জার্মানির প্রাচীনতম শিক্ষায়তন হাইডেলব্যার্গ বিশ্ববিদ্যালয় | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 03.05.2010
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সমাজ সংস্কৃতি

জার্মানির প্রাচীনতম শিক্ষায়তন হাইডেলব্যার্গ বিশ্ববিদ্যালয়

জার্মানির সবচেয়ে পুরনো বিদ্যাপীঠ হাইডেলব্যার্গ বিশ্ববিদ্যালয়৷ গবেষণা-ভিত্তিক উচ্চ শিক্ষার দিক থেকেও ইউরোপের সবচেয়ে বিখ্যাত শিক্ষায়তন এটিই৷ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আজ থেকে ৬২৪ বছর আগে৷ ১৩৮৬ সালে৷

হাইডেলব্যার্গ বিশ্ববিদ্যালয়

হাইডেলব্যার্গ বিশ্ববিদ্যালয়

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী ক্যাম্পাসের পরতে পরতে রয়েছে অগণিত প্রখ্যাত দার্শনিক, বিজ্ঞানী, ইতিহাসবিদ, শিল্পী এবং কবি-সাহিত্যিকের স্মৃতিচিহ্ন৷ জড়িয়ে রয়েছে মার্টিন লুথার, ইয়োহান ভোল্ফগাঙ ফন গ্যোয়েটে, গেয়র্গ ভিলহেল্ম ফ্রিডরিশ হেগেল এবং ম্যাক্স ওয়েবারের জীবন-দর্শনের প্রেক্ষাপট৷

ধর্মতত্ত্ব, আইন, চিকিৎসা বিজ্ঞান, দর্শন, ভাষা, অর্থনীতি এবং সংস্কৃতিসহ বিজ্ঞানের মোট ১২টি অনুষদ রয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে৷ ১৮৪ টি বিভাগে ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে প্রায় ২৮ হাজার৷ উচ্চতর গবেষণায় রত আছেন আরো এক হাজার তরুণ গবেষক৷ অধ্যাপক রয়েছেন ৩৭৩ জন৷ তবে সবমিলিয়ে শিক্ষক সংখ্যা প্রায় চার হাজার৷ আর গ্রন্থাগার, ইন্সটিটিউট, কম্পিউটার সেন্টার, জাদুঘর, গবেষণাগার, ব্যায়ামাগারসহ বিভিন্ন দপ্তরে মোট কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ১২ হাজার৷

Alte Universität Heidelberg

জার্মানির প্রাচীনতম শিক্ষায়তন

বিশ্বের তিন শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে গবেষণা ও শিক্ষা কার্যক্রমের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে হাইডেলব্যার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের৷ প্রতিষ্ঠানটির স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীর ২০ শতাংশই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা আন্তর্জাতিক ছাত্র-ছাত্রী৷ আর ডক্টরেট ডিগ্রির সাথে সম্পৃক্ত গবেষকদের এক-তৃতীয়াংশই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী৷ মধ্য এবং পূর্ব ইউরোপ, ল্যাটিন আমেরিকা, উত্তর অ্যামেরিকা এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে শাখাকেন্দ্রের মাধ্যমে বিস্তৃত রয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কর্মসূচি৷ দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন দিল্লি, কলোম্বো, কাঠমাণ্ডু এবং ইসলামাবাদে রয়েছে এই শিক্ষায়তনটির উপ-শিক্ষা কার্যক্রম৷

হাইডেলব্যার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারটি জার্মানির দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠতম গ্রন্থাগারের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত৷ ২০০৯ সালে টানা দ্বিতীয়বারের মতো এই স্বীকৃতি পেয়েছে তারা জার্মান গ্রন্থাগার সূচকের বিবেচনায়৷ প্রতিবছর এই গ্রন্থাগারে ভিড় করে প্রায় ২০ লাখেরও বেশি জ্ঞানপিপাসু মানুষ৷

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য ইন্সটিটিউটের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ইন্সটিটিউট৷ বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ এবং শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন বিষয়ের উপর গবেষণাধর্মী শিক্ষার জন্য ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় এই বিশেষ ইন্সটিটিউট৷

Universität Heidelberg, WiSo-Vorlesung

হাইডেলব্যার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের একাংশ (ফাইল ছবি)

দক্ষিণ এশিয়ার প্রাচীন আর আধুনিক দর্শন, ধর্মতত্ত্ব, শিল্প-সাহিত্য, লোকসংস্কৃতির ইতিহাস আর ঐতিহ্য নিয়ে উচ্চতর গবেষণা চালু রয়েছে এই ইন্সটিটিউটে৷ ইনস্টিটিউটের রয়েছে বাংলা, হিন্দি, উর্দু, সংস্কৃত ভাষা শিক্ষার কোর্স৷ এই দক্ষিণ এশিয়া ইনস্টিটিউটে স্নাতকোত্তর শ্রেণীতে লেখাপড়া করছেন বাংলাদেশি ছাত্র মো. সালাউদ্দিন বিশ্বাস৷ দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষিতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘‘দক্ষিণ এশিয়া সম্পর্কে এখানে বিশেষভাবে পড়ানো হয়৷ এখানে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-প্রকৃতি, ইতিহাস, রাজনীতি, সমাজতত্ত্ব, নৃতত্ত্ব এমনকি মেডিকেল অ্যান্থ্রোপোলজি পড়ানো হয়৷ তারপরে এখানে রয়েছে অত্যাধুনিক শ্রেণীকক্ষ৷ প্রত্যেকটা শ্রেণীকক্ষই যেন একেকটি গবেষণাগার৷ আর এখানকার শিক্ষকদের যে গুণাবলী, সত্যিকার অর্থেই তা অভূতপূর্ব৷''

জার্মানিতে লেখাপড়া করতে এসে তাঁর বিশেষ অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সালাউদ্দিন বলেন, ‘‘এখানকার প্রত্যেকটি জিনিসই আমার কাছে নতুন অভিজ্ঞতা৷ প্রথমে বলতে হবে ভাষার কথা৷ জার্মান ভাষা না জানলে এখানে চলাই মুশকিল৷ আমি যখন প্রথম বার্লিনে আসলাম, তখন আমি এখানে একটি প্রতিষ্ঠানে ভাষা শিখতে যেতাম৷ প্রথম দিন ঐ প্রতিষ্ঠানে যেতে আমার সময় লেগেছিল আড়াই ঘণ্টা৷ অথচ সেখানে যেতে প্রকৃতপক্ষে সময় লাগে মাত্র ১৫ মিনিট৷ এর পেছনে কারণ ছিল আমি তখন জার্মান ভাষা জানতাম না৷''

তাঁর মন্তব্য, ‘‘বাংলাদেশ, ভারত তথা দক্ষিণ এশিয়া থেকে এখানে একজন-দু'জন নয়, ঝাঁকে ঝাঁকে ছাত্র-ছাত্রী পড়তে আসা উচিত৷ আর শুধু ছাত্র-ছাত্রীই নয়, আমাদের শিক্ষাগুরুদেরও এখানে আসা উচিত এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা দেখার জন্য৷ বিশেষ করে হাইডেলব্যার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে আমার কাছে মনে হয়েছে যে, আমি যেন নতুন করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম৷''

প্রতিবেদক : হোসাইন আব্দুল হাই

সম্পাদনা : আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন