জুনের শেষ পর্যন্ত ব্রেক্সিটের সময়সীমা বাড়াতে চান মে | বিশ্ব | DW | 05.04.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্রিটেন

জুনের শেষ পর্যন্ত ব্রেক্সিটের সময়সীমা বাড়াতে চান মে

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ব্রেক্সিট কার্যকর করার জন্য জুনের শেষ পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করেছেন৷ ইইউ এক বছর পর্যন্ত সেই সময়সীমা বাড়াতে চায়৷ এদিকে চুক্তিহীন ব্রেক্সিট এড়াতে সরকার ও বিরোধী পক্ষের আলোচনা চলছে৷

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে ব্রেক্সিট কার্যকর করতে আগামী জুন মাসের শেষ পর্যন্ত বাড়তি সময় চেয়েছেন৷ ইউরোপীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টুস্ক-এর কাছে তিনি এই মর্মে আবেদন পাঠিয়েছেন৷ তবে টুস্ক সেই সময়সীমা এক বছর পর্যন্ত বাড়ানোর পক্ষে৷ মে ও টুস্ক অবশ্য সম্ভব হলে নির্ধারিত তারিখের আগেই ব্রেক্সিট কার্যকর করার পথ খোলা রাখতে চান৷ তবে ইইউ সদস্য দেশগুলি এমন কোনো প্রস্তাব মেনে নেবে কিনা, তা স্পষ্ট নয়৷ কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া ব্রেক্সিটের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে এতকাল ইইউ সংশয় প্রকাশ করে এসেছে৷

ব্রেক্সিট নিয়ে অচলাবস্থা কাটাতে ব্রিটেনের সরকার বৃহস্পতিবারও বিরোধী লেবার পার্টির সঙ্গে আলোচনা চালিয়েছে৷ দ্বিতীয় দফার এই আলোচনার পর শুক্রবারও দুই পক্ষ ঐকমত্যের লক্ষ্যে সংলাপ চালিয়ে যাবে বলে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন৷ লেবার দলের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, চূড়ান্ত ব্রেক্সিট চুক্তির প্রশ্নে গণভোটের সম্ভাবনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে৷ উল্লেখ্য, ব্রেক্সিট চুক্তির পক্ষে সংসদে যথেষ্ট সমর্থন পেতে প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলের সহযোগিতা চাইছেন৷

প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে ও লেবার নেতা জেরেমি কর্বিন এমন সহযোগিতার সম্ভাবনার কারণে নিজেদের দলের একাংশের রোষের মুখে পড়েছেন৷ বিশেষ করে টোরি দলে বিদ্রোহের আশঙ্কা বেড়েই চলেছে৷ কট্টর ব্রেক্সিটপন্থিরা ‘সফট' ব্রেক্সিটের আশঙ্কায় রোষে ফেটে পড়ছে৷ তারা চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের পথে চলতে প্রধানমন্ত্রীর উপর চাপ দিচ্ছে৷ ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে সম্ভাব্য গণভোট নিয়েও তাদের ঘোর আপত্তি রয়েছে৷ অর্থমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ড এমন সম্ভাবনার পক্ষে সমর্থন জানানোয় কট্টরপন্থিরা রুষ্ট হয়েছে৷

লেবার দলের একাংশ সরকারের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করলেও ২৫ জন সংসদ সদস্য এক চিঠিতে তাদের নেতা জেরেমি কর্বিনকে ব্রেক্সিট চুক্তির স্বার্থে প্রয়োজনে বাড়তি পদক্ষেপ নেবার আবেদন জানিয়েছেন৷ তাঁদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে লেবার পার্টির দাবি পূরণ করার সুবর্ণ সুযোগ উঠে এসেছে, যা হাতছাড়া করা উচিত হবে না৷

এদিকে সংসদ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেবার উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে৷ বুধবার রাতে সংসদের নিম্ন কক্ষ এক প্রস্তাব অনুমোদন করে চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের আশঙ্কা দূর করার উদ্যোগ নিয়েছে৷ বৃহস্পতিবার উচ্চ কক্ষে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে৷ বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখে সম্ভবত সোমবার ভোটাভুটি হবে৷ প্রস্তাবটি উচ্চ কক্ষেরও অনুমোদন পেলে প্রধানমন্ত্রীকে বাধ্য হয়ে আইন করে চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের আশঙ্কা দূর করতে হবে৷

ইউরোপীয় নেতারা চুক্তিহীন ব্রেক্সিট এড়ানোর শেষ প্রচেষ্টার দিকে নজর রাখছেন৷ ব্রিটেনে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনার ফলে ব্রেক্সিট নিয়ে অচলাবস্থা কেটে যাবে বলে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল আশা প্রকাশ করেন৷ আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী লিও ভারাদকর-এর সঙ্গে আলোচনার পর ম্যার্কেল আরও বলেন, ইইউ-র বাকি ২৭টি দেশ চুক্তিহীন ব্রেক্সিট এড়াতে ঐক্যবদ্ধভাবে সব উদ্যোগ নেবে৷ আইরিশ প্রধানমন্ত্রী ধৈর্য ধরে লন্ডনের ঘটনাপ্রবাহের দিকে নজর রাখার পক্ষে সওয়াল করেন৷

এসবি/জেডএইচ (ডিপিএ, রয়টার্স)

 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন