো তাকে দিতে হবে৷

র‍্যাবের যুক্তিটি হচ্ছে এবং আমাদের যে রাজনীতিবিদদের কথা বলেছেন, তাদের যুক্তিটি হচ্ছে এরকম যে, আপনার বইয়েও এসেছে যে, সমাজ থেকে ক্যানসার দূর করতে এছাড়া কীইবা করার ছিল৷

সন্ত্রাসী বাড়ছে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়েছে৷ এবং এদের পিছনে নিশ্চয়ই বড় মদতদাতাও আছেন৷ তাছাড়া তো এভাবে সন্ত্রাসীরা তৈরি হতে পারে না৷ তো সেই অর্থে ক্যানসার শুধু আমাদেরকে না, সারা পৃথিবী জুড়েই ক্যানসার আছে, ওই ক্যানসারে কেমোথেরাপি দরকার, কাইটা বাদ দেয়ার পক্ষপাতী না৷

আপনি কি মনে করেন র‍্যাবের এই স্টাইলে সেটা নির্মূল করা সম্ভব?

না আমার কাছে মনে হয় না কখনো৷ আমি লেখক মানুষ৷ আমি এ বিষয়ে সাজেশন কী দিবো? এ বিষয়ে সাজেশন দেবেন, যারা দেশ পরিচালনা করেন, তারা৷

র‍্যাব জঙ্গি দমনের সাফল্যের দাবি করছে, র‍্যাব সন্ত্রাস দমনের সাফল্যের দাবি করছে৷

আমি তো র‍্যাবদের প্রতিবেদন তৈরি করছি না৷ আমি হিমুর প্রতিবেদন তৈরি করেছি৷ র‍্যাব যখন তাদের প্রতিবেদন তৈরি করবে, তখন তাতে তাদের সাফল্যের দিকগুলো মানুষকে ভালোভাবে জানাক৷ শ্বেতপত্র প্রকাশ করুক ওদের সাফল্য নিয়ে৷ ওরা ওদের মতো চলুক, আমরা আমাদের মতো চলি৷

মানে, এই চলায় কারো জন্য বাধা না হোক...

না, বাধা তো আসবেই, তাই বলে চলা বন্ধ করে দেবে কেউ?

ওরা যদি আপনার বিরুদ্ধে যদি আইনগত ব্যবস্থা নেয়?

কিছু করার নেই৷ নিবে৷

আপনি কি স্যার জেলে যাবেন?

হ্যাঁ, জেলে যেতে আমার কোনো সমস্যা নাই৷ আমি জেলে যেতে চাচ্ছি, কারণ আমার জেলজীবনটা দেখার খুব শখ ছিল বহুদিন থেকেই৷