জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যে ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্রের অসন্তোষ | বিশ্ব | DW | 21.06.2016
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যে ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্রের অসন্তোষ

ফ্রাংক-ভাল্টার স্টাইনমায়ার পূর্ব ইউরোপে ন্যাটোর ‘অস্ত্রের ঝনঝনানি''-র সমালোচনা করার পর ন্যাটোর মহাসচিব ইয়েন্স স্টলটেনব্যার্গ ও মার্কিন নৌবাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা তার বিরোধিতা করেছেন৷

তাঁদের মতে, রাশিয়ার পশ্চিম সীমান্তে বর্ধিত সামরিক মহড়াকে ‘‘অস্ত্রের ঝঞ্ঝনা'', অর্থাৎ শক্তিমত্তা বা বলপ্রদর্শন বলা চলে না৷ এটা স্টাইনমায়ারের মন্তব্যের পরোক্ষ নিন্দা বলে গণ্য হতে পারে৷

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাংক-ভাল্টার স্টাইনমায়ার শনিবার জার্মানির জনপ্রিয় ট্যাবলয়েড ‘বিল্ড' পত্রিকার একটি সাক্ষাৎকারে বলেন যে, পূর্ব ইউরোপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর যৌথ সামরিক মহড়া কূটনীতি ও সংলাপের জন্য ক্ষতিকর হবে ও রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা বাড়াবে৷

‘‘আমাদের এখন যেটা করা উচিৎ নয়, সেটা হলো সশব্দে অস্ত্রের ঝঞ্ঝনা আর যুদ্ধং দেহি ধ্বনি দেওয়া,'' বিল্ড পত্রিকাকে বলেন স্টাইনমায়ার৷ ‘‘জোটের পূর্ব সীমান্তে প্রতীকী সাঁজোয়া কুচকাওয়াজ আরো বেশি নিরাপত্তা আনবে বলে যারা মনে করেন, তারা ভুল করছেন৷''

স্টাইনমায়ার রাশিয়ার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা ও কূটনৈতিক পন্থা অবলম্বনের ডাক দেন৷ তিনি বলেন যে, ‘‘এই পরিস্থিতিতে শুধু সামরিক পন্থার উপর জোর দেওয়া এবং নিরোধক নীতিতে সমাধান খোঁজা'' চরম ভুল হবে৷ তবে স্টাইনমায়ার স্বীকার করেন যে, ইউক্রেনে রাশিয়ার কার্যকলাপ ‘‘আমাদের পুবের প্রতিবেশিদের মধ্যে এমন একটি অনুভূতির সৃষ্টি করেছে'', যাকে গুরুত্ব দেওয়া আবশ্যক৷

পোল্যান্ডে ন্যাটোর দু'সপ্তাহব্যাপী সামরিক মহড়ায় জার্মানিসহ ন্যাটোর বিশটির বেশি সদস্যদেশ ও সহযোগী দেশের ৩১ হাজার সৈন্য সংশ্লিষ্ট ছিল৷ মহড়ার উদ্দেশ্য ছিল, পোল্যান্ড ও সেই সঙ্গে তিন ন্যাটো দেশ লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া আর এস্টোনিয়াকে আশ্বস্ত করা যে, তাদের ক্ষেত্রে ২০১৪ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার অনুপ্রবেশের মতো কোনো ঘটনা ঘটা সম্ভব নয়৷

পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশ'তে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ন্যাটোর একটি শীর্ষবৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে৷ ন্যাটোর চারটি নতুন ভ্রাম্যমান ব্রিগেড সৃষ্টির পরিকল্পনা সেই বৈঠকে অনুমোদিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ প্রতিটি ব্রিগেডে থাকবে প্রায় ১ হাজার সৈন্য৷ এই ব্রিগেডগুলি পোল্যান্ড ও বালটিক দেশগুলিতে রুশ আগ্রাসন নিরোধক হিসেবে কাজ করবে, বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে৷

জার্মানিও এই ভ্রাম্যমান বাহিনীতে সৈন্য পাঠাবে৷ জার্মানির উদ্দেশ্য রাশিয়াকে প্ররোচিত করা অথবা মুক্ত আলাপ-আলোচনাকে বিপন্ন করা নয় - বলেছেন চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল৷ রাশিয়া কিন্তু তার সীমান্তে সামরিক মহড়া ও সৈন্যনিয়োগকে বৈরিসুলভ পদক্ষেপ বলে গণ্য করছে৷

ন্যাটোর মহাসচিব ইয়েন্স স্টলটেনব্যার্গ স্টাইনমায়ারের নাম উল্লেখ না করে সোমবার বলেন যে, ন্যাটো জোট মস্কোর সঙ্গে উত্তেজনাবৃদ্ধি এড়ানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু রাশিয়ার কার্যকলাপের পরিপ্রেক্ষিতে ভ্রাম্যমান ব্রিগেড নিয়োগ ও মহড়াগুলির প্রয়োজন ছিল৷ মার্কিন নৌ কর্মকর্তাদের মতে পূর্ব ইউরোপে ন্যাটোর মহড়ার লক্ষ্য হলো প্রশিক্ষণ ও রাশিয়ার আগ্রাসী সম্প্রসারণ রোধ করা৷ এই প্রসঙ্গে ‘‘(আগ্রাসন) নিরোধ ও আশ্বাস (প্রদান)''-এর কথা বলেন মার্কিন নৌসচিব রে মেবুস৷

এসি/এসিবি (এএফপি, ডিপিএ, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন