জার্মান নির্বাচনে চ্যান্সেলর প্রার্থী পরিচিতি: আরমিন লাশেট | বিশ্ব | DW | 21.09.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জার্মানি

জার্মান নির্বাচনে চ্যান্সেলর প্রার্থী পরিচিতি: আরমিন লাশেট

আঙ্গেলা ম্যার্কেলের দল খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী সিডিইউ দল থেকে এবার চ্যান্সেলর প্রার্থী হয়েছেন আরমিন লাশেট৷ বর্তমানে তিনি জার্মানির সবচেয়ে জনবহুল নর্থরাইন ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন৷

জার্মানির মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশের বাস এই রাজ্যে৷ ২০১৭ সাল থেকে সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী লাশেট৷ তাই তিনি প্রায়ই বলেন, ‘‘এক কোটি ৮০ লাখ মানুষের রাজ্য পরিচালনাকারী মুখ্যমন্ত্রী চ্যান্সেলর হতে পারেন৷'' দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানি আটজন চ্যান্সেলর পেয়েছে৷ এর মধ্যে শুধু প্রথম চ্যান্সেলর কনরাড আডেনাউয়ার (১৯৪৯-১৯৬৩) এই রাজ্যের ছিলেন৷

সাবেক আইনজীবী ও সাংবাদিক লাশেটের স্থানীয়, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাচনে (১৯৯৪-১৯৯৮) জয়লাভ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে৷ এমনকি ১৯৯৯ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত তিনি ইউরোপীয় সংসদেরও সদস্য ছিলেন৷ এই হিসেবে ম্যার্কেল যখন চ্যান্সেলর হয়েছিলেন তার চেয়েও বেশি রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা আছে লাশেটের৷

অনেকদিন ধরেই ম্যার্কেলের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হিসেবে পরিচিত লাশেট৷ ২০১৫ সালে ম্যার্কেল যখন শরণার্থীদের জন্য জার্মানির দরজা খুলে দিয়েছিলেন তখন নিজ দলের অনেক নেতার সমর্থন না পেলেও লাশেট ম্যার্কেলের পক্ষে ছিলেন৷ তবে সাম্প্রতিক করোনা সংকটের সময় ম্যার্কেল থেকে তাকে একটু দূরে থাকতে দেখা গেছে৷ এরপরও চলতি বছরের জানুয়ারিতে লাশেট যখন সিডিইউ দলের প্রধান নির্বাচিত হন তখন তাকে ম্যার্কেলের নীতি চালিয়ে যাওয়ার মূল ব্যক্তি হিসেবে দেখা হয়েছে৷

১৯৬১ সালে বেলজিয়াম সীমান্তের কাছে জার্মানির আখেন শহরে জন্মগ্রহণ করেন লাশেট৷ তার দাদা-দাদি দুজনই বেলজিয়ামের৷ লাশেট ফরাসি ভাষায় পারদর্শী৷ ফ্রান্সের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গেও তার ভালো সখ্য রয়েছে৷

অবশ্য সবশেষ জরিপে লাশেটের সিডিইউ দল সামাজিক গণতন্ত্রী এসপিডি দলের চেয়ে পিছিয়ে আছে৷ গত জানুয়ারিতে লাশেট সিডিইউর দায়িত্ব নেয়ার পর প্রায় ১৫ বছর পর সিডিইউর জনসমর্থন কমে এসপিডির পেছনে চলে গেছে৷

এর অন্যতম কারণ এসপিডির চ্যান্সেলর প্রার্থী ওলাফ শলৎসের ক্যারিশমা হলেও সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা লাশেটের জনসমর্থন কমিয়েছে৷ যেমন গত জুলাইতে নর্থরাইন ওয়েস্টফালিয়া এবং আরেক রাজ্যে বন্যায় ১৮০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারান৷ অনেকেই সবকিছু হারান৷ সেই সময় উপদ্রুত এলাকা সফরে গিয়ে জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্রাংক-ভাল্টার স্টাইনমায়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন৷ এই সময় পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা লাশেটকে স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঠাট্টা করতে দেখা যায়৷ এরপর সমালোচনা শুরু হলে লাশেট বেশ কয়েকবার ক্ষমা চান৷

এখানে শেষ নয়৷ বন্যার কারণ জলবায়ু পরিবর্তন কিনা, তা নিয়ে যখন আলোচনা চলছে তখন একদিন লাশেট বলে বসেন, ‘‘এরকম মাত্র একদিনের ঘটনার জন্য আমরা পুরো অ্যাপ্রোচে কোনো পরিবর্তন আনব না৷''

এই মন্তব্য করার কয়েকদিন পর তিনি তার বক্তব্য পরিবর্তন করে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে লড়তে যা করা প্রয়োজন তা করা হবে৷

লাশেটের এমন আচরণে অনেকে মনে করছেন তিনি খুব দ্রুত তার নীতি ও সিদ্ধান্ত বদলান৷

ক্রিস্টোফ স্ট্রাক/জেডএইচ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়