জার্মান নির্বাচন ২০২১: রাজনৈতিক দলগুলোর নানামুখী প্রতিশ্রুতি | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 25.09.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জার্মান নির্বাচন ২০২১

জার্মান নির্বাচন ২০২১: রাজনৈতিক দলগুলোর নানামুখী প্রতিশ্রুতি

রোববার জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেবেন জার্মানরা৷ ভোটকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে প্রতিশ্রুতির পসরা সাজিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো৷ 

রবিবারের নির্বাচনকে সামনে রেখে সামাজিক-রাজনৈতিক নানা ইস্যুতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে ইতিমধ্যে সে বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে দলগুলো৷ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, আয়কর, নাগরিকদের অবসরকালীন ভাতা, অভিবাসন, আন্তর্জাতিক রাজনীতি, সামাজিক সুরক্ষাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর কার কী প্রতিশ্রুতি সে বিষয়টি তুলে ধরেছে ডয়চে ভেলে৷   

খ্রিস্টান ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন  (সিডিইউ) ও খ্রিস্টান সোশ্যাল ইউনিয়ন (সিএসইউ)

প্রথমে জেনে নেওয়া যাক তুলনামূলক রক্ষণশীল দল হিসেবে পরিচিত ক্ষমতাসীন সিডিউ ও তার সহযোগী সিএসইউ ভোটারদেরকে নিজেদের ঘরে টানতে কী কী প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে৷

জলবায়ু ও গণপরিবহন 

ক্ষমতাসীন দলটির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি হলো পরিবেশ বিপর্যয়ের প্রভাব মোকাবেলায় কাজ করা৷ আর এক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব একটি বাজারব্যবস্থা তৈরি করতে চায় তারা৷ তাছাড়া আকাশপথের যাত্রায় সিনথেটিক জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর কথা বলছে দলটির নেতারা৷ সেই সাথে হাইওয়েতে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে কোনো গতিসীমা নির্ধারিত করে দেওয়ার এবং জ্বালানি হিসেবে ডিজেলের ব্যবহার বন্ধের বিপরীতেই কথা বলছে দলটি৷

অভিবাসন

ক্ষমতাসীন এ দলটিই ২০১৫ সালের শরণার্থী সংকট সামাল দিয়েছিল৷ হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীর জন্য সীমান্ত খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে দলের প্রধান আঙ্গেলা ম্যার্কেল একদিকে যেমন প্রশংসিত হয়েছিলেন, অন্যদিকে দেশের ভেতরে তার এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন কেউ কেউ৷ আর তাই চলতি নির্বাচনকে সামনে রেখে তুলনামূলক রক্ষণশীল এ দলটি ভোটারদের অভিবাসন বিষয়ে কী প্রতিশ্রুতি দেয় তা আলোচনায় ছিল৷ তবে বরাবরের মতো দলটি এবারও আশ্রয় চাওয়াকে মানুষের মৌলিক অধিকার বলে প্রচার করছে৷ তবে এ বিষয়ে কিছু কড়াকড়ি নিয়ম আরোপ করতে চায় তারা৷ এর মধ্যে রয়েছে আশ্রয়ের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতার বিষয়ে কঠোর হওয়া এবং আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন নাকচ হলে তাকে দেশে পাঠানোর বিষয়ে আরো তৎপর হওয়া৷ তাছাড়া নিরাপদ দেশের তালিকা আরো বড় করতে চায় দলটি৷ আর যেসকল শরণার্থী জার্মানিতে ফৌজদারি অপরাধের সাথে যুক্ত তাদেরকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার বিষয়ে জোরারোপ করছে দলটি৷    

      

সামাজিক সুরক্ষা ও আবাসন 

কর ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে  ২০২৫ সালের মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১৫ লাখেরও বেশি নতুন ঘর বানানোর উপর গুরুত্ব দিচ্ছেন দলটির নেতারা৷ এদিকে অবসরকালীন ভাতাকে গড় আয়ের সমান রাখা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি দলটি৷ জানা গেছে, মায়েদের ভাতা বাড়ানোর বিষয়ে সহযোগী দল সিএসইউর সাথে এখনো একমত হতে পারেনি আঙ্গেলা ম্যার্কেলের সিডিইউ৷  

আয়কর

ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক আয়ের উপর ধার্যকৃত কর কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি৷ তবে এমন পদক্ষেপের ফলে শুধুমাত্র দেশের উচ্চবিত্ত শ্রেণীই লাভবান হবে এমন সমালোচনা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে৷ নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের আয়ের উপর আরোপিত কর কমিয়ে আনার কথাও বলছে দলটি যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি৷   

পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষানীতি

দেশের অভ্যন্তরে উন্নয়ন কাজের প্রতিশ্রুতি প্রদানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিশ্বে নিজেদের নেতৃত্বের অবস্থানকে সমর্থন করছে সিডিইউ৷ এ কারণে বিদেশে জার্মান সেনাবাহিনীর মিশনের সংখ্যা বাড়াতে চায় তারা৷ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জলবায়ু ইত্যাদির উপর জোরদানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ দমনে সহযোগী দেশগুলোর সাথে কাজ করার অঙ্গীকার দলটির৷

সোশ্যোল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসপিডি)

ভোটারদের মন জয় করতে নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বামপন্থি দল এসপিডিও৷ এর মধ্যে রয়েছে:

জলবায়ু ও গণপরিবহন

হাইওয়েতে গাড়ি চালানোর সর্বোচ্চ গতিসীমা ১৩০ কিলোমিটার করতে চায় এসপিডি৷ আর সামনের বছরগুলোতে অন্তত ১৫ মিলিয়ন ইলেকট্রিক কার বাজারে আনতে চায় তারা৷ এর সবই মূলত পরিবেশ বিপর্যয় মোকাবেলার কৌশল, বলছে তারা৷ তাছাড়া ইউরোপে ভ্রমণের ক্ষেত্রে রেলের ভাড়া কমাতে চায় দলটি৷ এর মাধ্যমে বিমান চলাচল কমিয়ে আনার লক্ষ্য তাদের৷ 

অভিবাসন

ক্ষমতায় গেলে অভিবাসনের ক্ষেত্রে নতুন কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করবে না তারা৷ বরং বেশি মাত্রায় আশ্রয়প্রার্থীদের পরিবারকে জার্মানিতে আসার সুযোগ দিতে চায় এ দলটি৷ 

সামাজিক সুরক্ষা ও আবাসন

এদিকে অবসরকালীন ভাতাকে মানানসই অবস্থানে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি৷ অবসরে যাওয়ার ন্যূনতম বয়স ৬৭ই রাখতে চায় দলটির নেতারা৷ আবাসন সংকট মেটাতে প্রতি বছর এক লাখ সোশ্যাল হাউজিং ইউনিট বানানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে দলটির নেতারা৷ তাছাড়া ঘর বানানোর জন্য শহর এলাকার জমি কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানিকে না দিয়ে অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের হাতে দিতে চায় তারা৷ 

ভিডিও দেখুন 02:15

নতুন জার্মান সরকারের কাছে এক বাংলাদেশি তরুণের প্রত্যাশা

আয়কর

বামপন্থি এ দলটি ঘণ্টায় ন্যূনতম মজুরি ১২ ইউরো করার ঘোষণা দিয়েছে৷ তাছাড়া দলটি ‘ওয়েলথ ট্যাক্স' নামে এক ধরনের করব্যবস্থার প্রস্তাব করেছে যা ধনীদেরকে প্রদান করতে হবে৷ এ করের পরিমাণ হবে শতকরা এক ভাগ৷ সেই সাথে নিস্ন ও মধ্যবিত্তদের উপর আরেপিত কর কমিয়ে আনার কথাও বলেছে তারা৷ ঘাটতি মেটাতে যে সকল ব্যক্তি বছরে ৯০ হাজার ইউরো আয় করছেন তাদের আয়ের উপর ৪৫ শতাংশ কর এবং যারা বছরে দুই লাখ ৫০ হাজার ইউরো আয় করছেন তাদের আয়ের উপর ৪৮ শতাংশ কর বসানোর পরিকল্পনা করছে দলটি৷

পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষানীতি

বিদেশ নীতির বেলায় দলটির মুলত জলবায়ু ও বিশ্ব্যাপী ন্যায্য বাণিজ্য ব্যবস্থা তৈরির উপর গুরুত্ব দিতে চাইছে৷ তাছাড়া দেশের মোট জাতীয় আয়ের শূন্য দশমিক দুই ভাগ অনুন্নত দেশগুলোর উন্নয়নে ব্যয় করার পরিকল্পনা তাদের৷ ইউরোপের নিরাপত্তায় একটি যৌথবাহিনী গড়ে তোলার কথাও বলছে দলটি যদিও ন্যাটোর সাথে তাদের সম্পর্ক বলবৎ থাকবে৷ তবে রাশিয়ার সাথে মুখোমুখি অবস্থানে যেতে চায় না তারা৷ আর চীন বিষয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা জানিয়ে দলটি বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় পারস্পরিক সহযোগিতা খুব জরুরি৷

গ্রিন পার্টি

পরিবেশ নিয়ে অন্য দলগুলোর চেয়ে বেশি সচেতন বলে পরিচিত গ্রিন পার্টি বা সবুজ দলের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির তালিকাও বেশ দীর্ঘ৷ এর মধ্যে রয়েছে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, রাস্তাঘাটসহ নানাখাতের উন্নয়নের উপর গুরুত্বারোপ৷ 

জলবায়ু ও গণপরিবহন

২০৩০ সাল থেকে রাস্তায় কার্বনডাইঅক্সাউড নির্গমণ করে এমন গাড়ি রাখতে চায় না দলটি৷ তাছাড়া প্রতি টন কার্বনডাইঅক্সাইড নির্গমনের দাম ৬০ ইউরোতে উন্নীত করতে চায় তারা যদিও স্বল্প আয়ের মানুষের বেলায় এর ব্যতিক্রমের কথা বলা হয়েছে৷ এদিকে রেল যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে বিমান চলাচল কমিয়ে আনার পরিকল্পনা আছে তাদের৷

অভিবাসন

গ্রিন পার্টির দাবি, অভিবাসনের জন্য উপযোগী দেশ হলেও অভিবাসনকে সহজ করতে জার্মানিতে প্রয়োজনীয় আইনের ঘাটতি রয়েছে৷ আর তাই অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরো দৃঢ় করতে এবং অভিবাসীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার বিষয়টিকে সহজ করতে চায় দলটি৷ তাছাড়া পাঁচ বছর জার্মানিতে আছেন এমন শরণার্থীরা দেশটিতে থাকার অধিকার পায় সে বিষয়ে আরো শক্তিশালী পদক্ষেপর কথা বলছে তারা৷ সেই সাথে সিরিয়া ও আফগানিস্তান থেকে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরত পাঠানো বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি তাদের৷

সামাজিক সুরক্ষা ও আবাসন

মাসিক বেতনের অন্তত শতকরা ৪৮ ভাগ অবসর ভাতা হিসেবে দিতে চায় দলটি৷ তাছাড়া প্রত্যেকের আয় নিশ্চিতকরণ, শিশুদের মৌলিক নিরাপত্তা এবং ন্যূনতম মজুরিও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে সবুজ দলের নেতারা৷  

আয়করের সীমা কমিয়ে স্বল্প আয়ের মানুষদের বাড়তি সুবিধা দিতে চায় দলটি৷ সেক্ষেত্রে বেশি উপার্জনকারী ব্যক্তিদের আয়ের উপর অতিরিক্ত কর বসিয়ে ঘাটতি মেটানোর কথা বলছে তারা৷ বছরে এক লাখ ইউরো উপর্জনকারী ব্যক্তির আয়ের উপর কর ৪২ থেকে বাড়িয়ে ৪৫ শতাংশ এবং দুই লাখ ৫০ হাজার ইউরো উপর্জনকারী ব্যাক্তির আয়ের উপর ৪৮ শতাংশ কর বসানোর প্রস্তাব তাদের৷

ভিডিও দেখুন 05:27

জার্মানিতে মুসলমানদের ঈদে, হিন্দুদের পূজায় ছুটি চান লামিছা

পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষানীতি

দেশের পারমানবিক অস্ত্র সরিয়ে ফেলতে চায় দলটি৷ তবে ন্যাটো বাহিনীর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে দলের নেতারা৷ মানবাধিকারের প্রশ্নে চীন ও রাশিয়ার তীব্র সমালোচনা তাদের৷

ফ্রি ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এফডিপি)

এফডিপি তাদের এবারের পরিকল্পনাতেও চিরাচরিত বাজারকেন্দ্রীক ও খোলা চিন্তাধারার লিবারেল নীতিতে এগোচ্ছে৷ তাদের আলোচ্য নীতিগুলিতে এবারও থাকছে তাদের উচ্চশিক্ষিত, উচ্চ আয়ের ভোটারদের দিকে ঝুঁকে৷

জলবায়ু ও গণপরিবহন

জার্মানির হাইওয়ে বা আওটোবানে কোনো ধরনের গতি নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে অবস্থান দলটির৷ রেল পরিষেবাতেও প্রতিযোগিতা বাড়াতে বেসরকারীকরণ চায় তারা৷ পাশাপাশি, ট্যাক্সির বাজারের বেসরকারীকরণ ও বিমান পরিষেবায় কর বসাতে চায় এই দলটি৷

অভিবাসন

যে সকল ইইউ-বহির্ভূত রাষ্ট্রের নাগরিকদের উচ্চ দক্ষতা রয়েছে, তাদের জন্য ব্লু কার্ডের ব্যবস্থা করতে চায় এফডিপি৷ শুধু তাই নয়, ক্যানাডায় প্রচলিত পয়েন্টভিত্তিক মডেলের আধারে  অভিবাসন প্রকল্প চালু করার প্রস্তাব রয়েছে তাদের৷

যুদ্ধে বিধ্বস্ত দেশ থেকে আসা শরণার্থীদের জন্য সাময়িক সুরক্ষা পরিষেবার করার কথা বলে এই দল, যেখানে আমলাতান্ত্রিকতা থাকবে কম৷ পাশাপাশি, যুদ্ধশেষে এইসব শরণার্থীদের নিজদেশে প্রত্যর্পণের বিষয়টিও তারা রেখেছে প্রস্তাবে৷

আয়কর

পূর্ব জার্মানির উন্নয়নখাতে জার্মানির বাকি অঞ্চলের করদাতারা যে বাড়তি অর্থ দেন, যাকে বলা হয় সলিডারিটি সারচার্জ, তা বন্ধ করতে চায় এফডিপি৷ পাশাপাশি, স্পার্কলিং ওয়াইনের ওপর কর ও ধনীদের জন্য করও মওকুফ করতে চায় তারা৷ এতে করে নিয়োগকর্তা ও কর্মী দুই পক্ষেরই কর কমিয়ে ৪০ শতাংশে আনতে চায় এই দল৷ বাসাভাড়ার জন্য নির্দিষ্ট মান ঠিক করার বিরোধী এই দল৷ দলটির প্রধান ক্রিস্টিয়ান লিন্ডনারের মতে এই কর খারিজ করার মাধ্যমে অন্যান্য দলের সাথে সমঝোতায় সুবিধা হবে তাদের৷

সামাজিক সুরক্ষা ও আবাসন

সুইডিশ মডেলের আধারে একটি নির্দিষ্ট ইকুয়িটি পেনশনের ব্যবস্থার কথা প্রস্তাব করছে এফডিপি৷ যেসকল ব্যক্তিরা রাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তা পান, তাদের আয়ের সুবিধার্থে আরো সাহায্যকারী নিয়ম আনতে চায় তারা৷

এফডিপি দলটি কোনো ধরনের রেন্ট ক্যাপ বা বাসাভাড়ার সর্বোচ্চ অংক নির্ধারণের বিপক্ষে৷ দলটি চায়, দেশে বাসাভাড়া দেবার বদলে বাসার মালিকের সংখ্যা বাড়ুক৷

পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষানীতি

জিডিপি'র তিন শতাংশ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাখাতে ব্যয় করতে চায় এফডিপি, যার আওতায় রয়েছে উন্নয়ন সহায়তা ও সহায়তাভিত্তিক কূটনীতির বিষয়টিও৷ চীন ও রাশিয়ার কড়া সমালোচক এই দল বৃহত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে ডেটা ট্রাফিক আরো নিরাপদ করার লক্ষ্যে আলোচনায় আগ্রহী৷ এর সাথে, যে সকল অঞ্চলে সমকামী, উভকামী ও তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিকদের অধিকার খর্ব করা হয়, সেই সব দেশকে সহায়তা দেওয়া থেকে বিরত থাকার কথা প্রস্তাব করছে এফডিপি দলটি৷

অল্টারনেটিভ ফর ডয়চেল্যান্ড (এএফডি)

বরাবরের মতো অভিবাসনের বিরোধীতা করে বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডানপন্থি দল অল্টারনেটিভ ফর ডয়চেল্যান্ড (এএফডি)৷ উল্লেখ্য যে, কোনো দলই এএফডির সাথে সমঝোতা করে সরকার গঠনে আগ্রহী নয়৷ 

জলবায়ু ও গণপরিবহন

পরিবেশের পরিবর্তনের উপর মানুষের জীবনাচরণের প্রভাব আছে এ বিষয়টি বিশ্বাস করে না এএফডি৷ প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে জার্মানিকে সরিয়ে আনা, ব্যক্তিগত পর্যায়ে মোটরযানের ব্যবহার পক্ষে এবং জ্বালানি হিসেবে ডিজেলের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার বিপক্ষেই মূলত চলতি নির্বাচনে এ দলটির অবস্থান ৷

অভিবাসন

অভিবাসন প্রক্রিয়া অর্থাৎ বিদেশিদের অভিবাসী হিসেবে জার্মানিতে আসার যে পথ তা সংকুচিত করতে চায় এএফডি৷ এছাড়া জার্মানিতে অবস্থানরত শরণার্থীদের পরিবারের সদস্যদের জার্মানিতে আসার সুযোগ প্রদান বন্ধ করার পক্ষেও প্রতিশ্রুতি তাদের৷ 

সামাজিক সুরক্ষা ও আবাসন

অভিবাসন, জলবায়ু ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে থাকার ফলে যে বাড়তি ব্যয় হয় তা কমিয়ে অবসরকালীন ভাতাব্যবস্থাকে স্থিতিশীল করতে চায় দলটির নেতারা৷ তাছাড়া আইন প্রণয়নের মাধ্যমে আবাসন খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুবিধা দিতে চায় তারা৷ দলটির দাবি, অভিবাসীদের জন্যই জার্মানিতে আবাসন সংকট দেখা দিচ্ছে৷

পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষানীতি

ন্যাটো এবং অর্গানাইজেশন ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড কোঅপারেশন ইন ইউরোপসহ এমন সব আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতি সমর্থন আছে এএফডির৷ তবে তাদের এ সমর্থন সাময়িক সময়ের জন্য৷ কেননা, তারা মনে করে এসকল সংস্থা জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের জন্য হুমকি৷ তাছাড়া ন্যাটোর কর্মপরিধি কমিয়ে এনে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকে শক্তিশালী করতে চায় কট্টরপন্থি এ দলটির নেতারা৷

আরআর/এসএস

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়