জার্মান গির্জার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার যত অভিযোগ | বিশ্ব | DW | 27.08.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জার্মানি

জার্মান গির্জার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার যত অভিযোগ

জার্মানিতে ক্যাথলিক চার্চের শত শত যাজকের বিরুদ্ধে এক হাজারেরও বেশি শিশু ও কিশোরকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে৷ চার্চের বিভিন্ন অংশের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে৷

বিশ্বের বিভিন্ন অংশে যাজকদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ অনেকদিন ধরেই উঠছে৷ এমনকি ক্যাথলিকদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা পোপও এ বিষয়ে একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন৷ যাজকদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ গোপন রাখার বিধানও গত বছর বাতিল করেন বর্তমান পোপ ফ্রান্সিস৷

কিন্তু জার্মান চার্চের একটি অংশ এতদিন এ নিয়ে নীরব ভূমিকাই পালন করে এসেছে৷ একটি জরিপে দেখা গেছে শিশু, কিশোর থাকা অবস্থায় যাজকদের দ্বারা যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন এমন অন্তত ১৪১২টি অভিযোগ জমা পড়েছে চার্চের বিভিন্ন সংগঠনের কাছে৷ জার্মানির ধর্মীয় নেতাদের সংগঠন ডিওকে বুধবার এ সংক্রান্ত একটি গবেষণা প্রকাশ করেছে৷ গবেষণায় নেতারা এই ইস্যুকে সঠিকভাবে ‘মোকাবিলা করতে ব্যর্থতার’ কথাও স্বীকার করেছে৷

অভিযোগকারীদের ৮০ শতাংশই পুরুষ, বাকি ২০ শতাংশ নারী৷ অন্তত ৬৫৪ জন যাজক, যাজিকা এবং চার্চ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এসেছে এসব অভিযোগ৷

অধিকাংশ অভিযোগকারীই মারা গেছেন

ডিওকে জানিয়েছে, অভিযোগকারীদের ৮০ শতাংশই মারা গিয়েছেন, ৩৭ জন চার্চের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন৷ জার্মান চার্চের ৩৯২টি অর্ডারের মধ্যে ২৯১টি জরিপে অংশ নিয়েছে৷ অংশগ্রহণকারীদের এক তৃতীয়াংশই জানিয়েছে তারা এমন যৌন হয়রানির অভিযোগ পেয়েছেন৷ এসব অভিযোগের কিছু কিছু ১৯৫০ এবং ৬০ এর দশকের৷ তখন স্থানীয় অনেক স্কুল এংব বোর্ডিং স্কুল পরিচালিত হতো যাজক ও যাজিকাদের অধীনে৷

জার্মানির চার্চের সদস্যদের ৭৫ শতাংশই নারী হলেও বেশিরভাগ যৌন হয়রানির অভিযোগ এসেছে পুরুষ যাজকদের বিরুদ্ধেই৷ অভিযোগকারী বা অভিযুক্তদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য গবেষণায় প্রকাশ করা হয়নি৷ ডিওকে জানিয়েছে নাম বা পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তেই এই গবেষণায় অংশ নিয়েছে চার্চের অংশগুলো৷

চার্চের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে জার্মান সমাজের বিভিন্ন অংশ৷ কিন্তু ক্যাথলিক সংগঠনগুলো বরাবরাই এর বিরোধীতা করায় তাদের সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে৷

তদন্তের সুবিধার জন্য অভিযোগকারীদের সংগঠন ‘একিগার টিশ’ এই জরিপ এবং গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য ও কাগজ সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়েছে৷ ডিওকে জানিয়েছে গবেষণা ও জরিপে যৌন হয়রানির যেসব ঘটনার উঠে এসেছে, বাস্তবে এ সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি৷

তবে নিজেদের সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ নিয়ে কথা বলার এখনই সময় বলে মনে করে ডিওকে৷ সংগঠনের চেয়ারওম্যান কাটারিনা ক্লুইটমান বলেন, ‘‘হ্যাঁ, আমাদের সম্প্রদায়ের ভাই ও বোনেরা বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানি করেছেন৷ এই ধরনের কর্মকাণ্ড অভিযোগকারীদের জীবনে অবর্ণনীয় দুর্দশা বয়ে এনেছে৷''

অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় অনেকেই আবার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন কাটারিনা৷

এডিকে/ (ডিপিএ, ইপিডি, কেএনএ, এএফপি)

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন