জার্মানির বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষার উদ্যোগ | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 23.07.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জার্মানি

জার্মানির বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষার উদ্যোগ

জার্মানির ফেডারেল ও রাজ্য স্তরের স্বাস্থ্যমন্ত্রীরা বিমানবন্দরে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ থেকে আসা যাত্রীদের করোনা পরীক্ষা চালু করতে চলেছেন৷ সম্ভবত শুক্রবার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে৷

জার্মানি এতকাল করোনা ভাইরাসের ধাক্কা মোটামুটি ভালোভাবে সামলে নিয়েছে৷ অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় সে দেশে জনজীবন অপেক্ষাকৃত স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে৷ ডাক্তার, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য পরিষেবা কাঠামোর উপর বাড়তি চাপও এড়ানো সম্ভব হয়েছে৷ কিন্তু তা সত্ত্বেও সংক্রমণ ঘটে চলেছে৷ বিশেষ করে বিদেশ থেকে আসা মানুষ অনেক ক্ষেত্রেই সংক্রমণের উৎস হয়ে উঠছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে৷ সেই ঝুঁকি এড়াতে ফেডারেল ও রাজ্য স্তরের স্বাস্থ্যমন্ত্রীরা বিমানবন্দরে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ থেকে আসা মানুষের জন্য করোনা পরীক্ষা চালু করার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন৷

জার্মানির ফেডারেল স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইয়েন্স স্পান ১৬টি রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আলোচনার পর নীতিগতভাবে এমন পরীক্ষা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷ তবে সংবাদ সংস্থা ডিপিএ-র সূত্র অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় নি৷ শুক্রবার খুঁটিনাটি বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হবার কথা৷ তখন ব্যয়ভার ইত্যাদি বিষয়গুলি নিয়ে কথা হবে৷ তাছাড়া বিমানবন্দরের কর্মীদের পক্ষে করোনা পরীক্ষা চালানো সম্ভব হবে না বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপর সেই দায়িত্ব নেবার জন্য চাপ বাড়ছে৷ বিমানবন্দরগুলির সংগঠন সেইসঙ্গে প্রশ্ন তুলছে, কোনো যাত্রীর শরীরে করোনা শনাক্ত করা গেলে কী করা হবে?

বর্তমানে ‘হাই রিস্ক' বা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলি থেকে জার্মানিতে আসা যাত্রীদের নিজস্ব উদ্যোগে ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হয়৷ কিন্তু সেই পদক্ষেপ বাস্তবে কার্যকর করা বেশ কঠিন হচ্ছে৷ রবার্ট কখ ইনস্টিটিউট এই মূহুর্তে বেশিরভাগ দেশকেই ‘হাই রিস্ক' পর্যায়ে রেখেছে৷ ফ্রান্স, স্পেন, গ্রিস-সহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশিরভাগ দেশকে ‘লো রিস্ক' বা কম ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রাখা হয়েছে৷ প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী সেখান থেকে আসা মানুষকে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করাতে হবে না৷ 

ইউরোপে মহামারি মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে আসার কারণে ভ্রমণের উপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে৷ গ্রীষ্মকালীন ছুটির সময়ে জার্মানির অনেক মানুষ স্পেন ও গ্রিসের মতো দেশে বেড়াতে গেছেন৷ কিন্তু জার্মানদের প্রিয় গন্তব্য স্পেনের মাইয়র্কা দ্বীপে মাস্ক বা সামাজিক ব্যবধান ছাড়া পর্যটকদের বেপরোয়া আচরণের খবর ছড়িয়ে পড়ায় জার্মান রাজনীতিক নড়েচড়ে বসছেন৷

জার্মানির চিকিৎসক সংগঠনের প্রধান ক্লাউস রাইনহার্ট ডিপিএ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিমানবন্দরে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা চালু করার পক্ষে সওয়াল করেছেন৷ তাঁর মতে, করোনা মহামারি মোটেই শেষ হয়ে যায়নি৷ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে সংক্রমণের হার বেড়ে চলায় জার্মানিতেও আচমকা আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে তিনি মনে করেন৷ তাছাড়া অনেকে গ্রীষ্মের ছুটির পর সংক্রমণের হার বাড়ার আশঙ্কা করছেন৷ হেমন্তকালে তাপমাত্রা কমে গেলেও করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ৷

এসবি/এসিবি (ডিপিএ, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়