জার্মান ক্রিসমাস বাজার স্বাভাবিক | বিশ্ব | DW | 15.12.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জার্মানি

জার্মান ক্রিসমাস বাজার স্বাভাবিক

বুধবার থেকে বন্ধ হয়ে যাবে দোকানপাট। তার আগে জার্মানরা ক্রিসমাসের বাজার সেরে ফেলছেন। তবে দোকানে গুঁতোগুঁতি নেই।

বুধবার শুরু জার্মানিতে নতুন করে লকডাউনের কড়াকড়ি শুরু হচ্ছে। বড়দিনের সময় করোনা যাতে ছড়িয়ে না পড়ে তার জন্য এই পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। তবে কড়াকড়ি ঘোষণা হলেও মানুষের মধ্যে গত লকডাউনের মতো প্যানিক সৃষ্টি হয়নি।

''কাজের ফাঁকে ছোট্ট বিরতি নিয়ে দোকানে এসেছি। এখনো বেশ কিছু ক্রিসমাস উপহার কেনা বাকি।'' দোকানের বাইরে দাঁড়িয়ে এক নারী জানিয়েছেন ডিডাব্লিউকে। বার্লিনের ঠিক বাইরে একটি ফার্নিচারের দোকানে ঢুকেছিলেন তিনি। ডিডাব্লিউকে তিনি বলেছেন, ''ভেবেছিলাম দোকানে আরো লোক থাকবে। লাইনে দাঁড়াতে হবে। কিন্তু এসে দেখলাম তত ভিড় নেই।''

লকডাউন নিয়ে কোনো প্যানিক নেই এখানে। আর পাঁচটা ক্রিসমাসের মতোই মানুষ দোকানে যাচ্ছেন, জিনিসপত্র কিনছেন। অক্টোবর-নভেম্বরে যত মানুষকে দোকানপাটে দেখা যেত, তার চেয়ে অনেক বেশি মানুষকে এখন দেখা যাচ্ছে।

দোকানে মানুষের সংখ্যা আগের চেয়ে বেশি। তবে তার জন্য লকডাউনের নিয়ম ভাঙছে না। দোকানে দোকানে ভিড় উপচে পড়ছে না। নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষ দোকানে ঢুকছেন। প্রতিটি দোকানেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা রয়েছে। বেশি মানুষকে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। 

ওই ফার্নিচারের দোকানের পাশেই একটি শপিং সেন্টার আছে। সেখানে বিক্রি হচ্ছে ক্রিসমাস ট্রি। সেখানেও পরিস্থিতি একইরকম। দোকানে ঢোকার জন্য সেখানেও গুঁতোগুঁতি হচ্ছে না। মানুষ পছন্দের জিনিস খুঁজে নিতে পারছেন।

লকডাউন, কীসের লকডাউন?

''ক্রিসামস এসে গিয়েছে। জিনিসপত্র কিনতে একটু দেরি হয়ে গিয়েছে এ বার।'' দোকানে ঢুকতে ঢুকতে ডিডাব্লিউকে জানিয়েছেন এক পেনশনভোগী ব্যক্তি।

''বুধবার থেকে দোকানপাট যে বন্ধ থাকবে, আপনার কাছেই প্রথম শুনলাম। লকডাউনের কড়াকড়ির বিষয়টি জানাই ছিল না।'' ডিডাব্লিউ সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে অকপট স্বীকারোক্তি ওই ব্যক্তির। 

''আমি জানতাম লকডাউনের বিষয়টি। কিন্তু স্বামীকে জানাইনি। কেনাকাটার ক্ষেত্রে ওর উপর কোনো চাপ সৃষ্টি করতে চাইনি।'' পাশেই দাঁড়িয়ে বলেন ওই ব্যক্তির স্ত্রী।

সুপারস্টোর

বার্লিনের শহরতলিতে একটি সুপারস্টোরে অবশ্য বেশ ভিড় দেখা গেল। গাড়ি চালকরা পার্কিংয়ের জায়গা পাচ্ছিলেন না। তবে স্টোরের ভিতর খুব বেশি হুড়োহুড়ি চোখে পড়েনি। ভিড় মোকাবিলার জন্য তৈরি ছিলেন কর্মীরা।

''ঘর সাজানোর জন্য আরো বেশ কিছু জিনিস কিনতে এসেছি। নতুন বছরের আগে সব কিছু সাজিয়ে ফেলতে হবে।'' ডিডাব্লিউকে জানান দোকানে আসা এক যুবক। ''লকডাউন শুরু হয়ে গেলে আর কিছু কেনা যাবে না। তাই আমরা এখনই জিনিস কিনতে চলে এসেছি। আমি এবং বাচ্চারা স্বামীকে সাহায্য করব ঘর সাজাতে।'' পাশেই দাঁড়িয়ে জানিয়েছেন ওই ব্যক্তির স্ত্রী।

প্রথম লকডাউনে জার্মানদের মধ্যে প্যানিক দেখা গিয়েছিল। দোকানে দোকানে ভিড় উপচে পড়েছিল। সকলে জিনিসপত্র কেনার জন্য লম্বা লাইন দিয়েছিলেন। দোকান ফাঁকা করে সকলে অতিরিক্ত জিনিস কিনে নিয়ে গিয়েছিলেন। এ বার সেই ছবি দেখা যাচ্ছে না। ''লকডাউনের কড়াকড়ি যে শুরু হতে চলেছে, তা আগে থেকেই সকলে জানতেন। তাই অনেক আগেই সকলে ক্রিসমাসের বাজার করে নিয়েছেন।'' দোকানের বাইরে দাঁড়িয়ে বলেন এক নারী।

গ্রৌপনার হার্ডি/এসজি

সংশ্লিষ্ট বিষয়