‘জেরুসালেমে জার্মানির দূতাবাস, তবে দুই রাষ্ট্রের′ | বিশ্ব | DW | 01.02.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি-ইসরায়েল

‘জেরুসালেমে জার্মানির দূতাবাস, তবে দুই রাষ্ট্রের'

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মার্কিন দূতাবাস জেরুসালেমে স্থানান্তরের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷ জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, তাঁর দেশও একই সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত৷ তবে সেই জেরুসালেম হবে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের যৌথ রাজধানী৷

জার্মানির বিদায়ী পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গাব্রিয়েল ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত সম্পর্ক যে একেবারেই মধুর নয়, তা কারো অজানা নয়৷ গত বছর গাব্রিয়েল-এর ইসরায়েল সফরে নেতানিয়াহু তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেই অস্বীকার করেছিলেন৷ গাব্রিয়েল ইসরায়েলের বর্তমান সরকারের বিরোধী কিছু গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করায় তাঁর এই গোঁসা৷

এবার অবশ্য সে রকম কোনো অঘটন ঘটেনি৷ নেতানিয়াহু গাব্রিয়েল-কে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন৷ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে দুই নেতার আলোচনা হয়েছে৷ তবে এই প্রশ্নে দুই দেশের চরম মতপার্থক্যও স্পষ্ট হয়ে গেছে৷ নেতানিয়াহু কার্যত দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানসূত্র থেকে অনেকটা সরে এসেছেন৷ তাঁর দাবি, যে কোনো ভবিষ্যৎ সমঝোতার আওতায় ইসরায়েল ফিলিস্তিনি এলাকার সীমান্তে সামরিক নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখবে৷ এছাড়া নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনেক বিষয়েও ইসরায়েল সিদ্ধান্ত নেবে৷ অর্থাৎ ফিলিস্তিনি এলাকা পুরোপুরি সার্বভৌম হতে পারবে না৷

অন্যদিকে জার্মানি ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রতি স্থায়ী অঙ্গীকারের পাশাপাশি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের প্রতি সমর্থনে অবিচল রয়েছে৷ ১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সমঝোতার আওতায় জেরুসালেম শহরের উপর দুই পক্ষেরই অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে, জার্মানি এমনটাই ধরে নিচ্ছে৷ সে ক্ষেত্রে সেই শহরে দুই রাষ্ট্রের জন্যই জার্মান দূতাবাস প্রতিষ্ঠা করা হবে – বলেন গাব্রিয়েল৷ অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্যের প্রশ্নে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে জার্মানি তথা ইউরোপের মতপার্থক্যও আবার স্পষ্ট করে দিলেন তিনি৷

ইসরায়েল সফরে এসে গাব্রিয়েল তাঁর স্বভাবসিদ্ধ তীর্যক ভাষায় বললেন, ইসরায়েলের সরকার যে এখনো দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানসূত্রের উল্লেখ করছেন, তাতে তিনি সন্তুষ্ট৷ ভবিষ্যৎ সমাধানসূত্র নিয়ে বর্তমানে যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে, তার ফলে ইউরোপে নৈরাশ্য দেখা যাচ্ছে৷

এই প্রসঙ্গে গাব্রিয়েল ইউরোপে ইসরায়েলের বর্তমান ভাবমূর্তির কথাও মনে করিয়ে দেন৷ তেল আভিভ শহরে এক ভাষণে ইসরায়েলের বর্তমান সরকারি নীতির পরিণামের উল্লেখ করেন৷ তাঁর মতে, ইউরোপের অনেক মানুষ ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলের আচরণকে গ্রহণযোগ্য মনে করেন না৷ সেই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের সরকারের প্রতি সমর্থনের কারণ ব্যাখ্যা করা কঠিন হয়ে উঠছে৷ গাব্রিয়েল বলেন, ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহযোগী হিসেবে ইসরায়েলকে স্পষ্ট করে দিতে হবে, যে সে দেশ এখনো দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানসূত্রের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ কিনা৷

রামাল্লাহ শহরে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনার পরিবেশ ছিল অনেক বেশি অনুকূল৷ গাব্রিয়েল আব্বাস ও ফিলিস্তিনিদের সম্পর্কে বলেন, তারা যে বর্তমান প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সমঝোতার জন্য প্রস্তুত, তা সত্যি প্রশংসার যোগ্য৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন