জেলে আটকে রেখে মেরে ফেলার সুযোগ তৈরি করেছে ডিজিটাল আইন | বিশ্ব | DW | 02.03.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

জেলে আটকে রেখে মেরে ফেলার সুযোগ তৈরি করেছে ডিজিটাল আইন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সাধারণ মানুষকে কোনো সুবিধা দেয় না৷ এটা যারা মিথ্যা বলে, যারা অপরাধী তাদেরই কাজে লাগে৷ তাই ন্যায়বিচারের জন্য এই আইনটি বাতিল ছাড়া আর কোনো পথ নেই বলে মনে করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া৷

আর সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক মনে করেন আইনটি রাখলেও মানহানি ও ভাবমূর্তি সংক্রান্ত ধারাগুলো পুরোপুরি বাতিল করে দিতে হবে৷ তার মতে, সরকারের সমালোচনা কোনোভাবেই রাষ্ট্রের সমালোচনা বা রাষ্ট্রদ্রোহ নয়৷

১০ মাস কারাগারে আটক থাকার পর লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুকে ‘হত্যাকাণ্ড’ বলে মনে করেন জ্যোতির্ময় বড়ুয়া৷ তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এই আইনটি এমন যে এখানে ভাবমূর্তি বা মানহানির কোনো ব্যাখ্যা নাই৷ এর ব্যাখ্যা ঠিক করে পুলিশ৷ ফলে সরকার বা ক্ষমতাশালীরা যেভাবে মনে করে সেইভাবে এটাকে ব্যাখ্যা করা হয়৷

দেখতে একটি ‘নিরীহ’ কথা আছে এই আইনে৷ আর তা হলো, কেউ যদি জেনে শুনে মিথ্যা প্রকাশ করে ডিজিটাল মাধ্যমে তাহলে এই আইনে মামলা হয়৷ কিন্ত কেউ যে জেনে বা শুনে মিথ্যা বলছেন তা নির্ধারণ করবে কে? তা নির্ধারণের আগেই তো মামলা হয়ে যাচ্ছে৷ কারাগারে পাঠানো হচ্ছে৷ মারা যাচ্ছে৷

অডিও শুনুন 09:10

ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এখন আইনটি বাতিল করা প্রয়োজন: জ্যোতির্ময় বড়ুয়া

আসলে এই আইনে সাধারণ মানুষের বিচার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই৷ ২০১৮ সালে এই আইনটি পাস হওয়ার পর সাধারণ মানুষ এর মাধ্যমে বিচার পেয়েছে তার একটিও উদাহরণ নেই৷ এই আইনে সাংবাদিক, লেখক এমনকি চিকিৎসকদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে৷

জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘‘ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেই এখন আইনটি বাতিল করা প্রয়োজন৷ সংসদ সদস্যেরা এই আইন জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে করলেও এখানে জনমতের প্রতিফলন নাই৷ সাধারণ মানুষ কি তাদের বিনা বিচারে বেধে রাখার আইন চাইবেন?’’

সাইবার অরপাধ বলতে সাধারণভাবে যা বুঝায় তা প্রতিরোধে নিয়ে এই আইনের প্রয়োগ দেখা যায় না৷  বিশেষ করে অনলাইনে তথ্য চুরি, ব্যাংকের তথ্য চুরি, নারীদের হয়রানি- এসব ব্যাপারে এই আইনে বিধান থাকলেও তার প্রতিকার পাওয়া যায় না৷

ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘‘সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের নামে কটাক্ষ করা, ব্যঙ্গ করা, সমালোচনা করে এগুলো কোনোভাবেই অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে না৷ সৌদি আরব, উত্তর কোরিয়া ছাড়া দুনিয়ার কোনো গণতান্ত্রিক দেশে ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অপরাধে শাস্তির এমন আইন নাই৷’’

অডিও শুনুন 05:01

সৌদি আরব, উত্তর কোরিয়া ছাড়া দুনিয়ার কোনো গণতান্ত্রিক দেশে ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অপরাধে শাস্তির এমন আইন নাই: ড. শাহদীন মালিক

তিনি বলেন, কার্টুন আকার অপরাধে কিশোরকে জেলে যেতে হয়েছে৷ মুশতাক আহমেদকে লেখার কারণে কারাগারে গিয়ে মারা যেতে হয়েছে৷ এখন তো বাংলাদেশে কার্টুন আঁকা বন্ধ হয়ে গেছে৷ রম্য ম্যাগাজিনও নাই বললেই চলে৷ ডিজিটাল আইনের কারণে এটা হয়েছে৷ এই আইনটি রাখতে হলে ভাবমূর্তি সংক্রান্ত সব ধারা বাদ দিতে হবে৷ আর জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, সাইবার অপরাধের প্রতিকার আগের আইসিটি আইনেই আছে৷ আর জিজিটাল আইনে ৫৪ ধারার যত খারাপ দিক আছে তার সবই যুক্ত করা হয়েছে৷

সরকারের কোনো মন্ত্রী বা প্রভাশালী ব্যক্তির সমালোচনা করায় এখন রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হচ্ছে৷ ডিজিটাল আইনে মামলায় রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে৷ কিশোর-মুশতাকদের বিরুদ্ধে মামলায়ও রাষ্ট্রদ্রোহ ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের কথা বলা হয়েছে৷ ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘‘সরকার বা সরকারের কোনো ব্যক্তির সমালোচনা কখনোই রাষ্ট্রদ্রোহ নয়৷ সরকারে সমালোচনা করা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ নয়৷’’

তিনি বলেন পেনাল কোডের ১২৪(ক) ধারায় রাষ্ট্রদ্রোহের বিষয়টি আছে৷ সেখানে যা বলা হয়েছে তা এই আইনের প্রয়োগকারীরা বুঝতে পারছেন না৷  এখন ভাবমূর্তি ধরে যদি রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হয় তাহলে কী বলার আছে?

পুরো বৃটিশ আমলেও ১০০টির বেশি রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়নি বলে তিনি জানান৷ আর এখন কথায় কথায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ করা হচ্ছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়