জেনেটিক্যালি মডিফাইড খাবার জোর করে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে | আলাপ | DW | 05.09.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সাক্ষাৎকার

জেনেটিক্যালি মডিফাইড খাবার জোর করে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে

জেনেটিক্যালি মডিফাইড খাবার নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই৷ কিছু দেশ অনুমোদন দিলেও অনেকেই এর বিরোধিতা করছে৷ এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান কী? উত্তর দিচ্ছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি ‘বেলা'-র প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান৷

ডয়চে ভেলে: জেনেটিক্যালি মডিফাইড পদ্ধতিতে খাদ্য উৎপাদন কেমন?

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান: জেনেটিক্যালি মডিফাইড খাবারের ব্যাপারে বিশ্বে খুবই বিতর্ক রয়েছে৷ বিতর্ক এ কারণে যে, জেনেটিক্যালি মডিফাইড খাদ্য মানবদেহে কী ধরনের ক্ষতি করতে পারে, সে সম্পর্কে আমরা এখনও অবগত না৷ একটা জিন আরেকটার মধ্যে ঢুকে কখন, কীভাবে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে, তা আমরা জানি না৷ জেনেটিক্যালি মডিফাইড খাদ্য নিয়ে বিশ্বে যে বিতর্ক রয়েছে, তার কারণ বেশিরভাগ বিজ্ঞানীই এটাকে নেতিবাচকভাবে দেখেন৷

বিজ্ঞান ও গবেষণা  এই পদ্ধতি সম্পর্কে কী বলছে?

বিজ্ঞানীরা এক্ষেত্রে বিভক্ত৷ যেসব কোম্পানি অ্যাগ্রোকেমিক্যাল প্রোডাক্ট তৈরি করে, তাদের সঙ্গে যেসব বিজ্ঞানী কাজ করেন, তাঁরা বলেন জেনেটিক্যালি মডিফাইড খাবার একেবারেই নিরাপদ৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জেনেটিক্যালি মডিফাইড খাবার আর ননজেনেটিক্যালি মডিফাইড খাবারের কোনো তফাৎ করে না৷ কিন্তু ইউরোপে জেনেটিক্যালি মডিফাইড ফুড এবং ফিড অনেকদিন ধরে নিষিদ্ধ ছিল৷ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে আফ্রিকা এবং আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত, শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্তানও জেনেটিক্যালি মডিফাইড খাবারের ব্যাপারে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে৷ তারা বলছে, যতক্ষণ না বিজ্ঞান এটাকে একেবারে নিরাপদ বলছে, ততক্ষণ এটার অনুমতি দেওয়া যাবে না৷

এই পদ্ধতিতে তৈরি খাবার খেলে মূলত কী ধরনের রোগ হতে পারে?

যখন ইউরোপে ম্যাডকাউ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়, তখন বলা হচ্ছিল, আক্রান্ত গরুগুলো জেনেটিক্যালি মডিফাইড খাবার খেয়েছে৷ তারা নাকি পাগলামি করছিল৷ আর যে গরুগুলো আক্রান্ত হয়নি বা পাগলামি করছিল না, সেগুলো জেনেটিক্যালি মডিফাইড খাবার খায়নি৷ এই দু'ধরনের গরুর মধ্যে একটাই পার্থক্য ছিল – খাদ্যাভ্যাস৷ এই গরুগুলোর এক ধরনের প্রদাহ এবং প্রজনন ক্ষমতায় এর প্রভাব পড়ার কথাও বলা হয়েছিল৷

আপনি এই পদ্ধতিতে খাবারের পক্ষে, না বিপক্ষে?

আমি অবশ্যই এই পদ্ধতির খাবারের বিরুদ্ধে৷

তার কারণ কী?

কারণ হচ্ছে, এই পদ্ধতির বিরুদ্ধে যুক্তিগুলো৷ এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে ফসল একটা বা দু'টো পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়৷ যেমন বেগুনের কথাই বলি – আমি কেন এই বেগুন খাবো না? কারণ এই বেগুনের মধ্যে যে জিনটা দেওয়া হয়েছে, সেটা ন্যাচারাল জিন না৷ ফলে এই জিনের কারণে ঐ বেগুন পরবর্তীতে কী ধরনের পরাগায়নে ভূমিকা রাখবে, সেটা আমরা জানি না৷ এই বেগুনটা যখন আমি খাবো, তখন আমার শরীরে সেটা কী ধরনের প্রভাব ফেলবে সেটাও আমি জানি না৷

আমাদের দেশে কি জেনেটিক্যালি মডিফাইড খাবার উৎপাদন হয়?

আমাদের দেশে সরকার গত তিন বছর ধরে জেনেটিক্যালি মডিফাইড পদ্ধতিতে একটি বেগুনের বাণিজ্যিক চাষাবাদের অনুমতি দিয়েছে৷ বাংলাদেশ, ভারত ও ফিলিপাইন্স যৌথভাবে গবেষণা করেছে৷ ভারত ও ফিলিপাইন্স এটা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেছে৷ এটা মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয় – এটা প্রমাণ করতে যে পরিমাণ গবেষণা হওয়া দরকার, সেটা করা হয়নি৷ এছাড়া যে সমস্ত দেশ তাদের গবেষণার ভিত্তিতে এটা বাতিল করেছে, বাংলাদেশ সেই সমস্ত দেশের গবেষণার সারপত্রের উপর ভিত্তি করেই এটার অনুমোদন দিচ্ছে৷ ফলে এখন বাংলাদেশে জেনেটিক্যালি মডিফাইড বেগুনের চাষ হচ্ছে বলে সরকার দাবি করলেও আমি খুব একটা দেখিনি৷ সরকার প্রথম দফায় ২০ জন কৃষককে অনুমোদন দিয়েছে৷ এর মধ্যে ১৮ জন কৃষক মার খেয়েছে৷ এরপর সরকার ঘটা করে ১০০ জনকে দিয়েছে৷ তারও পরের দফায় সরকার দাবি করেছে যে, ১ হাজার জনকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে৷ কিন্তু চারা নিয়ে গিয়ে কৃষকরা চাষাবাদ করছেন কিনা, তা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে৷

অডিও শুনুন 09:18
এখন লাইভ
09:18 মিনিট

’সরকার অত্যন্ত ভ্রান্ত একটা অবস্থান নিয়েছে জেনেটিক্যালি মডিফাইড খাদ্যের ব্যাপারে’

আমাদের যে বিচি বেগুনের চাষাবাদ শুরু হয়েছে, সেটার রেজাল্ট কী?

প্রথম দু'বছর আমরা মনিটরিং করেছি৷ তখন সংখ্যা ছিল ২০ জন এবং ১০০ জন৷ প্রথম দফার ২০ জনের ১৮ জনই মার খেয়েছে৷ একজন বলেছেন তাঁর ভালো ফলন হয়েছে৷ তবে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার কারণে তিনি ভালোভাবে বিক্রি করতে পারেননি৷ তারপরের ১০০ জনের অধিকাংশই বলেছেন যে, তাঁরা সরকারের কাছ থেকে চারা নিলেও চাষাবাদ করেননি৷ এরপর সরকার যে ১ হাজারের কাছে চারা দিয়েছে তাঁদের তালিকা আমরা চেয়েছি৷ কিন্তু সরকার আমাদের সেই তালিকা দেয়নি৷ এ থেকে আমি এই সিদ্ধান্তে এসেছি যে, সরকার মুখে বলছে এর চাষাবাদ হচ্ছে৷ কিন্তু আমাদের কাছে যে তথ্য, তাতে এর বাণিজ্যিক কোনো চাষাবাদ হচ্ছে না৷

এই বেগুন নিয়ে আপনারা কি কোনো গবেষণা করেছেন?

এটা করা তো আর আমাদের কাজ নয়৷ তবে আমরা জেনেছি, যে মিটিং থেকে সরকার এই বিচি বেগুনের অনুমোদন দিয়েছে, সেই মিটিংয়ে বসেই অনেক সরকারি কর্মকর্তা এর প্রতিবাদ করেছেন৷ কৃষি মন্ত্রণালয় গায়ের জোরেই এই প্রস্তাবটি পাশ করিয়ে নিয়েছে৷ আমাদের আগে ভারত ও ফিলিপাইন্সে এটা নিয়ে গবেষণা হয়েছে৷ তারা তো বলেই দিয়েছে যে, এটা নিয়ে যে পরিমাণ গবেষণা হওয়া দরকার সেটা হয়নি৷

বাংলাদেশের কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বারি-র সঙ্গে জেনেটিক্যালি মডিফাইড জায়ান্ট কোম্পানি মনসান্টোর চুক্তিটা কতটা যুক্তিসঙ্গত?

এটা একেবারেই যুক্তিযুক্ত নয়৷ আপনি যদি জীববৈচিত্র সংক্রান্ত আইনটা পড়েন, তাহলে দেখতে পাবেন যে, আপনি যদি কমিউনিটির মানুষকে কাজে লাগান, তাহলে তাঁদের সবাইকে বিষয়টা আগে জানাতে হবে৷ তাঁদের মতামত নেবেন৷ সরকারের একটা মেকানিজম থাকতে হয়৷ আমাদের তো চার প্রজাতির বেগুনের মধ্যে এটা ঢোকানো হয়েছে৷ কনভেনশন অফ বায়োলজিক্যাল ডাইভার্সিটির (সিবিডি) মধ্যে একটা মোডারিটি সরকারকে ঠিক করতে হয়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

কোনো দেশ বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ নিতে চাইলে আবেদন করবে৷ এর কোনো কিছুই করা হয়নি৷ ফলে এর অনুমোদনটাই আমার বিবেচনায় অবৈধ৷ সিবিডিতে আরো বলা হয়েছে যে, আমার বেগুন নিয়ে যদি কেউ গবেষণা করে এবং সেটার যদি বাণিজ্যিক চাষাবাদ হয়, তাহলে লাভের অংশ ভাগাভাগি করা হবে৷ চুক্তির সবচেয়ে খারাপ দিক হলো এই জিনটার মালিকানা দাবি করে মনসান্টো৷ আপনার বেগুনটার মধ্যে যখন মনসান্টোর জিন ঢুকে যায়, তখন এর মালিকানা কিন্তু আর আপনার না৷ তখন এটার মালিকানা মনসান্টো দাবি করতে পারে৷

এটা নিয়ে এই মুহূর্তে তাহলে বাংলাদেশের অবস্থান কী?

বাংলাদেশের এই মুহূর্তে অবস্থান হলো, তারা জেনেটিক্যালি মডিফাইড ধান আনবে, আলু আনবে৷ আর বেগুন তো চালু করেছেই৷ আমাদের সরকার এই মুহূর্তে অত্যন্ত ভ্রান্ত একটা অবস্থান নিয়েছে জেনেটিক্যালি মডিফাইড খাদ্যের ব্যাপারে৷ সরকার যেটা করছে তা প্রতিবেশী দেশ থেকে বারবার প্রত্যাখান করা হয়েছে৷ এটা জনগণের সঙ্গে আলোচনা না করেই করা হয়েছে৷ আমি এর তীব্র বিরোধিতা করি৷ এর কোনো যৌক্তিক ভিত্তি আছে বলে আমি মনে করি না৷ আপনি যদি কাটাহেনা প্রটোকল দেখেন, তাহলে দেখবেন যে সেখানে জেনেটিক্যালি মডিফাইড খাবারের লেভেলিংয়ের বিধান রাখা হয়েছে৷ আমাদের সরকারের আইনেও লেভেলিংয়ের বিধান রাখা হয়েছে৷ এটা আইনগতভাবেও সমর্থনযোগ্য না৷ শেষ কথা হলো – সরকার আমাদের কী খাওয়াচ্ছে সেটাও আমাদের জানানো হচ্ছে না৷

আপনার কিছু বলার থাকলে লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন