জার্মান বিজ্ঞানীদের কৃষিক্ষেত্রে নয়া সাফল্য | বিশ্ব | DW | 06.04.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি

জার্মান বিজ্ঞানীদের কৃষিক্ষেত্রে নয়া সাফল্য

সূর্যালোক দরকার নেই, দরকার নেই পৃথিবীর মাটি৷ তা সত্ত্বেও ফলবে সবুজ শাক-সবজি৷ অ্যান্টার্কটিকার ঊষর প্রান্তরে এই অসম্ভবকেই সম্ভব করলেন জার্মান বিজ্ঞানীরা৷ ভবিষ্যতে চাঁদ বা মঙ্গল গ্রহের অভিযাত্রীদের জন্য কাজে আসবে এ গবেষণা৷

বরফের সাম্রাজ্য অ্যান্টার্কটিকায় গড় তাপমাত্রা থাকে হিমাঙ্কের ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস নীচে৷ সূর্যের দেখা পাওয়া সেখানে ভার৷ সেই অ্যান্টার্কটিকাতে জার্মান এরোস্পেস সেন্টার বা ডিএলআর-এর একটি প্রকল্পের অধিনে পরীক্ষামূলকভাবে সূর্যের আলো এবং মাটি ছাড়াই প্রথমবার সফলভাবে সবজি উৎপাদন হলো৷ ইতিমধ্যে অবশ্য গ্রিনহাউসের দরুণ মহাকাশ বা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সফলভাবে শাক-সবজি উৎপাদন করা গেছে৷ আর অ্যান্টার্কটিকাতেও সেই গ্রিনহাউস প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়েই সাফল্য মিলেছে৷ ফলে অদূর ভবিষ্যতে চাঁদ এবং মঙ্গলগ্রহের অভিযাত্রীদের সতেজ খাদ্যভাণ্ডারের প্রয়োজন মিটতে পারবে – এমনও আশ্বাস পাওয়া গেছে৷

গ্রিনহাউস

এই গ্রিনহাউসেই সবজির চাষ করছেন গবেষকরা

প্রথম তিন সপ্তাহের চেষ্টায় ডিএলআর-এর ইঞ্জিনিয়ার এবং অ্যান্টার্কটিকার উদ্যানপালক পল জাবেল ৩ দশযমিক ৬ কেজি লেটুস, ৭০টি মূলা, ১৮টি শসা ফলিয়েছেন৷ রোজ গড়ে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পরিশ্রম করার পর তিনি অ্যান্টার্কটিকার বাগানে এই ফসল ফলাতে পেরেছেন৷ জাবেল বলেন, ‘‘ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি বীজ ফেলার পর, আমাকে বেশ কয়েকটি সমস্যার মোকাবিলা করতে হয়েছে৷ কখনও যান্ত্রিক গোলযোগের সম্মুখীন হতে হয়েছে, কখনও বা পড়তে হয়েছে ঝড়ের মুখে৷ তবে সৌভাগ্যক্রমে সব কিছুই অতিক্রম করতে পেরেছি৷''

ব়্যাডিশ

স্বাদে কিন্তু এই ব়্যাডিশ সাধারণ সবজির মতোই!

অ্যান্টার্কটিকার গ্রিনহাউসে ইতিমধ্যে ব়্যাডিশ, স্যালাড পাতা, টমেটো, শসা, গোলমরিচের পাশাপাশি তুলসী, পার্সলে, ধনেপাতার মতো হার্বের চাষও হচ্ছে৷ প্রজেক্ট ম্যানেজার ডানিয়েল শুবার্ট বলেন, ‘‘আমরা স্বপ্রজননক্ষম উদ্ভিদের সন্ধানও পেয়েছি৷ অ্যান্টার্কটিকায় আমাদের পরীক্ষার ক্ষেত্রে এগুলি কাজে আসবে৷ তবে স্ট্রবেরি চাষের ক্ষেত্রে ধৈর্য্য রাখা ছাড়া উপায় নেই৷''

নিউমেয়ার স্টেশন৩ থেকে ৪০০ মিটার দূরে এই গ্রিনহাউস প্রকল্পটি গড়ে উঠেছে৷ এখানকার ১০ জন মানুষ এখন এই শাক-সবজির ওপর নির্ভরশীল৷ স্টেশন ম্যানেজার ব্যার্নহার্ড গ্রপ জানালেন, অ্যান্টার্কটিকায় প্রথম স্যালাড দেখার মজাই আলাদা! বাগানে ফলানো টাটকা সবজির মতোই এর স্বাদ!

লুইসা রাইট­/পিএস

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন