জীবজগত রক্ষা করতে কলম্বিয়ায় অভিনব উদ্যোগ | অন্বেষণ | DW | 17.04.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

জীবজগত রক্ষা করতে কলম্বিয়ায় অভিনব উদ্যোগ

ছোট একটি এলাকার মধ্যে জীবজগতের আদর্শ পরিবেশকে বায়োটোপ বলা হয়৷ কলম্বিয়ায় এমন বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলিকে কেন্দ্র করে নানা উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে৷ সাধারণ মানুষকেও তাতে শামিল করা হচ্ছে৷

বিচ্ছিন্ন জগত

সিয়েনাগা এমন এক বায়োটোপ, যার মধ্যে উদ্ভিদ, মাছ ও অন্যান্য প্রাণীর অসাধারণ বৈচিত্র্য দেখা যায়৷ কলম্বিয়ায় প্রায় ১,৯০০ এমন ছোটবড় সিয়েনাগা রয়েছে৷ অথচ ‘সিয়েনাগা সাপাটোসা' নামের সবচেয়ে বড় বায়োটোপ হুমকির মুখে পড়েছে৷

জেলেরা টের পাচ্ছেন, যে সিয়েনাগা-য় কোনো একটা সমস্যা হচ্ছে৷ যেমন ৪৪ বছর বয়সি ওমাইদা রানখেল তাঁর সাত সন্তানের সঙ্গে বারানকোনেস দ্বীপে বসবাস করেন৷ তিনি বলেন, ‘‘আগে এখানে অনেক বেশি মাছ পাওয়া যেত৷ বিশাল আকারের মাছ৷ অনেক বেশি জীববৈচিত্র্যও ছিল৷ অনেক প্রজাতি এখানে বিলুপ্ত হয়ে গেছে৷ কমবয়সিরা অনেক প্রজাতি আর চিনতেই পারে না৷ কারণ সেগুলি উধাও হয়ে গেছে৷''

বায়োটোপের সামনে নানা চ্যালেঞ্জ

সিয়েনাগায় নানা রকম সমস্যা রয়েছে৷ তবে তার মধ্যে অনেকগুলির জন্য জঙ্গল ধ্বংস ও খরা দায়ী৷ পাম তেলের গাছ লাগাতে জঙ্গল সাফ করা হয়েছে৷ সেই গাছের অনেক পানির প্রয়োজন হয়৷ তাছাড়া গবাদি পশু পালনের জন্যও জায়গা করতে হয়েছে৷ এরপর ঘনঘন ‘এল নিনিয়ো' এসে শুষ্কতা বাড়িয়ে দিচ্ছে৷ ফলে গাছপালা ও সিয়েনাগা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে৷ প্রকৃতির ভারসাম্য পুরোপুরি লোপ পাচ্ছে৷

ভিডিও দেখুন 05:26

যেভাবে জীবজগত রক্ষা করছে কলম্বিয়া

স্থানীয় মানুষ সমস্যার সমাধান খুঁজছেন৷ মাছের অস্তিত্ব নিশ্চিত করতে অন্যান্য জেলেদের সঙ্গে ওমাইদা রানখেল এক সঙ্ঘ প্রতিষ্ঠা করেছেন৷ ছোট আকারের মাছের জাল ব্যবহার করা হচ্ছে, যার মধ্যে একবারে বেশি মাছ ধরা না পড়ে৷

এমন বায়োটোপের প্রয়োজন, যেখানে মাছেরা নির্বিঘ্নে থাকতে পারে৷ কারণ মাছেদের বৃদ্ধি হলে তবেই সবাই যথেষ্ট মাছ ধরতে পারবেন৷ ওমাইদা রানখেল বলেন, ‘‘আমরা এখানে কিছু নিয়ম বেঁধে দিয়েছি৷ কেউ এই সংরক্ষিত এলাকায় জাল ফেললে আমরা তা গুটিয়ে নেব বলে স্থির করেছি৷ কখনো আমরা সেই জাল পুড়িয়েও ফেলি৷''

মানুষকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ

বাকি অঞ্চলের মতো সিয়েনাগা-র জমিতে লা মাতা বন্দরের মানুষও জেলে হিসেবেই জীবনধারণ করেন৷ তাছাড়া বিক্রির জন্য মাছ পরিষ্কার করার লোকও রয়েছে৷ দুপুরের দিকে ১৩ জন নারী ও ৪ জন পুরুষ স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে একই লক্ষ্যে মিলিত হন৷ সিয়েনাগা বায়োটোপ ও সেইসঙ্গে নিজেদের জীবনযাত্রা অক্ষত রাখাই তাঁদের উদ্দেশ্য৷

এল দিভিদিভি নার্সারিতে স্থানীয় গাছপালার বীজ ও চারাগাছ গুছিয়ে প্রতিপালন করা হয়, যাতে ভবিষ্যতে সেগুলি কাজে লাগানো যায়৷ নার্সারির কর্মী গ্লেডিস কামাচো বলেন, ‘‘এর নাম উবিটা৷ এই উদ্ভিদের বংশবৃদ্ধি করাতে হলে সেটিকে চারাগাছ থেকে বার করতে হয়৷ পরে তার ফল রান্না করে রস হিসেবে পান করা যায়৷ সিয়েনাগাতে আমরা এর বীজ বপন করি, যাতে সেগুলি আবার ছড়িয়ে পড়ে৷'' 

গোবর, সাদা ও কালো বালু এবং কলাগাছের অবশিষ্ট অংশ থেকে থেকে এখানে সার তৈরি করা হয়৷ টিএনসি নামের সাহায্যকারী সংস্থা এই কাজে উৎসাহ দিতে এবং শ্রমের মূল্য হিসেবে স্থানীয় মানুষকে প্রত্যেকটি গাছের জন্য অর্থ দেয়৷

লুপ্তপ্রায় প্রজাতি বাঁচানোর উদ্যোগ

 সিয়েনেগা-য় মূলত ৩,৯০০ ধরনের উদ্ভিদ রয়েছে৷ কোনো একটি প্রজাতি লোপ পেলে তার পরিণতি মোটেই ইতিবাচক হয় না৷ জেলে হিসেবে মাদিস ভিলালোবোস বলেন, ‘‘বোকাচিকো নামের মাছ এখানে লোপ পেয়েছে৷ কারণ সিয়েনাগার প্রান্তে গাছের সংখ্যা কমে গিয়েছিল৷ তাই আবার বৃক্ষরোপণের মৌলিক পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, যাতে মাছেরা আবার বংশবৃদ্ধি করতে পারে৷'' 

সিয়েনাগার আরেকটি গ্রামের নাম সালোয়া৷ সেখানকার মানুষ তথাকথিত পারিবারিক বাগান গড়ে তুলে এমনকি খরার সময়ও খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করছেন৷ অনেক বাড়ির লাগোয়া জমিতে সুপরিকল্পিতভাবে ফল, শাকসবজি অথবা লতাগুল্মের গাছ লাগানো হচ্ছে৷ মাংসের জোগানের লক্ষ্যে পশুপালনের পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে৷ ডিমের জন্য হাস ও মুরগির খামারেরও প্রয়োজন৷

সামাজিক স্তরে সহযোগিতা

পারিবারিক বাগান প্রকল্পের প্রধান লিবিয়া আর্সিনিয়েগাস বলেন, ‘‘আগে এখানে বাড়িগুলির পেছনে বিশাল উঠোন থাকতো৷ কিন্তু খাদ্যের ব্যয় কমাতে মানুষ সেখানে গাছ লাগানোর কথা ভাবতেন না৷ নিজের ভিটেতে নানা রকম গাছ লাগানোর সুবিধা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে হবে, যাতে তাঁরা নিজস্ব সম্পদ কাজে লাগাতে পারেন৷''

প্রতিবেশীরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে কে কোন গাছ লাগাবেন, তা স্থির করেন৷ ফলে পরে তাঁরা আদানপ্রদান করতে পারেন৷  ফলে খাদ্যেরবৈচিত্র্য বাড়ে এবং গৃহপালিত পশুর স্বাস্থ্যও ভালো তাকে৷ পারিবারিক বাগানের কল্যাণে সিয়েনেগাবাসীরা খরার সময়েও কিছু খেতে পান৷

বছরের শুরুতে বৃষ্টিপাত কম হয়৷ গোটা অঞ্চলকে আরও শুষ্ক করে তুলতে আরও এক ‘এল নিনিয়ো' আসতে চলেছে৷ সিয়েনাগা সাপাতোসা-র জেলেদের মতে, সাম্প্রতিক কালে আরও ঘনঘন ‘এল নিনিয়ো' দেখা যাচ্ছে৷

টানিয়া ব্লুট/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন