‘জীবন বদলাতে′ ভাসানচরে যেতে রাজি রোহিঙ্গারা | বিশ্ব | DW | 24.10.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

রোহিঙ্গা সংকট

‘জীবন বদলাতে' ভাসানচরে যেতে রাজি রোহিঙ্গারা

উন্নত জীবনের আশায় কক্সবাজার থেকে নোয়াখালীর ভাসানচরে যেতে রাজি হয়েছেন কিছু রোহিঙ্গা৷ কক্সবাজারের ঘিঞ্জি শরণার্থী শিবিরে চাপ কমাতে সরকার এক লাখ শরণার্থীর জন্য নতুন এই চরটিতে আবাসস্থল তৈরি করেছে৷

স্বেচ্ছায় ভাসানচরে যেতে রাজি হয়েছেন - এমন সাড়ে তিন শতাধিক রোহিঙ্গা পরিবারের তালিকা হাতে পাওয়ার কথা ডয়চে ভেলের কাছে স্বীকার করেছেন বাংলাদেশ শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা৷ আগামী মাস থেকে তাদের সেখানে স্থানান্তর করা শুরু হতে পারে৷

টেকনাফের নয়াপাড়া ও লেদা রোহিঙ্গা শিবিরের কর্মকর্তা আবদুল হান্নান এই বিষয়ে বলেন, ‘‘ভাসানচরে যাওয়ার ব্যাপারে রোহিঙ্গাদের বেশ সম্মতি পাওয়া যাচ্ছে৷ আমার শিবির থেকে অর্ধশতাধিক পরিবার আগ্রহ প্রকাশ করেছে৷ ভাসানচরে কী কী সুবিধা আছে তা তাদের জানাচ্ছি৷ এর আগে বৈঠক করে মাঝিদের আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছি৷ এখন মাঝিরাও সাধারণ রোহিঙ্গাদের বোঝাচ্ছে৷৷''

তিনি আরও বলেন, ‘‘রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নিয়ে যেতে সরকার আগে থেকেই কাজ করছিল৷ কেউ স্বেচ্ছায় রাজি না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে এগোনো যায়নি৷ যেহেতু এবার রোহিঙ্গারা নিজে থেকেই সেখানে যেতে ইচ্ছে প্রকাশ করছে, তাই গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি৷''

কয়েকজন রোহিঙ্গা ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন যে সরকারের পক্ষে থেকে তাদের বোঝানো হচ্ছে তারা সেখানে এখানকার চেয়ে সুযোগ সুবিধা বেশি পাবে৷ আবার কেউ কেউ সেখানে নিরাপদ ভেবে চলে যাচ্ছেন৷

লেদা শরণার্থী শিবিরের মরিয়াম খাতুন ভাসানচরে যেতে নাম নিবন্ধন করেছেন৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের জীবন-তো শেষ, এখন ছেলে মেয়েদের কথা ভাবতে হবে৷ অন্তত ওদের জীবনে যাতে কষ্ট না আসে, সেজন্য চলে যাচ্ছি৷ যে কষ্ট আমরা পেয়েছি, সেই কষ্ট যেন সন্তানদের জীবনে না আসে৷''

তিনি বলেন, ‘‘ক্যাম্পে দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ক্যাম্পের মাঝি বলেছেন, সেখানে তাদের ছেলে মেয়েরা শিক্ষা, বড় বড় ঘর ও কাজের সুযোগ পাবে৷ তাই আমি পরিবারের পাচঁ সদস্য নিয়ে সেখানে যেতে রাজি হয়েছি৷’’

আরেক রোহিঙ্গা মোহাম্মদ সৈয়দ আমিন বলেন, ''ভাসানচরে বড় বড় পুকুর রয়েছে সেখানে মাছ চাষ করতে পারবো৷ পাশাপাশি হালচাষ করার সুযোগ রয়েছে বলে শুনেছি৷ তাছাড়া এখানকার ঘরগুলো খুব ছোট৷ আটজন পরিবারের সদস্যদের গাদাগাদিভাবে থাকতে সমস্যা হচ্ছে৷ ভিডিওতে দেখেছি, ভাসানচরের ঘরগুলো অনেক বড় বড়, সেখানে গেলে ঘুমাতে আর সমস্যা হবে না৷ তাই আমরা স্বেচ্ছায় সেখানে চলে যাচ্ছি৷”

Bangladesch einige Rohingya-Flüchtlinge ziehen auf Insel Bhasan Char (DW/Abdur Rahman)

রোকেয়া বেগম, রোহিঙ্গা নারী

রোকেয়া বেগম নামে আরেক রোহিঙ্গা নারী বলেন, ‘‘মিয়ানমারে স্বামীকে হারিয়ে এখানে চলে এসেছি৷ ছেলে-মেয়ে বড় হচ্ছে, তাদের জন্য খুব চিন্তা করি৷ কেন না এখানে প্রায় সময় খুনখারাপি হয়৷ ক্যাম্পগুলো পাহাড়ের তীরে হওয়ায় ডাকাতরা ধরে নিয়ে মুক্তপণ চায়, না দিলে মেরে ফেলে৷ এমন কি ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে মারধর করে লুট করে নিয়ে যায় সহায় সম্বলটুকু৷ রাত আসলে মেয়েদের চিন্তায় ঘুম আসেনা৷ কেন না এই ক্যাম্পে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে৷ তাই ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের নিয়ে যাবার খবর শুনে মাঝিকে দেখে সর্বপ্রথম আমার নাম লিখতে বলেছি৷ অন্তত সেখানে সন্তানরা নিরাপদ থাকবে৷ চিন্তামুক্ত ভালোভাবে ঘুমাতে পারবে৷ তাছাড়া শুনেছি অনেক সুযোগ-সুবিধা আছে৷ সে কারণে পরিবারের সকল সদস্যদের নিয়ে সেখানে যেতে রাজি হচ্ছি৷”

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভাসানচরে নির্মিত ঘরবাড়ি নিয়ে তৈরি ভিডিও রোহিঙ্গাদের দেখানো হয়েছে৷ সেগুলো উখিয়া-টেকনাফের ঘিঞ্জি শরণার্থী শিবিরের চেয়ে ভালো মনে করছেন তাদের কেউ কেউ৷ সেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকবে বলে জানানো হচ্ছে, যা কক্সবাজারে নেই৷ তবে, অনেক রোহিঙ্গা সেখানে বসবাসের আগে চরটি শুধু ঘুরে দেখতে চান৷ 

ভিডিও দেখুন 08:13

ভাসান চর: রোহিঙ্গাদের জন্য দুর্বল দ্বীপে সবল অবকাঠামো

এদিকে, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের পরিবর্তে ভাসানচরকে স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে দেখছে কিনা এবং তারা সেখানে গেলে প্রত্যাবাসনের বিষয়টি আরও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে কিনা এই প্রশ্নের জবাবে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মাহাবুব আলম তালুকদার বলেন, ‘‘এরকম কোনও আশঙ্কা করছি না৷ রোহিঙ্গারা তো বোঝে বাংলাদেশে তাদের স্থায়ীভাবে থাকা সম্ভব না৷ মিয়ানমারও তাদের জন্য এখন নিরাপদ হয়ে উঠছে৷ কক্সবাজার এলাকার চাপ কমানোর জন্য এবং রোহিঙ্গারা যাতে একটু ভালোভাবে থাকতে পারে, সেজন্যই তাদের ভাসানচরে নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে৷ তবে এটা স্থায়ী কোনও ব্যবস্থা নয়৷ এর জন্য প্রত্যাবাসন বাধাগ্রস্ত হবে না৷''

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে প্রথম ভাসানচরে শরণার্থীদের বসবাসের জন্য আবাসন গড়ার পরিকল্পনা করা হয়৷ সেসময় চরটিতে কোনও জনবসতি ছিল না৷ কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের চাপ কমাতে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে উন্নত সুবিধাসহ নোয়াখালীর ভাসানচরে ৪৫০ একর জমির ওপর আশ্রয় শিবির নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয় সরকার৷ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে দুই হাজার ৩১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী৷

তবে, মেঘনা নদীর মোহনায় দুই দশক আগে জেগে ওঠা চরটি এখনো বসবাসের উপযুক্ত নয় বলেও মত দিয়েছেন একাধিক বিশেষজ্ঞ৷ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে গত পাঁচ দশকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন