জিন্নাহর ছবি রাখা নিয়ে বিতর্ক | বিশ্ব | DW | 08.05.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

জিন্নাহর ছবি রাখা নিয়ে বিতর্ক

উত্তর প্রদেশের আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ'র ফটো রাখা নিয়ে ধুন্ধুমারকাণ্ড৷ ছাত্রদের সঙ্গে সংঘাত বাঁধে হিন্দু যুবা বাহিনীর. পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে৷ ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়৷ 

জল গড়ায় রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত৷ বিতর্ক আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ভারতভাগ এবং পাকিস্তানের জন্মদাতা মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ'র ছবি রাখা নিয়ে৷ সংঘ পরিবারের হিন্দু যুবা বাহিনী জিন্নাহ'র ফটো সরিয়ে নেবার দাবি জানালে সংঘাত বাঁধে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সঙ্গে৷ পুলিশ লাঠি চালায়৷ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে৷ সংঘর্ষে প্রায় ২০-২২ জন ছাত্র আহত হয়৷ পরিস্থিতি যাতে নাগালের বাইরে যেতে না পারে, তারজন্য আলিগড় জেলায় সাময়িকভাবে ইন্টারনেট সার্ভিস বন্ধ রাখা হয়৷ উদ্দেশ্য, গুজব, মিথ্যা, উত্তেজক ও উস্কানিমূলক ইন্ধন যাতে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপের মতো সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে না পারে৷ আলিগড় জেলা শাসক জানিয়েছেন, এই ঘটনার ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ে তদন্ত করা হবে৷

১৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করা হবে৷ গত শুক্রবার থেকে হিন্দু যুবা বাহিনীর বিরুদ্ধে পড়ুয়ারা ১৪৩ বছরের পুরানো বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে প্রতিবাদ ও ধর্ণা শুরু করে৷ ক্লাস বয়কট করছে৷

এর জল গড়ায় রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ পর্যন্ত৷ আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সমিতি রাষ্ট্রপতির কাছে এক স্মারকলিপি দিয়ে অবিলম্বে এই ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন৷ বিজেপি সাংসদ সতীশ গৌতম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এক চিঠি দিয়ে জিন্নাহ'র ছবি রাখা নিয়ে যখন আপত্তি তোলার পর বিষয়টি নিয়ে বিবাদ-বিতর্কের সূত্রপাত হয়৷ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও মনে করেন, ভারতভাগের পেছনে যাঁর প্রধান ভূমিকা ছিল, তাঁকে শ্রদ্ধা করার কারণ থাকতে পারে না৷ পাশাপাশি রাজ্যের অপর একজন মন্ত্রী স্বামী প্রসাদ মৌর্য মনে করেন, দেশভাগের আগে পরাধীন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে জিন্নার ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না৷

অডিও শুনুন 02:50
এখন লাইভ
02:50 মিনিট

‘ভারতীয় রাজনীতিবিদ হিসেবে জিন্নাহ'র একটা বিশেষ পরিচয় আছে’

এই বিতর্কে বুদ্ধিজীবি মহল কী বলছেন? যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পার্থপ্রতীম বসু ডয়চে ভেলেকে বললেন, ‘‘জিন্নাহ'র ছবি রাখা নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আমি আপত্তির কোনো কারণ দেখি না৷ তার দুটো কারণ৷ একটা হচ্ছে ভারতীয় রাজনীতিবিদ হিসেবে  জিন্নাহ'র একটা বিশেষ পরিচয় আছে৷ ভারতের ইতিহাসকে অস্বীকার করা যায় না৷ একটা সময়ে তিনি ধর্ম ও রাজনীতিকে মেলাবার বিরুদ্ধে ছিলেন৷ সেই পর্বটা মাথায় রাখতে হবে৷ দ্বিতীয়ত, জিন্না পাকিস্তানের জনক ঠিক আছে৷ কিন্তু বিদেশি রাজনীতিবিদদের অনেককেই তো আমরা সেইভাবে দেখি৷ একটা কথা বলা দরকার, ভারত ভাগের সব দায় একা জিন্নাহ'র– এটাতে আজকালকার ঐতিহাসিকরা পুরোপুরি সম্মত না-ও হতে পারেন৷'' 

১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় জিন্নাহ'র অবস্থান প্রসঙ্গে অধ্যাপক বসু মনে করেন, ‘‘সম্ভবত, ব্রিটিশ এবং কংগ্রেসের সঙ্গে দরকষাকষির একটা কৌশল ছিল মাত্র৷ টু-নেশনস থিওরির সঙ্গে জিন্নাহকে একাত্ম করা হয়ে থাকে৷ সেকথা বলতে গেলে বিনায়ক দামোদর সাভারকারের লেখাতেও টু-নেশনস থিওরির ছাপ আছে৷'' নতুন করে ধর্মীয় মেরুকরণের জিগির কি কর্নাটকের ভোটের দিকে তাকিয়ে? উত্তরে অধ্যাপক বসুর মন্তব্য, ‘‘কর্নাটকের ভোট তো আছেই৷ উত্তর ভারতে এটা একটা রেওয়াজও বটে৷ মোট কথা, আমার কাছে এটা একটা রাজনৈতিক ইস্যু ছাড়া আর কিছুই নয়৷''

 জিন্নাহ'কে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের আজীবন সদস্যপদ দেওয়া হয়েছিল ১৯৩৮ সালে৷ সেই সুবাদে জিন্নাহর ছবিও অন্যান্য আজীবন সদস্যদের সঙ্গে বহু দশক ধরে রয়েছে৷ গত বুধবার প্রাক্তন উপ-রাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারিকে ছাত্র সংসদের আজীবন সদস্যপদ দেবার জন্য এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়৷ তার আগেই জিন্নাহর ছবি রাখা নিয়ে বিবৃতি-পাল্টা বিবৃতিতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে৷ এরই মধ্যে হিন্দু যুবা বাহিনীর হাঙ্গামা বাধালে অনুষ্ঠান বাতিল করতে হয়৷ আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নার ছবি রাখা যায় কিনা তা নিয়ে সাংসদ, বিধায়ক, রাজনৈতিক দল থেকে নিয়ে গোটা সুশীল সমাজ দ্বিধাবিভক্ত৷

 গোরখপুরের সাংসদ প্রবীণ নিশাদের মতে, মহাত্মা গান্ধী, জহরলাল নেহেরুর মতো জিন্নারও স্বাধীনতা সংগ্রামে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা আছে৷ বিষয়টাকে নিয়ে বিজেপি রাজনৈতিক জল ঘোলা করতে চাইছে৷ জাতপাত এবং ধর্মের ভিত্তিতে জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার চেষ্টা অত্যন্ত নিন্দনীয়৷ আমরা যখন ভগত সিংয়ের কথা বলি, তখন আসফাকুল্লা খান বা বীর আবদুল হামিদের নামও স্মরণ করি৷ অন্যদিকে দিল্লি লাগোয়া হরিয়ানা রাজ্যের গুরুগ্রামে খোলা জায়গায় নামাজ পড়ায় বাধা দেয় গৈরিকপন্থি সংগঠনগুলি. রাজ্যের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খাট্টারও বলেছেন, খোলা জায়গার বদলে মসজিদ বা ঈদগাহর মধ্যেই মুসলিমদের নামাজ পড়া উচিত৷ বিপরীত মত ব্যক্ত করে পাঞ্জাবের কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং বলেছেন, ধর্মীয় ইস্যু নিয়ে বিজেপি পরিবেশ বিষিয়ে তুলতে চাইছে৷ দেশের সংবিধান সব ধর্মকে নিজেদের ইচ্ছামতো পালন করার স্বাধীনতা দিয়েছে৷ কেউ তাতে বাধা দিতে পারে না৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন