জুলিয়ান আসাঞ্জ গ্রেপ্তার | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 11.04.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

যুক্তরাজ্য

জুলিয়ান আসাঞ্জ গ্রেপ্তার

দীর্ঘ ৭ বছর লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে অবস্থান নেওয়া উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান আসাঞ্জকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ৷

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে লন্ডন পুলিশ জানিয়েছে, ২০১২ সালের একটি পরোয়ানায় আসাঞ্জকে আটক করে মধ্য লন্ডনের একটি পুলিশ স্টেশনে নেওয়া হয়েছে৷ যত দ্রুত সম্ভব তাঁকে ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হবে৷

উইকিলিকসের মাধ্যমে বহু গোপনীয় নথি ফাঁস করার কারণে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে আসাঞ্জের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল৷ গ্রেপ্তার আতঙ্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠানোর ভয়ে ২০১২ সালের আগস্ট থেকে লন্ডনে ইকুয়েডর দূতাবাসে অবস্থান নেন তিনি৷

এরপর ইকুয়েডর সরকার আসাঞ্জের রাজনৈতিক আশ্রয় মঞ্জুর করলে সেখানেই অবস্থান করছিলেন তিনি৷ বৃহস্পতিবার ইকুয়েডর কর্তৃক ওই রাজনৈতিক আশ্রয় বাতিলের সিদ্ধান্তে আসার পর গ্রেপ্তারের পদক্ষেপ নিল লন্ডন পুলিশ৷ 

‘বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনভেনশন এবং দৈনন্দিন প্রটোকল লঙ্ঘনের’ কারণে তাঁর অ্যাসাইলাম বাতিলের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনো৷

তবে বর্তমান প্রেসিডেন্টের এমন সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরেয়া, যাঁর সময়ে আসাঞ্জকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল৷ 

মোরেনোকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসাবে অভিহিত করে এক টুইটে কোরেয়া লিখেছেন, ‘‘ইকুয়েডর ও লাতিন আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতক লেনিন মোরেনো আমাদের দূতাবাসে আসাঞ্জকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ ঢুকতে দিয়েছে৷ মোরেনো একজন দুর্নীতিবাজ, কিন্তু তিনি যে অপরাধ এবার করলেন, মানবতা সেটি কখনো ভুলবে না৷’’

আসাঞ্জের গ্রেপ্তারের জন্য সিআইএ-র মতো শক্তিশালী সংস্থাগুলোকে দায়ী করেছে উইকিলিকস৷ আসাঞ্জের ছবি দিয়ে করা এক টুইটে প্রতিষ্ঠানটি লিখেছে, ‘‘এই মানুষটি একজন সন্তান, একজন পিতা ও একজন ভাই৷ সাংবাদিকতার কয়েক ডজন পুরস্কার জিতেছেন৷ ২০১০ সালে মনোনীত হয়েছিলেন নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য৷ সিআইএ-র মতো ক্ষমতাশালীরা এই মানুষটিকে অমানবিকীকরণ, অবৈধ বানানো এবং জেলে ঢুকাতে সুচারু সব কাজ করেছে৷’’

ঘটনার পরপর এক টুইটে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট লিখেছেন, ‘‘জুলিয়ান আসাঞ্জ হিরো নন, আর কেউই আইনের উর্ধ্বে নয়৷ তিনি কয়েক বছর ধরে সত্য থেকে লুকিয়ে ছিলেন৷’’ 

রাজনৈতিক আশ্রয় বাতিল করে আসাঞ্জকে গ্রেপ্তারের সুযোগ দেওয়ায় ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট মোরেনো এবং সেদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ দেন হান্ট৷

এদিকে আসাঞ্জের গ্রেপ্তারকে ‘গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা বিরোধী’ অভিহিত করে ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া৷ এক ফেসবুক বার্তায় দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, ‘‘গণতন্ত্রের হাত গণতন্ত্রকে রুদ্ধ করছে৷’’

যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠানো হবে আসাঞ্জকে

যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠানোর পাশাপাশি জামিনের শর্ত ভঙ্গ করার অভিযোগে আসাঞ্জকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে লন্ডন পুলিশ৷

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড জানিয়েছে, পুলিশ স্টেশনে আনার পর যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আসাঞ্জকে৷ বহিঃসমর্পণ আইনের ৭৩ নম্বর ধারায় এই গ্রেপ্তার বলে জানিয়েছে সংস্থাটি৷

এমবি/জেডএইচ (ডিপিএ, এএফপি, এপি, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন