জার্মানির রন্ধ্রে ঘৃণার বসতি | জার্মানি ইউরোপ | DW | 21.02.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সংবাদভাষ্য

জার্মানির রন্ধ্রে ঘৃণার বসতি

জার্মানির অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, হানাওয়ের হত্যাকাণ্ড তীব্র ঘৃণারই ফল৷ এই নৃশংস সহিংসতা জার্মানির রাজনীতিবিদ এবং সুশীল সমাজের জন্য সতর্কবার্তা, বলছেন ডয়চে ভেলের প্রধান সম্পাদক ইনেস পোল৷

হানাও সবশেষ ঘটনা৷ কয়েক মাসের মধ্য়ে এ নিয়ে তৃতীয়বার জার্মানির বুকে ঘৃণার জয় হলো৷ গত জুনে রক্ষণশীল রাজনীতিবিদ ভাল্টার ল্যুবকে নিজের বাসায় খুন হন৷ শরণার্থীবান্ধব নীতির পক্ষে সোচ্চার ছিলেন তিনি৷ অক্টোবরে হালে শহরে এক সিনাগগে (ইহুদিদের উপাসনালয়) রক্তাক্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়৷

(সিনাগগের নিরাপত্তা কর্মীরা এক-দুইজন সশস্ত্র ব্যক্তিকে সিনাগগে প্রবেশে বাধা দিতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন স্থানীয় ইহুদি সম্প্রদায়ের নেতা মাক্স প্রিভোরোৎসকি৷ তিনি জানান, ঘটনার সময় সিনাগগে ৭০-৮০ জন প্রার্থনাকারী ছিলেন৷ ইহুদি ধর্মে বছরের সবচেয়ে পবিত্র দিন ‘ইয়ম কিপুর’ উপলক্ষ্যে তাঁরা সিনাগগে গিয়েছিলেন৷ তবে হামলায় দুজনের প্রাণহানি ঘটে৷)

এখন হানাওয়ে ১০ জনকে হত্যা করা হলো৷ হত্যাকারী দুটি শিশা বারে হামলা চালানোর আগে বর্ণবাদ ও যড়যন্ত্রতত্ত্বমূলক বক্তব্য দিয়ে একটি ভিডিও রেকর্ড করে৷ শেষ পর্যন্ত সে তার নিজের মাকেও হত্যা করে৷ 

হত্যাকারীদের উর্বর ক্ষেত্র জার্মানি

এই সব হত্যাকারীই জার্মান জাতি সম্পর্কে তাদের নিজেদের ধারণার সঙ্গে মেলে না, এমন সব বিষয়ে ঘৃণার চর্চা করতো৷ এরা কোনো চরম ডানপন্থি ব্যক্তি বা সংগঠনের সঙ্গে জড়িত কিনা তা বিবেচনার বিষয় নয়৷ বরং আমাদের এটা মেনে নিতে হবে যে, এমন ঘৃণার চর্চা জার্মানির রন্ধ্রে পৌঁছে গিয়েছে৷

রাজনীতিবিদ এবং সুশীল সমাজকে এটা স্বীকার করতে হবে যে, এই হত্যাকারীদের উর্বর ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে জার্মানি৷ আর তাদের বর্ণবাদী, বিদ্বেষমূলক এবং উগ্র ডানপন্থি নীতি সমাজের কিছু অংশে আবারও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে৷

এই হত্যাকাণ্ডগুলো বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়৷ ঘটনাগুলো উদারপন্থি রাজনীতি, ইহুদি না মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘটছে, তার চেয়ে বড় কথা জার্মানির বর্তমান সামাজিক কাঠামোতে এরা আবার মাথাচাড়া দেয়ার সুযোগ পাচ্ছে৷ আমাদের জন্য এটা একটা সতর্কবার্তা৷ ধর্ম-বর্ণ-জাতি-লিঙ্গ নির্বিশেষে সংবিধান অনুসারে সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে রাষ্ট্রকেই৷

Herbsttreffen der Medienfrauen 2017 Ines Pohl

ইনেস পোল, ডয়চে ভেলের প্রধান সম্পাদক

অনলাইনেও ছড়াচ্ছে ঘৃণা

ইন্টারনেটে যে ঘৃণা ও পাগলামি ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে, তা বন্ধে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে? তথ্যপ্রবাহের অবাধ স্বাধীনতার নামে যে-কোনো কিছু করার স্থান নয় ইন্টারনেট৷ হানাওয়ের ঘটনা প্রমাণ করে এসব ঘৃণা কী পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে৷

রাজনীতিবিদদের শুধু কথা নয়, কাজের মাধ্যমে দ্রুত এবং স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে হবে৷ নয়তো একসময় তা এমন এক অবস্থায় পৌঁছাবে, আমরা সাংবিধানিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় যা করেছি, ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষায় যা করেছি, সবই পড়বে হুমকির মুখে৷ জার্মান চ্যান্সেলর ভালোই বলেছেন, ‘‘বর্ণবাদ বিষের মতো’’৷ কিন্তু এটা মনে করাই যথেষ্ট নয়৷ সকল অমানবিক মতাদর্শের চর্চা এবং অনলাইনে ছড়িয়ে দেয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে৷ এর দায়িত্ব কেবল ফেসবুক বা টুইটারের ওপর ছেড়ে দিলে চলবে না৷

ইনেস পোল/এডিকে

গত অক্টোবরের ছবিঘরটি দেখুন...

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন