জার্মান সেক্সশপ সাম্রাজ্য বেয়াটে উহসে দেউলিয়া হওয়ার মুখে | বিশ্ব | DW | 18.12.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি

জার্মান সেক্সশপ সাম্রাজ্য বেয়াটে উহসে দেউলিয়া হওয়ার মুখে

বেয়াটে উহসের প্রখ্যাত সেক্স চেইন একটি দেউলিয়া ত্রাণ পরিকল্পনা দাখিল করেছে৷ যুদ্ধপরবর্তী জার্মানি তথা ইউরোপে সংস্থাটি যে বিপ্লব আনে, দৃশ্যত তার সঙ্গে তাল রাখতে পারেনি বেয়াটে উহসে৷

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বৈমানিক হিসেবে কাজ করেছেন বেয়াটে উহসে, এমনকি স্টান্ট পাইলটও ছিলেন৷ এই অসমসাহসী মহিলার আরেকটি সাহসের কাজ ছিল যুদ্ধ শেষ হবার পরেই ১৯৪৬ সালে তাঁর সেক্সশপ চেইন প্রতিষ্ঠা করা৷ যৌনকামনা ও যৌন উদ্দীপনায় আজীবন বিশ্বাসী বেয়াটে উহসে ও তাঁর বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড জার্মানদের যৌনজীবনকেই বদলে দিয়েছে, বলে সমাজতাত্ত্বিকরা দাবি করে থাকেন৷ ২০০১ সালে পরলোকগমন করেন বেয়াটে উহসে৷ তার দু'দশকের মধ্যেই কি তাঁর ‘ইরোটিক' সাম্রাজ্য অস্ত যেতে বসেছে? গত শুক্রবার ফ্লেন্সবুর্গে হোল্ডিং কোম্পানি ‘বিইউ' দেউলিয়া হওয়ার নোটিশ দাখিল করে – তবে নিজের নিয়ন্ত্রণে ও আদালতের তত্ত্বাবধানে থেকে৷

‘বিইউ'-এর কর্মীসংখ্যা এখন মাত্র ১০, কিন্তু ইউরোপ জুড়ে তাদের যে ৪৩টি সেক্সশপ আছে – কোম্পানির প্রশাখাগুলি যে সব বিপণী চালিয়ে থাকে – সেখানে আজও প্রায় ৩৪৫ জন কর্মী নিযুক্ত৷

‘বিইউ' হোল্ডিং-এর মূল সমস্যা হলো বিনিয়োগকারীদের হাতে কোম্পানির প্রায় তিন কোটি ইউরো মূল্যের বন্ড বা কাগজ, যা ২০১৯ সালের মধ্যেই ফেরত দিতে হবে৷ ওদিকে কোম্পানি ২০১৬ সালে ১০ কোটি ইউরোর বেশি আয় করলেও, লোকসান হয়েছে সাকুল্যে প্রায় ৬২ লাখ ইউরো৷

শেয়ারের ওঠানামা

১৯৯৯ সালে বেয়াটে উহসে কোম্পানির শেয়ার যখন প্রথম বাজারে আসে, তখন তার মূল্য ছিল শেয়ার প্রতি ৭ ইউরো ২০ সেন্ট৷ পরে সেই শেয়ারের দাম দাঁড়িয়েছিল ২৮ ইউরো ২০ সেন্টে৷ ২০০৫ সালেও বেয়াটে উহসে কোম্পানি সবচেয়ে বেশি আয় করে৷ তা সত্ত্বেও ২০০৮ সালের মধ্যে কোম্পানির শেয়ারের মূল্য গিয়ে দাঁড়ায় ৫৮ সেন্টে৷ গত সপ্তাহান্তে সেই শেয়ার বেচাকেনা হয়েছে মাত্র পাঁচ সেন্টে৷

শুধু একটি ভুলে?

কেন এভাবে গ্রাহক খোয়াল বেয়াটে উহসে? বিশ্লেষকরা বলছেন, কোম্পানিটি ই-কমার্সের প্রবণতা ঠিক উপলব্ধি করতে পারেনি; সেই অবকাশে ‘আইস.ডিই' বা ‘আমোরেলি'-র মতো নবাগত কোম্পানিরা বিশেষ করে মহিলা ও দম্পতিদের জন্য অভিনবত্বের পসরা খুলে তাদের ‘‘তরতাজা আবেদনের'' জোরে বাজার মাত করেছে৷ 

স্টান্ট পাইলট

বেয়াটে উহসে তাঁর স্টান্ট পাইলটের লাইসেন্স পান ১৯৩৮ সালে৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তিনি জার্মানির হয়ে মেসারস্মিট জঙ্গিবিমান চালিয়েছেন৷ ১৯৪৬ সালে তাঁর প্রথম বাণিজ্যিক উদ্যোগ ছিল মহিলারা কিভাবে গর্ভবতী হওয়া থেকে রেহাই পেতে পারেন, সে বিষয়ে একটি প্রচারপত্রিকা৷ তাঁর মেইল অর্ডার ব্যবসা খুব ভালোই চলতে থাকে; ফলে বেয়াটে উহসে-র ‘‘বৈবাহিক স্বাস্থ্যবিধি প্রতিষ্ঠানের'' প্রথম বিপণীটি খোলে ১৯৬২ সালে, ফ্লেন্সবুর্গে – যেখানে মহিলাদের অন্তর্বাস ও গর্ভনিরোধক বিক্রি করা হতো, নৈতিকতা নিয়ে চিন্তিত নাগরিকদের দায়ের করা বহু মামলা সত্ত্বেও৷ সত্তরের দশকে জার্মানি যখন অবশেষে তার পর্নোগ্রাফি আইন শিথিল করে, ততদিনে বেয়াটে উহসের নাম জার্মানির সব প্রাপ্তবয়স্কের জানা হয়ে গিয়েছে৷

বেয়াটে উহসের সাম্রাজ্যে একটি টেলিভিশন সেক্স চ্যানেলও বাদ যায়নি৷ ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাকারের পতনের পর সাবেক পূর্ব জার্মানির বাসিন্দারাও বেয়াটে উহসের খদ্দের হন, যার ফলে তাঁর ‘ইরোটিক' পণ্যের বিক্রি বাড়ে দারুণভাবে৷ কিন্তু বেয়াটে উহসে সংস্থার একাধিপত্যে প্রথম আঁচড় কাটে ইন্টারনেট ভিত্তিক নিখর্চার ভিডিও ক্লিপ – যার সঙ্গে ইন্টারনেট ভিত্তিক মেইল অর্ডার যুক্ত হয়ে যৌন পণ্য সংক্রান্ত ব্যবসায়ের ধারাপ্রকৃতিই বদলে যায়৷

বেয়াটে উহসে যে সময়ের সঙ্গে পা মিলিয়ে চলার চেষ্টা করেনি, এমন নয়৷ ২০০৪ সালে সংস্থাটি হামবুর্গে শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য তাদের প্রথম সেক্সশপ খোলে, এমনকি কোম্পানির লোগো-তেও নারীসুলভ ছোঁয়া আনে৷ কিন্তু এ সব সত্ত্বেও হয়তো ‘ডেয়ার স্পিগেল' পত্রিকার আশঙ্কাই সত্যি হতে চলেছে: যে মহিলা ‘‘প্রায় একাই'' জার্মানীর যৌন মানচিত্র বদলে দিয়েছিলেন, তাঁর সাধের সংস্থাটিকে এই অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করা খুব সহজ হবে না৷

এসি/ডিজি (এএফপি, রয়টার্স, ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন