জীবনযাত্রার ব্যয়ের লাগাম কে ধরবে? | বাংলাদেশ | DW | 25.03.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ব্লগ

জীবনযাত্রার ব্যয়ের লাগাম কে ধরবে?

বাসায় আমাকে বাজার করতে হয় না, তাই অনেক ধরনের বিড়ম্বনার মুখেও পড়তে হয় না৷ মধ্যবিত্তের মেজাজ নাকি সবচেয়ে বেশি খারাপ হয় বাজারে গেলে, তা থেকে আমি বেঁচে গেছি৷ তবে জীবনযাত্রার ব্যয়ের কথা ভাবলে মন খারাপ হওয়া সামলানো যায় না৷

বাসায় আমাকে বাজার করতে হয় না, তাই অনেক ধরনের বিড়ম্বনার মুখেও পড়তে হয় না৷ মধ্যবিত্তের মেজাজ নাকি সবচেয়ে বেশি খারাপ হয় বাজারে গেলে, তা থেকে আমি বেঁচে গেছি৷ তবে জীবনযাত্রার ব্যয়ের কথা ভাবলে মন খারাপ হওয়া সামলানো যায় না৷

মনে এসে ভর করে দেশ-বিদেশের নানা স্মৃতি৷ ২০১৬ সালে ব্যক্তিগত কাজে একবার কলকাতা গিয়েছিলাম৷ তখনো কলকাতার রাস্তাঘাট খুব একটা চিনি না৷ পরিকল্পনা ছিল পার্ক স্ট্রিটে থাকবো৷ একজন বন্ধু বলে দিলেন, কলকাতা বিমানবন্দরের ভেতর থেকে এসি বাসে পার্ক ট্রিটে চলে যাওয়া যাবে৷ কোনো ঝক্কি নেই৷ সেই পরিকল্পনায় ভর করে বাংলাদেশ বিমানে করে রাতে পৌঁছালাম নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এয়ারপোর্টে৷ বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট দেরি করায় কলকাতা পৌঁছে দেখি, এসি বাসের শেষ ট্রিপও বেশ আগেই বিমানবন্দর এলাকা ত্যাগ করেছে৷

ট্যাক্সিতে সম্ভবত ৬০০ টাকা ভাড়া চেয়েছিল৷ ভারতে তখন কাগজের নোট নিয়ে কাড়াকাড়ি অবস্থা৷ ৫০০-১০০০ টাকার পুরোনো নোট বাতিল করে দেয়া হয়েছে৷ বাজারে নোটের জন্য হাহাকার৷ তখন আমার কাছেও রূপির পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম ছিল৷ তাই এতগুলো টাকা ট্যাক্সিওয়ালাকে দিতে মন চাইলো না৷ নিজের সাথে তেমন কোনো লাগেজও নেই৷ তাই হেঁটেই বের হয়ে গেলাম বিমানবন্দর থেকে৷ বেরিয়ে শেয়ারড টেক্সিতে করে গেলাম দমদম রেল স্টেশনে৷ সেখান থেকে ট্রেনে শিয়ালদহ রেল স্টেশনে৷ সেখান থেকে আবার ট্রেনে পার্ক স্ট্রিট৷ এর মধ্যে ট্যাক্সিতে ২০ টাকা আর দুইবারের ট্রেনে সম্ভবত ৯ বা ১০ টাকা খরচ হয়েছে৷ কলকাতার ট্রেনে চড়া সেই শুরু৷ আমার তখন মনে হচ্ছিল, একশ টাকা নিয়ে সারাদিন ট্রেনে ঘুরেফিরে শহরে কাজ করলেও সেই টাকা শেষ করা যাবে না৷ পরে একবার বনগাঁ থেকে কলকাতা শহরে যেতে দেখি, প্রায় ৮০ কিলোমিটার ভাড়া মাত্র ২০ টাকা৷ ঢাকায় এত অল্প টাকায় ভ্রমণেরকথা ভাবাই যায় না৷ একই দূরত্বে ঢাকা থেকে ভৈরবের ভাড়া অন্তত ৮৫ টাকা৷ ট্রেনের সময় ব্যবস্থাপনার কথা এখন বাদই দিলাম৷

ঢাকা শহরে আমি একজন ভাগ্যবান বাসিন্দা৷ আমার বাসার পাশেও ট্রেন লাইন আছে৷ অফিসের পাশেও আছে৷ আমি একজন ট্রেনভক্ত মানুষও৷ কিন্তু এরপরও ট্রেনে করে অফিসে যেতে পারি না৷ কারণ, সার্ভিস নেই৷ ঘর বা অফিসের পাশে ট্রেন লাইন থাকলেও আমাকে অফিসে যেতে প্রতিদিন অন্তত ১০০ টাকা খরচ করতে হয়৷ গণপরিবহনের খারাপ অবস্থার কারণে মাঝে মাঝে যেতে হয় সিএনজি অটোতে৷ সেখানে খরচ কয়েকগুণ হয়ে যায়৷ এখানে বলে রাখি, আমি অটোতে উঠি সময়মতো বাস না পেলে৷ হ্যাঁ, মাঝে মাঝে ভিড় ঠেলে আমি উঠতে পারি না, মাঝে মাঝে আমাদের স্টেশনে আমার নির্ধারিত বাস থামেই না৷ কারণ, আগে থেকেই ভরে গেছে৷

এই যে পরিবহণ খরচের একটা দীর্ঘ গল্প বললাম, সেটা জীবনযাত্রার খরচ বোঝাতে৷ কেবল পরিবহণে নয়, সবক্ষেত্রেই আমাদের খরচ বেশি৷ এর মধ্যে পরিবহণ খরচের বিষয়টা আমরা মেনেই নিয়েছি৷ শিক্ষার্থীরা মাঝে মধ্যে হাফ ভাড়া নিয়ে কথা বলে৷ এছাড়া আর কোনো কথা নেই৷

কোভিডের আগে কলকাতায় নিউ মার্কেটের পাশে একটা রেস্টুরেন্টে মাংস দিয়ে ভাত খেয়েছিলাম৷ হাফপ্লেট ৪০ টাকা৷ এই হাফ প্লেটে যা মাংস থাকে, সেটা বাংলাদেশের বহু জায়গায় ফুল প্লেটের চেয়েও বেশি৷ কয়েকদিন আগেই কলকাতার অদূরে সীমান্তের এপারে খুলনার এক রেস্টুরেন্টে দেখলাম, একপিস মাংসের দাম দেড়শ টাকা৷  এই পিসটি কোনোভাবেই সেই হাফ প্লেট মাংসের চেয়ে বেশি নয়৷

আমরা এভাবে ঘরবাড়ির ভাড়া, কাঁচাবাজার,মাছ-মাংস প্রায় সবকিছু কলকাতার তুলনায় বেশি দাম দিয়ে কিনি৷ এটা আমাদের সয়েই গিয়েছিল৷ কিন্তু আমাদের এই সহ্য ক্ষমতায় বিধি তুষ্ট নয়৷ তাই সম্প্রতি শুরু হয়েছে সহ্য ক্ষমতাকে পরীক্ষা করার নতুন চেষ্টা৷ সব জিনিসের দাম বাড়ছে৷ সরকারের হস্তক্ষেপ কীভাবে মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে- সেটা আমি জানি না৷ বাংলাদেশে এই কাজটি করার কথা টিসিবির৷ নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্য ও শিল্পের কাঁচামাল জরুরি ভিত্তিতে জোগান দিতে এই টিসিবি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৭২ সালের  ১ জানুয়ারি৷

সংস্থাটি বলছে, আশির দশকে মুক্তবাজার অর্থনীতি বিকাশের প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ভুমিকা সীমিত হয়ে আসে৷ পরবর্তীতে মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে সরকারি উদ্যোগের অপরিহার্যতা বিবেচনা করে বর্তমান সরকার টিসিবিকে গতিশীল ও শক্তিশালী করার পদক্ষেপ গ্রহণ করে৷

তাহলে ‘শক্তিশালী’ এই টিসিবি এখন কী করছে? এখানে টিসিবির দুটো কাজ নিয়ে আলাপ করতে চাই৷ একটা হচ্ছে, ট্রাকে করে খোলা বাজারে পণ্য বিক্রি, আরেকটি হচ্ছে, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে খাদ্য বেচাকেনা

সংস্থাটি ট্রাক থেকে সয়াবিন তেল, চিনি, মশুর ডাল, পেঁয়াজ বিক্রি করে আসছে৷ রমজান উপলক্ষ্যে এখানে যুক্ত হয়েছে নতুন দুটি পণ্য৷ ছোলা ও খেজুর৷ শুক্র-শনি ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া অন্যদিনগুলোতে দেশজুড়ে সাড়ে চারশ ট্রাক পণ্য নিয়ে মাঠে থাকার কথা৷ এখানে বলে রাখি, দেশে থানার সংখ্যা এখন সাড়ে ছয়শ'র বেশি৷ তার মানে, প্রতি থানা এলাকায় প্রতিদিন একটা করে ট্রাকও থাকছে না৷

যা-ই হোক, এসব ট্রাকে সয়াবিন, চিনি, মশুর ডাল ও পেঁয়াজ বিক্রি করা হয়৷ একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ২লিটার সয়াবিন তেল, দুই কেজি চিনি, দুই কেজি মশুর ডাল, ৫ কেজি পেঁয়াজ নিতে পারবেন৷ এখানে সয়াবিন তেল লিটার ১১০ টাকা দরে, চিনি কেজি ৫৫ টাকা দরে, মশুর ডাল ৬৫ টাকা দরে এবং পেঁয়াজ ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে৷

একই সময়ে সাধারণ বাজারে সয়াবিন ১৭০টাকা, চিনি ৮০টাকা, মশুর ডাল ১০০ টাকা এবং পেঁয়াজ ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে৷ তার মানে, একবারে কেউ এসব পণ্য সর্বোচ্চ হারে পেলে তার প্রায় ৩২০টাকা সাশ্রয় হবে৷ রমজান উপলক্ষ্যে এখানে যুক্ত হচ্ছে ছোলা ও ও খেজুর৷ তাহলে এই সাশ্রয়-মার্জিন আরো বাড়বে৷

নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন বলছে, একটি গার্মেন্টসের সহকারী পদগুলোতে (যেমন সহকারী কাটারম্যান, সহকারী অপারেটর, সহকারী কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর ইত্যাদি) সব মিলিয়ে একজন ব্যক্তি মূল বেতন, চিকিৎসা, যাতায়াত খাদ্য ইত্যাদি সবকিছুসহ পাবেন ৮ হাজার টাকা৷ এখন কোনো ব্যক্তি যদি এসব পদে  চাকরি না করে প্রতিদিন একবার করে টিসিবির পণ্য কেনে তাহলেই তার বেতনের চেয়ে বেশি টাকা সশ্রয় হয়ে যাবে৷ দুইবার পণ্য পেলে তো কোনো কথাই নেই৷ অভিযোগ আছে, অনেক জায়গায় এখন এমন একদল মানুষ টিসিবির ট্রাককে ঘিরে রাখছে, যারা যতবার সম্ভব কিনতেই থাকে৷ সারাদিনই এই চেষ্টা চালিয়ে যায়৷ এই সুযোগ আমরা কেন রাখছি?

অভিযোগটি নিয়ে আমি অনেকের সাথে কথা বলেছি৷ এ নিয়ে সময় টিভির অনলাইনে একটি খবরও প্রকাশিত হয়েছে, যার শিরোনাম, ‘টিসিবির পণ্য বিক্রিতে অনিয়ম, একই ব্যক্তি কিনছে বার বার’৷

বেকার ও গৃহিণীদেরকে আমরা এই লাইনে দেখছি৷ পত্রপত্রিকায় আমরা দেখছি মধ্যবিত্তরাও সেখানে যাচ্ছেন৷ অর্থনৈতিক হিসাব বলছে, যাদের দৈনিক মজুরি ৩২০ টাকার কম, তাদের জন্য সেখানে দাঁড়ানোই লাভজনক৷ বারবার পণ্য পেলে তো কথাই নেই৷

এদের সাথে টিসিবির বিক্রয়কর্মীদের কি কোন যোগসাজশ আছে? কে দেবে এই প্রশ্নের জবাব?

গত ৮ মার্চের একটি ভিডিও সংবাদ প্রকাশ করেছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম৷ টিসিবি ভবনের সামনে টিসিবির ট্রাকের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিল সাধারণ মানুষ৷ একই জায়গায় আগের কোনো একদিন ট্রাক এলেও ওইদিন আসেনি৷ খোদ টিসিবি ভবনের সামনে কবে কবে ট্রাক দাঁড়াবে -তা সাধারণ মানুষকে জানানোর কোনো পদ্ধতি নেই? কেন থাকবে না? ওই খবর বলছে, টিসিবি অফিসে ফোন করে তথ্যটি সাধারণ মানুষকে জানিয়ে দিয়েছিলেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদক৷ কেন একজন প্রতিবেদককে ফোন করে টিসিবি অফিস থেকে জেনে তারপর মানুষকে জানাতে হবে? সব জায়গায় কি মানুষকে জানাতে এভাবে রিপোর্টার থাকবে?

আমার মনে আরো অনেক প্রশ্ন জাগে, প্রতিদিন যে কয়টি ট্রাক মাঠে থাকার কথা, ততটি কি থাকে? যে পরিমাণ মাল বিক্রি করার কথা, সে পরিমাণ মাল কি লাইনে দাঁড়ানো মানুষের কাছে বিক্রি করে? এসব বিষয়ে কোনো তথ্য আমি পাবলিকলি অ্যাভেইলেবল মাধ্যমে পাই না৷ তার মানেই এখানে দুর্নীতির সুযোগ রয়েছে৷ এ কারণেই কি টিসিবির এই ট্রাক পদ্ধতিকে কর্মকর্তারা পছন্দ করছেন?

গত ৮ মার্চ যুগান্তর একটা রিপোর্ট করেছে, যার শিরোনাম ছিল, ‘টিসিবির ট্রাক কোথায় আসবে জানে না কেউ’৷

টিসিবির ট্রাকের জন্য অপেক্ষা, ট্রাক আসে নাই-এ রকম হেডলাইনের খবরের অভাব নেই৷ মনে করেন, কোনো এক জায়গার বরাদ্দ করা মালামাল ট্রাক পরিচালকরা  একদিন অন্য কোথাও গোপনে বিক্রি করে দিলো৷ আপনি কী করবেন তখন? কিছু মাল যদি অন্য জায়গায় বিক্রি করে, সেটা ধরার উপায় কী?

এটা যে হচ্ছে, সেটা পত্রিকায় তাকালে দেখা যাবে৷ যেমন, দৈনিক আজকের পত্রিকায় গত ১৩ মার্চ একটি খবরের শিরোনাম ছিল, ‘টিসিবির সয়াবিন তেল বেশি দামে বিক্রি দোকানে’৷

ইংল্যান্ডের সাবেক প্রধান বিচারপতি লর্ড হিউয়ার্টের একটা কথা বিচার বিভাগে ব্যাপকভাবে প্রচলিত৷ Justice must not only be done, but must also be seen to be done৷ আপনি ন্যায় বিচার করছেন, সেটা বললেই হবে না, সেটা দেখাতেও হবে৷ আপনি দুর্নীতি করছেন না৷ সেটা বিশ্বাসের বিষয় না৷ সেটা দেখাও যেতে হবে৷ কাঠামোগতভাবে দুর্নীতির সুযোগ বন্ধ থাকতে হবে৷

এবার আসুন টিসিবির ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে৷ এটি অবশ্যই ট্রাকের চেয়ে অনেক ভালো ব্যবস্থা৷ এটিতে রেশন কার্ডের মতো একটা ব্যাপার আছে৷  কিন্তু এটা নিয়েও অভিযোগের অন্ত নেই৷

সময় টিভির অনলাইন সংস্করণে ২১ মার্চের একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, ঠাকুরগাঁওয়ে টিসিবির কার্ড বিতরণে অর্থ আদায়ের অভিযোগ৷ প্রথম আলোর ২৩ মার্চের প্রতিবেদনের শিরোনাম, বিনা মূল্যের কার্ডে টাকা আদায়৷ ‘মেম্বরে কয় তুই কার্ড পাবু’—শিরোনামে গাইবান্ধার একটি খবর বলছে, সহায়-সম্বলহীন এক দরিদ্র প্রতিবন্ধী পরিবার এই কার্ডের জন্য ছবি জমা দিয়েও কার্ড পায়নি, পেয়েছে চেয়ারম্যান ও মেম্বারের আত্মীয়-স্বজনরা৷

আমার নানা, এক সময় ব্রিটিশ আর্মির বেঙ্গল রেজিমেন্টে ছিলেন৷ একটা সময় তিনি রেশন পেতেন৷ তবে রেশনে পাওয়া গম তুলতে হতো দূরের এক জায়গা থেকে৷ আর বাকি জিনিসপত্র অন্য জায়গায় পাওয়া যেতো৷ দূরবর্তী স্থান বলে তিনি গম আনতে যেতেন না৷ সেই নানাও ৭২ সালের পরে কঠিন সময়ে গমও তুলতে যেতেন, সেই দূরের রেশন কেন্দ্রে৷ কেবল নিজের জন্য নয়, নিজের আশপাশের মানুষদের জন্যও৷

এখন যদিও দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি নেই, নেই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের সেই কঠিন অবস্থাও, তবে কোভিড আসার পর দরিদ্রতা বেড়েছে৷ এটা ভুললে চলবে না৷ বেড়েছে জীবনযাত্রার ব্যয়ও৷ এর মাঝে সাধারণ নিত্যভোগ্য পণ্যের দাম এভাবে বাড়লে মানুষ কোথায় যাবে?

বেসরকারি সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)-এর মতে, ২০১৮ সালে  যেখানে দারিদ্র্যের হার ২১ দশমিক ৬০ শতাংশে নেমেছিল, সেটা কোভিড আসার পর ২০২০ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে দিকে বেড়ে ৪২ শতাংশ হয়ে যায়৷ তাই যার আগে রেশনের দরকার হতো না, তারও দরকার হচ্ছে৷ কিন্তু রেশন তো কেউ চাইলেই পাবে না৷ আপাতত তাই আমরা ফ্যামিলি কার্ড নিয়েই কথা বলি৷

সুলাইমান নিলয়, সাংবাদিক

সুলাইমান নিলয়, সাংবাদিক

সরকার এই কার্ড দিয়েছে  এক কোটি পরিবারকে৷ তবে দরিদ্রদের যে হিসাব সানেম দিয়েছে, তাদের সবাইকে কভার করতে ১ কোটি ৪২ লাখ পরিবারকে এই কার্ড দেয়া উচিত৷ এটাও মনে রাখতে হবে, সানেমের দরিদ্রতার হিসাবটা বর্তমান বাজারের নাভিশ্বাস পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আগের৷

তাই এই পরিস্থিতি সামলাতে এক কোটি পরিবারকে রেশন কার্ড দিলেও সব দরিদ্রের কাছে পৌঁছানো সম্ভব না৷ সেখানে বাস্তবে দেয়া হচ্ছে টিসিবি কার্ড৷ বাস্তবে কিছু মালামাল কম দামে বিক্রি হচ্ছে ট্রাকে৷ এই স্বল্প আয়োজনেও যদি দুর্নীতি হয়, দুর্নীতির সুযোগ থাকে, তাহলে কীভাবে হবে?

গত ১৫ই মার্চ ১৪ দলের বৈঠকে সরকারের কাছে যথেষ্ট খাদ্য মজুত আছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘আলহামদুলিল্লাহ, এখনও ১৮ লাখ (টন) খাদ্য মজুত আছে আমাদের৷ সেখানে কোনো অসুবিধা নেই৷’’

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দুর্ভিক্ষ কিন্তু খাদ্য উৎপাদন বা মজুদের অভাবের কারণে সব সময় হয় না৷ বিলিবণ্টনে অব্যবস্থাপনার কারণেও হয়৷ এদিকে কি একটু নজর দেবেন? প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি বন্ধের ব্যবস্থা কি করবেন?

আর মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে কি একটু ব্যবস্থা নেবেন? কলকাতা আর কত দূরের শহর, সেখানকার তুলনায় আমাদের জীবনযাত্রার ব্যয় কেন এত বেশি থাকবে?

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়