জার্মান পুনর্মিলন: দুই-যোগ-চার চুক্তি | পুনরেকত্রিত জার্মানি | DW | 29.09.2010
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

পুনরএকত্রিত জার্মানি

জার্মান পুনর্মিলন: দুই-যোগ-চার চুক্তি

দুই-যোগ-চার বলতে তৎকালীন পশ্চিম এবং পূর্ব, দুই জার্মানি - এবং সেই সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চার বিজয়ী শক্তি: সোভিয়েত ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন এবং ফ্রান্স৷

default

দুই-যোগ-চার চুক্তিতে স্বাক্ষরের মাধ্যমে পররাষ্ট্রনীতি এবং আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে জার্মান পুনর্মিলনের পথ উন্মুক্ত হয়ে যায়

চুক্তিতে জার্মান পুনর্মিলনের আন্তর্জাতিক আঙ্গিকটি নির্ধারিত হয়৷

চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় মস্কোয়, ১৯৯০ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর৷ বিষয়টি যে কতো সমস্যাকর ছিল, তা বোঝা যায় পূর্ব জার্মানির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লোথার ডে মেইজিয়ার'এর উক্তি থেকে৷ ডে মেইজিয়ার বলেন:

‘‘বিশেষ করে সৈন্যসংখ্যা ব্যাপকভাবে কমানোর ব্যাপারটি গুরুত্ব পেয়েছে, যার ফলে মধ্য ইউরোপে শান্তি সুরক্ষার পথে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে - ঠিক যে অঞ্চলটিতে এযাবৎ সর্বাধিক সংখ্যক সৈন্য এবং অস্ত্রপ্রণালীর জমায়েত ছিল৷''

কূটনৈতিক বাধা-বিপত্তি

ডে মেইজিয়ার'এর স্বস্তিটাও বোধগম্য৷ চুক্তি স্বাক্ষরের আগে চারবার আলোচনা বসেছে৷ বিষয় ছিল বিভক্ত জার্মানির উভয় অংশে বিজয়ী দখলদারী শক্তিদের বিভিন্ন স্বত্ব এবং অধিকার৷ একীকৃত জার্মানির সার্বভৌমত্বের জন্য এই সব স্বত্ব, অধিকার তুলে নেওয়া প্রয়োজন৷ তৎকালীন পশ্চিম জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হান্স-ডিট্রিচ গেনশার এবং পূর্ব জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কুস মেকেল একত্রে এই সব জটিলতার সমাধান করেন৷ কিন্তু চুক্তিস্বাক্ষরের ঠিক আগের দিন সন্ধ্যায় বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার'এর তরফ থেকে নতুন বাধা আসে৷ গেনশারের ভাষ্যে:

‘‘মিসেস থ্যাচার উত্তরোত্তর দাবী তুলেছিলেন৷ প্রশ্ন ছিল, মিত্রশক্তিদের সৈন্যরা প্রাক্তন পূর্ব জার্মানির রাজ্যাঞ্চলে সামরিক মোহড়া অনুষ্ঠান করতে পারবে কি না৷ এবং তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নও যখন সমগ্র জার্মানির ন্যাটো-সদস্য হওয়াকে মেনে নিয়েছে, তার পরে শেষ মুহূর্তে এ'রকম অতিরিক্ত দাবী তোলাটা সম্পূর্ণ অবান্তর - এবং আমরা আমাদের ফরাসি এবং মার্কিনি সহযোগীদের কাছে কৃতজ্ঞ যে, আলাপ-আলোচনা আবার নতুন করে শুরু করতে হয়নি৷''

স্বীকৃতি এবং গ্যারান্টি

দুই-যোগ-চার চুক্তিতে ইউরোপের যাবতীয় সীমানাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, সেই সঙ্গে একীকৃত জার্মানি এবং পোল্যান্ডের মধ্যে সীমানাকেও - যদিও ইতিপূর্বে পশ্চিম জার্মানিতে ঠিক ঐ সীমান্ত নিয়েই বিতর্ক ছিল৷ এছাড়া একীকৃত জার্মানি যাবতীয় পারমাণবিক-জীবাণুভিত্তিক-রাসায়নিক অস্ত্র বর্জ্জন এবং তার সেনাবাহিনী ৩,৭০,০০০ সৈন্যে সীমিত রাখতে চুক্তিবদ্ধ হয়৷ সোভিয়েত সৈন্যরা ১৯৯৪ সালের মধ্যে জার্মানির পূর্বাঞ্চল থেকে সরে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়৷ সাবেক পূর্ব জার্মানিতে ভূমিস্বত্বের যা কিছু রদবদল হয়েছে, তা চিরকালের জন্য অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ‘অন্ত'

দুই-যোগ-চার চুক্তিতে স্বাক্ষরের মাধ্যমে পররাষ্ট্রনীতি এবং আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে জার্মান পুনর্মিলনের পথ উন্মুক্ত হয়ে যায়৷ এছাড়া এই চুক্তির মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধও সরকারিভাবে সমাপ্ত হয়, কেননা স্বাক্ষরকারী দেশগুলি ধরে নেয় যে, এই চুক্তি একটি শান্তি চুক্তির বিকল্প হিসেবে কাজ করবে এবং মিত্রশক্তিদের তরফ থেকে আর কোনো ক্ষতিপূরণের দাবী উঠবে না৷

মস্কোয় চুক্তিস্বাক্ষরের প্রায় তিন সপ্তাহ পরে বার্লিনের আকাশ আতসবাজির আলোয় ভরে যায়৷ বার্লিন প্রাকার নির্মাণের ২৯ বছর পরে জার্মানরা তাদের রাষ্ট্রীয় পুনর্মিলন, এবং সেই সঙ্গে ইউরোপের বিভাজনের অবসানকে স্বাগত জানায়৷

প্রতিবেদন: মাথিয়াস ফন হেলফেল্ড, অনুবাদ: অরুণ শঙ্কর চৌধুরী

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

বিজ্ঞাপন