জার্মানির রাজনীতিকেরা কি শিক্ষা নেবেন? | বিশ্ব | DW | 05.03.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি

জার্মানির রাজনীতিকেরা কি শিক্ষা নেবেন?

অবশেষে আঙ্গেলা ম্যার্কেলের নেতৃত্বে আরো একবার তৈরি হচ্ছে জার্মান সরকার৷ তবে এবারের রাস্তা খুব সহজ ছিল না৷ অতীত থেকে কি শিক্ষা নেবেন রাজনীতিকেরা? প্রশ্ন তুললেন, ডয়চে ভেলের প্রধান সম্পাদক ইনেস পোল৷

যাকে বলে, খাদের কিনার থেকে উঠে আসা৷ আশা যখন প্রায় অস্ত যেতে বসেছিল, ঠিক তখনই সমাধানসূত্র মিললো৷ জার্মানির সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি বা এসপিডি মহাজোটের পক্ষে সমর্থনসূচক ভোট দিলো৷ জানা গেছে, মার্চের শেষ সপ্তাহের আগেই নতুন সরকার তৈরি হয়ে যাবে৷ সম্ভবত ইস্টারের আগেই৷

তবে এই সমাধান সূত্রে পৌঁছানো সহজ ছিল না৷ জোট আলোচনা থেকে জোট সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত, কোনো বিষয়ই খুব সহজে হয়নি৷ এসপিডি'র তারকা রাজনীতিক মার্টিন স্কুলৎসও সমস্যার প্রাথমিক সমাধান করতে পারেননি৷ অন্যদিকে আঙ্গেলা ম্যার্কেলও যথেষ্ট চাপের মধ্যে ছিলেন৷ কারণ, জোট না হলে তাঁর পক্ষে আরো একবার ক্ষমতায় আসা সম্ভব ছিল না৷ কারণ, তাঁর দলও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি৷ ফলে জোট রাজনীতির এই নতুন বিশ্বে অন্যান্য দলের ওপর তাঁকে ভরসা করতেই হচ্ছিলো৷

জার্মানির রাজনীতিতে এ এক নতুন অধ্যায়৷ ১৯৪৯ সালে জার্মান ফেডেরাল রিপাবলিক তৈরি হয়৷ সেই তখন থেকেই জার্মানির প্রধান দু'টি দল কখনো মিলেঝুলে সরকার গঠন করেছে, কখনো একক ক্ষমতাতে সরকারে এসেছে৷ গত ১২ বছরে বিষয়টি আরো সহজ হয়ে গিয়েছিল৷ ম্যার্কেল চ্যান্সেলর থেকেছেন৷ জার্মানির রাজনীতিতেও চোখে পড়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি৷

অঙ্ক জটিল করে দিয়েছে জার্মান রাজনীতিতে হঠাৎ করে প্রাধান্য পেয়ে যাওয়া অতি দক্ষিণপন্থি এএফডি পার্টি৷ সংসদেও তারা নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে৷ আগে যে সমস্ত দলকে বড় বলে মনে করা হতো, গত নির্বাচনে তারা ছোট দলে পরিণত হয়েছে৷ আর এএফডি'র মতো নগণ্য দলগুলি হঠাৎ করে বড় হয়ে উঠেছে৷ এর ফলে সরকার তৈরির অঙ্কগুলিই বদলে গিয়েছিল৷

পরিচয়ের খোঁজে জার্মানি

নতুন করে উদ্ভূত এই পরিস্থিতিই জার্মানির বর্তমান অবস্থাটি স্পষ্ট করে দেয়৷ গত কয়েক দশকে জার্মানির মূল রাজনৈতিক দলগুলি তাদের নিরাপদ ভোটারদের এতটাই বিতশ্রদ্ধ করে তুলেছে যে, এখন তাঁরা নিজেদের মতামত বদলে ফেলেছেন৷ জার্মানদের বর্তমান পরিস্থিতি, ভয়, ভাবনা কোনো কিছুকেই সেভাবে বুঝতে চাইছে না পুরনো দলগুলি৷ মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারছে না তারা৷ জার্মানদের একটা বড় অংশ মনে করছেন, তাঁরা যেভাবে জীবনযাপন করতে অভ্যস্ত, সেখানে একটা হুমকি তৈরি হয়েছে৷ মূলস্রোতের রাজনীতিকেরা জার্মান জনগণকে বোঝাতে পারছে না, কীভাবে বিশ্বায়িত বিশ্বের সামনে জার্মান পরিচয়, মূল্যবোধ, সংস্কৃতিকে খাপ খাইয়ে নেওয়া হবে৷

ট্রাম্প- শি জিন পিং-পুটিনের বিশ্বে জার্মানির অবস্থান কী হবে, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে জার্মানির জায়গা ঠিক কোন জায়গায়, কী তার বিদেশনীতি, কী তার অর্থনৈতিক ভাবনা, এর কোনো কিছুই মানুষকে বোঝাতে পারছে না মূলস্রোতের রাজনৈতিক দলগুলি৷

সেপ্টেম্বর মাসে জার্মানির নির্বাচন হয়েছিল৷ মার্চ পর্যন্ত সরকার তৈরি করা যায়নি৷ এই সময় পর্বে যে ঝড় বয়ে গেল জার্মান রাজনীতিতে, তার থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত রাজনীতিকদের৷ রাজনীতিবিদদের সাধারণ মানুষের কথা শুনতে হবে৷ মানুষকে বোঝাতে হবে, তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে৷ রাজনীতিকদের মানুষের কথা বুঝতে হবে৷ তাদের ভাবনাগুলো ধরতে হবে৷ পাশাপাশি খেয়াল রাখতে হবে পুরনো এবং ভয়ংকর জাতীয়বাদের ধোঁয়া যাতে আবার ফিরে না আসে৷ পাশাপাশি মহাজোটকে এমনভাবে কাজ করতে হবে যাতে জোটের প্রত্যেকটি দল তাদের নিজেদের বিশেষত্ব, নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান আলাদা রাখতে পারে৷ নইলে নিজেদের ভোটারদের কিন্তু ধরে রাখা যাবে না৷

ডয়চে ভেলের প্রধান সম্পাদক ইনেস পোল

ডয়চে ভেলের প্রধান সম্পাদক ইনেস পোল

মহাজোটের আলাদা আলাদা দলগুলি নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করতে না পারলে দু'টি দলই আগামী দিনে আরও ডুববে৷ নিজেদের ভোটারদের আরো বেশি করে হারাবে তারা৷ অন্যদিকে এএফডি'র মতো অতি দক্ষিণপন্থি দলগুলি নিজেদের দিকে আরো বেশি ভোটার টেনে নেবে৷

জরুরি অ্যালার্ম

আঙ্গেলা ম্যার্কেল এবার সরকার গঠন করতে পারেন৷ এতদিনের এই টালমাটাল স্পষ্ট করে দেয়, জার্মান রাজনীতিকদের সবকিছু নতুন করে গোছাতে হবে৷ এএফডি সংসদে ঢুকে পড়েছে৷ ফলে বুন্দেসটাগ বা জার্মান সংসদের চেহারা এবার অনেকটাই বদলাবে৷ বদলাবে সংসদের সংস্কৃতি৷ গ্রিন পার্টির রাজনীতিক চেম ও্যজদেমি'র অসাধারণ বক্তৃতা ইতিমধ্যেই বুঝিয়ে দিয়েছে, কীভাবে ঘৃণা এবং বিতারণের রাজনীতির সঙ্গে জুঝতে হবে৷ তুরস্কের শরণার্থীর সন্তান ও্যজদেমি বুঝিয়ে দিয়েছেন, পুরনো নাৎসি ভাবাদর্শ নয়, জার্মানির সংস্কৃতি, সম্মান, ঐতিহ্য আসলে জড়িয়ে সকলকে একসঙ্গে নিয়ে বাঁচার মধ্যে৷ অনেকদিন এত সুন্দর বক্তৃতা শোনা যায়নি জার্মান রাজনীতিকদের মুখ থেকে৷ যুক্তি দিয়ে লড়াই করতে হবে৷ একসময় বলা হতো, জার্মান রাজনীতিতে বিকল্প নেই৷ সেই দিন শেষ৷ একদিকে ভালো হয়েছে৷ শক্তিশালী প্রতিপক্ষ থাকলে সরকারে থাকা দলগুলি সচেতন থাকবে এবং মানুষের কথা ভাববে৷

আপনার কোনো মতামত থাকলে লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে৷

ইনেস পোল/এসজি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়