জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তরুণীর টিকটক | বিশ্ব | DW | 17.05.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ইউক্রেন

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তরুণীর টিকটক

ইউক্রেনের একটি আন্ডারগ্রাউন্ড বম্ব শেল্টার থেকে ভিডিও প্রকাশ করতেন ২০ বছর বয়সি এক টিকটক শিল্পী৷ সেসব ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, তাই তাকে অনুসরণ করছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ৷

Buchcover | 24. Februar... und der Himmel war nicht mehr blau | Valeria Shashenok

ইতোমধ্যে যুদ্ধ নিয়ে একটি বই লিখেছেন ভ্যালেরিয়া শাশেনক

‘ফিউচার' লেখা এক হুডি পরে জুম ক্যামেরার সামনে হাজির হন ভ্যালেরিয়া শাশেনক৷ কয়েক সপ্তাহে আগে ইটালির মিলান শহরে পৌঁছেছেন তিনি৷ বর্তমানে বাস করছেন এক ইটালীয় পরিবারের সঙ্গে৷ ইউক্রেন ছাড়ার আগ অবধি দেশটির রাশিয়া সীমান্তের কাছে অবস্থিত চার্নিহিউ শহরের এক বেসমেন্টে বাবামায়ের সঙ্গে বেশ কয়েকদিন কাটিয়েছেন তিনি৷

‘‘আমার মা ২৪ ফেব্রুয়ারি আমার রুমে এসে বলেন: ভ্যালেরিয়া! কিয়েভে বোমার আঘাতে একটি ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে!'' বলেন শাশেনক৷ তখন তিনি এবং তার বাবামা দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে জিনিসপত্র গুছিয়ে নিয়ে একটি বেসমেন্টে চলে যান৷ 

Flucht aus der Ukraine - Fotos von Valeria Shashenok

টিকটক তারকা ভ্যালেরিয়া শাশেনক

সেসময় তার বাবা একটি রেস্তরোঁ চালাচ্ছিলেন এবং বেসমেন্টটি ছিল তার অফিস৷ কিছুদিন আগেই সেটি সংষ্কার করা হয়েছিল৷ সেখানে একটি শাওয়ার এবং টয়লেটও বসানো হয়েছিল৷ শাশেনক সেই বেসমেন্টে ১৭ দিন কাটিয়েছেন৷

‘‘সেখানে থাকাটা খুব ক্লান্তিকর ব্যাপার ছিল,'' বলেন ২০ বছর বয়সি এই ইউক্রেনীয় তরুণী৷ বেসমেন্টে ওয়াইফাই এবং স্মার্টফোন পাওয়ায় নিজেকে অবশ্য ভাগ্যবান মনে করেন তিনি৷  

টিকটক এবং বাইরের বিশ্ব

শাশেনক একজন ডিজিটাল নেটিভ: তিনি জেনারেশন জেড এর সদস্য যারা কিনা ইন্সটাগ্রাম এবং টিকটকের সঙ্গে বড় হয়েছে৷ সোশ্যাল মিডিয়া ছিল তার কাছে বাইরের বিশ্ব দেখার জানালা৷ তবে, ইউক্রেন যুদ্ধ সেই বাস্তবতায় পরিবর্তন এনে দেয়৷ কারণ বিশ্ব তখন উল্টো তার কাছে জানতে চাচ্ছিল যে যুদ্ধের মাঝে তিনি কীভাবে টিকে আছেন৷ 

যুদ্ধের মাঝেই ‘‘থিংস দেট জাস্ট মেক সেন্স ইন...'' নামে একটি বাক্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ড করতে শুরু করে৷ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা তাদের নিজ নিজ শহর বা একেবারেই ঘরোয়া পরিসরের সঙ্গে সম্পর্কিত অস্বাভাবিক বিষয়াদি এই ট্রেন্ডে তুলে ধরছিলেন৷ শাশেনকও সেই ট্রেন্ডে যোগ দেন এবং বাংকারে তার জীবনের নানা দিক তুলে ধরতে শুরু করেন৷ 

ভিডিও দেখুন 01:48

রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের ময়দানে মা-মেয়ে

নিজের তীক্ষ্ণ বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে তিনি এমন সব বিষয় প্রকাশ করতে শুরু করেন যা শুধু একটি বম্ব শেল্টারেই অর্থ বহন করে৷ যেমন হট-এয়ার গান ব্যবহার করে চুল শুকানো, আন্ডারগ্রাউন্ডে ব্রেকফাস্ট কেমন হয় কিংবা স্টোভ ছাড়াই কটেজ চীজের প্যানকেক বানানোর উপায়৷ এসব ভিডিও দ্রুতই ভাইরাল হতে শুরু করে এবং ২০ বছরের তরুণীর অনুসারীর সংখ্যা দ্রুত ১০ লাখ ছাড়িয়ে যায়৷ তার একটি ভিডিও পাঁচ কোটি বার প্রদর্শিত হয়েছে৷

শেল্টার থেকে মুক্তি

টানা ১৭ দিন আন্ডারগ্রাউন্ড শেল্টারে থাকার পর এবং রুশ বাহিনী যখন হামলার পরিমান বাড়াতে শুরু করে তখন শেল্টার ছেড়ে অন্য কোথাও আশ্রয় নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন শাশেনক৷ যদিও তার বাবামা চার্নিহিউতে রয়ে গেছেন, তিনি কিছুদিন আগে ইউক্রেন থেকে পোল্যান্ড এবং জার্মানি হয়ে ইটালিতে চলে গেছেন৷ তিনি এখন সেখানে একটি পরিবারের সঙ্গে বাস করছেন৷  

তবে, শাশেনক দেশে থাকা তার বাবামা এবং আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন৷ তিনি প্রতিদিন তার বাবামায়ের সঙ্গে কথা বলেন৷ বেশি কথা বলেন তার মায়ের সঙ্গে, বাবার সঙ্গে কম৷

‘‘বাবা অনেক অস্থির৷ তার সারাদিন কিছু করার নেই৷ ফোনে আমার সঙ্গে চিৎকার চেচামেচি করেন৷ তবে সেটা আমাকে তিরষ্কার করতে নয়৷ আসলে তিনি ক্রমশ ধৈর্য হারাচ্ছেন,'' বলেন শাশেনক৷  

গত মার্চের শেষের দিকে শাশেনককে তার মা জানান যে তার এক আত্মীয় বোমার আঘাতে মারা গেছেন৷ রুশ ভাষা শিখতে শিখতে বড় হওয়া এই ইউক্রেনীয় তরুণী বলেন, ‘‘রাশিয়া আমাদের দেশে কী করছে? আমি প্রতিদিন নিজেকে এই প্রশ্নটি করি৷ পুটিন বলেন যে তিনি আমাদেরকে ইউক্রেনীয় সরকারের কাছ থেকে রক্ষা করতে চান৷ এটার মানে কী? আমাদের জীবনতো আগে চমৎকার ছিল৷ রাশিয়ার আমাদেরকে সুরক্ষা দেয়ার দরকার নেই৷''

ভবিষ্যত পরিকল্পনা

অন্য সব ইউক্রেনীয়র মতো, শাশেনকও আশা করছেন যে যুদ্ধ শীঘ্রই শেষ হয়ে যাবে৷ আর তখন দেশে ফিরে যেতে চান তিনি৷

‘‘আমি আমার দেশকে মিস করছি৷ যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলে ফিরে যাবো,'' বলেন এই টিকটক তারকা৷

চলতি সপ্তাহে শাশেনক একটি রিডিং ট্যুরে আছেন৷ তার বই ‘‘ভিয়াউন্ডশোয়ান্সিশ ফেব্রুয়ার: উন্ড ডেয়ার হিমেল ভার নিখশ্ট মেয়ার ব্লাও'' (ফেব্রুয়ারি ২৪: এবং আকাশ আর নীল ছিল না) সম্প্রতি জার্মান ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে৷ রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর নিজের অভিজ্ঞতা এবং সে সম্পর্কিত বিভিন্ন ছবি দিয়ে বইটি সাজিয়েছেন তিনি৷  

‘‘আমি এই বইটি এই আশায় রুশদের উৎসর্গ করছি যেনো তারা বুঝতে পারে যে তারা আমাদের সঙ্গে কী করেছে,'' বলেন তিনি৷

তবে, রুশরা আদৌ বুঝবে কিনা তা নিয়ে শাশেনকের নিজেরই সন্দেহ আছে৷ কিছু মানুষ বুঝতে চায় না, আর কিছু মানুষ ভয়ে যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলছে না বলে মনে করেন তিনি৷ তাসত্ত্বেও নিজের সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে চান ভ্যালেরিয়া শাশেনক৷ টিকটক এবং ইন্সটাগ্রামে নিজের জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে চার্নিহিউ শহরে কাজ করা একটি সাহায্য সংস্থার জন্য অর্থ সংগ্রহ করছেন তিনি৷ ভবিষ্যতে নিজের শহর পুর্নগঠনেও কাজ করবেন এই তরুণী৷

প্রতিবেদন: রাইনা ব্রইয়ার / এআই

সংশ্লিষ্ট বিষয়