জেএনইউ-‌তে বামেদের বিজয় কেতন | বিশ্ব | DW | 11.09.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

জেএনইউ-‌তে বামেদের বিজয় কেতন

জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জয়ী বামপন্থী ছাত্র জোটের প্রার্থীরাই৷ সমগ্র ভারতে বামপন্থীরা যখন প্রায় নিশ্চিহ্ন, তখন রাজধানী দিল্লির বুকে লাল ঝান্ডার জয় বামপন্থীদের উৎসাহ জোগাচ্ছে৷

গেরুয়া শিবিরকে ধরাশায়ী করার লড়াইয়ে এগিয়ে এক বঙ্গতনয়া৷

জেএনইউ-‌এর ‘‌সেন্ট্রাল প্যানেল’‌এবং ‘‌কাউন্সিলর্স অফ স্কুলস’‌‌এ বাম ছাত্র জোটেরই জয়জয়কার৷ আদালতের নির্দেশে ফল ঘোষণা স্থগিত রয়েছে৷ তবে, ফল বেরোলেই সভানেত্রী হবেন এসএফআই নেত্রী ঐশী ঘোষ৷ সহ-‌সভাপতি ডিএসএফ নেতা সাকেত মুন৷ সাধারণ সম্পাদক আইসা নেতা সতীশচন্দ্র যাদব এবং যুগ্ম সম্পাদক এআইএসএফ নেতা মহম্মদ দানিশ৷ কেন্দ্রে বিজেপি সরকার৷ বেশিরভাগ রাজ্যে বিজেপি ও তাদের সহযোগী দলের সরকার৷ অপপ্রচার, পুলিশ, প্রশাসন, অর্থবল, পেশিশক্তি সবই যখন বিরোদীদের দখলে তখন কোন জাদুমন্ত্রে জয় ছিনিয়ে আনলেন বাম জোটের ছাত্রছাত্রীরা?‌

অডিও শুনুন 03:25

‘নিবিড় ও নিরবচ্ছিন্ন জনসংযোগই বিপুল জয়ের মূল চাবিকাঠি’

‘‌‘‌‌বামপন্থার মূল সূত্রেই জয়ের ধারা অটুট রেখেছে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়৷ নিবিড় ও নিরবচ্ছিন্ন জনসংযোগই বিপুল জয়ের মূল চাবিকাঠি৷’‌’‌— বলছিলেন প্রবল গেরুয়া ঝড় ও রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করে দিল্লির বুকে লালঝান্ডা ওড়ানোর অন্যতম কারিগর বঙ্গতনয়া ঐশী ঘোষ৷ তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংগঠনের পরবর্তী সভানেত্রী৷ 

ডয়চে ভেলেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঐশী বলছিলেন, ‘‘‌রাজনীতিতে নিবিড় ও নিরবচ্ছিন্ন জনসংযোগের কোনও বিকল্প নেই৷ যে কোনও নির্বাচনে মানুষ কাছের প্রার্থীকেই বেছে নেয়৷ জেএনইউ-‌য়ে ঠিক তাই হয়েছে৷ নিয়মিত সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের পাশে থেকে তাঁদের দাবিদাওয়া নিয়ে লড়াই করেছি আমরা৷ তাই সবার অজান্তেই হয়ত তাঁদের ভরসা হয়ে উঠেছি৷ তবে, জয়ের পর দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়৷ একই ভাবে লড়াই, আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে৷’‌’

ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনা শেষ হয়েছে৷ আদালতের নির্দেশে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি৷ নির্বাচন কমিটির চেয়ারপার্সন শশাঙ্ক প্যাটেল মুখবন্ধ খামে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ফলাফল জমা দিয়েছেন৷  নরেন্দ্র মোদী সরকার জেএনইউ-‌কে ‘‌টুকড়ে টুকড়ে গ্যাঙ’‌-‌এর আখাড়া আখ্যা দিলেও ঐশী, দানিশ, সাকেত, সতীশরা লড়াইয়ের জমি ছাড়তে নারাজ৷ বরং মাটি কামড়ে ধরেছেন আরও জোরে৷ সরকারি ক্ষমতা, পেশি শক্তি এবং অর্থবলের সঙ্গে লড়াইয়ে জেতার পরেও লড়াইয়ের পথেই চলতে চাইছেন৷

অডিও শুনুন 01:37

‘ষড়যন্ত্রকারীদের মুখে ঝামা ঘষে দিয়েছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ও তরুণ প্রজন্ম’

জেএনইউ-‌এর প্রাক্তন ছাত্র কানহাইয়া কুমার বেশ জনপ্রিয় ও সুবক্তা৷ মোদি সরকারের কঠোর সমালোচক৷ মূলস্রোতের রাজনীতিতে কানহাইয়া নিজের জায়গা করে নিয়েছেন৷ ঐশীকে অনেকেই কানহাইয়ার উত্তরসূরি বলতে শুরু করেছেন৷

সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, ‘‌‘‌দক্ষিণপন্থার যে উত্থান এবং তার প্রভাব শিক্ষা থেকে রাজনীতি এমনকী অর্থনীতিতে পড়েছে৷ এর বিরুদ্ধে শুধুমাত্র বামপন্থীরাই যে একমাত্র আদর্শগত লড়াই করতে পারে সেটা বিজেপি ও তাদের মাতৃ সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ ভালোই জানে৷ বামপন্থীরা শিক্ষা, ইতিহাস, সংস্কৃতি, যুক্তিতর্কের সাহায্যে গণতান্ত্রিক উপায়ে লড়াই করলেও দক্ষিণপন্থীরা তা ভেস্তে দিতে পেশিশক্তি ও অর্থবল প্রয়োগ করে৷ শুরুতেই শিক্ষার ওপর হামলা৷ নানাভাবে বদনাম করা, ছাত্র নেতা-‌নেত্রীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো, গজেলে ঢোকানো, শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করা সব চেষ্টাই হয়েছে৷ তা সত্ত্বেও ষড়যন্ত্রকারীদের মুখে ঝামা ঘষে দিয়েছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ও তরুণ প্রজন্ম৷’‌’


দেশজুড়ে লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচনে বামপন্থীদের পরাজয় নিয়ে খানিক চিন্তিত পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুরের রোগা-‌পাতলা মেয়েটি৷ একদা পশ্চিমবঙ্গ ছিল বাম দুর্গ৷ সেই পশ্চিমবঙ্গের মেয়ে ঐশীর আশা, আবার ঘুরে দাঁড়াবে বামেরা৷ তাঁর কথায়, ‘‌‘‌জেএনইউ-এ বাম ছাত্র জোটের জয়টা প্রতীকী৷ সারা ভারতে বামপন্থীদের মানুষের মনে নতুন করে জয়ের আশা সঞ্চার হবে৷

আসলে ‌জনসংযোগে ঘাটতি ঘটলেই ফাঁক-‌ফোকর গলে ঢোকার সুযোগ নেয় নীতি, আদর্শহীন বিরোধীরা৷ তাই বামপন্থী আন্দোলনের মূল সূত্রটি মেনে চলা উচিত সব ক্ষেত্রেই৷’‌’‌কিন্তু, সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা অবধি কি নিয়ে আলোচনা?‌কীসের আন্দোলন?‌ঐশীর জবাব, ‘‘‌‌ছাত্রছাত্রীদের সমস্যা নিয়েই আলোচনা৷ তাছাড়া দেশ কোন পথে চলেছে, কীভাবে দেশের ইতিহাস পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে, শাসক দলের ইচ্ছেমতো কীভাবে বদলে যাচ্ছে দেশপ্রেমের সংজ্ঞা, এইসব খোলাখুলি আলোচনা করেছি আমরা৷’’‌‌
প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদকে তৃতীয় স্থানে নামিয়ে দিয়েছেন বাম ছাত্র জোটের প্রার্থীরা৷‌

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন