জার্মানির নয়, রাশিয়ায় তৈরি গাড়িতে চড়লেন পুটিন | বিশ্ব | DW | 08.05.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

রাশিয়া

জার্মানির নয়, রাশিয়ায় তৈরি গাড়িতে চড়লেন পুটিন

চতুর্থবারের মতো রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে সোমবার শপথ নিয়েছেন ভ্লাদিমির পুটিন৷ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তিনি এবার রাশিয়ার তৈরি লিমুজিন বেছে নিয়েছেন৷

অতীতে পুটিন জার্মান গাড়ি নির্মাতামার্সিডিজের গাড়ি ব্যবহার করেছেন৷ এবার গাড়ি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে তিনি দেশবাসীকে একটি সাধারণ বার্তা দেয়ার চেষ্টা করেছেন আর সেটি হচ্ছে, আমদানি কমিয়ে দেশেই প্রয়োজনীয় পণ্য তৈরির চেষ্টা করতে হবে৷

২০১৪ সালে ইউক্রেনের ক্রাইমিয়া দখলের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ রাশিয়ার উপর একের পর এক আর্থিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে চলেছে৷ তার প্রভাব পড়ছে রুশ অর্থনীতির উপর৷ ব্যাপারটি সাধারণ রুশ নাগরিকরা পছন্দ করছেন না৷ রাশিয়ার স্বাধীন জরিপ পরিচালনা সংস্থা লেভাদা সেন্টারের সবশেষ জরিপ বলছে, অধিকাংশ রুশ নাগরিক পুটিনের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে সন্তুষ্ট৷ কিন্তু পুটিনের বিরুদ্ধে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মূল অভিযোগ অর্থনীতি নিয়ে৷ ৪৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, দেশের আয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ন্যায্যভাবে বিতরণ করতে পারছেন না পুটিন৷

বিষয়টি অনুধাবন করেই হয়ত পুটিন শপথ নেয়ার কয়েক ঘণ্টা পর আগামী ছয় বছরের জন্য তাঁর লক্ষ্যমাত্রার যে ফিরিস্তি দিয়েছেন তাতে ২০২৪ সালের মধ্যে দারিদ্র্যতার হার অর্ধেকে নামিয়ে আনার কথা বলেছেন৷ এছাড়া পেনশনের পরিমাণ বাড়ানো ও গড় আয়ু ৭৮ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন পুটিন৷

ভিডিও দেখুন 01:39
এখন লাইভ
01:39 মিনিট

Russia preparing for more cyberattacks?

শপথ গ্রহণের পর দেয়া বক্তব্যে পুটিন আগামী ছয় বছরে নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছেন৷ ‘‘মানুষ আরও ভালভাবে বাঁচবে,'' বলেন তিনি৷

শপথ অনুষ্ঠানে জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর

জার্মানিসহ পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কে নানা টানাপোড়েন চলছে৷ এই অবস্থার মধ্যে সোমবার পুটিনের শপথ অনুষ্ঠানে জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর গেয়ারহার্ড শ্র্যোডারের উপস্থিতি নানান প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে৷ ১৯৯৮ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সামাজিক গণতন্ত্রী এসপিডি দলের এই নেতা৷

শপথ অনুষ্ঠানে প্রথম সারিতে রুশ প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভের পাশে বসতে দেখা গেছে৷ রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ তৃতীয় কিংবা চতুর্থ সারিতে আসন পেয়েছিলেন৷ অনুষ্ঠানে প্রায় পাঁচ হাজার অতিথি উপস্থিত ছিলেন৷

শুধু তাই নয়, শপথ নেয়ার পর পুটিনের সঙ্গে হাত মেলানো দ্বিতীয় ব্যক্তি ছিলেন জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর শ্র্যোডার৷ রুশ প্রধানমন্ত্রী মেদভেদেভের আগেই এই সুযোগ পান শ্র্যোডার৷

জার্মানির এই সাবেক চ্যান্সেলর গত বছর রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি রোসনেফট'এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন৷ তিনি প্রায়ই রাশিয়ার উপর থেকে পশ্চিমা বিশ্বের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া উচিত বলে মন্তব্য করে থাকেন৷ রাশিয়ার প্রতি শ্র্যোডারের এমন আনুকুল্যের সমালোচনা করেছেন সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরা৷ জার্মানির সরকারি প্রচারমাধ্যমের একজন সাংবাদিক এখন থেকে শ্র্যোডারকে ‘রুশ লবিয়িস্ট' হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া যুক্তিসংগত হবে বলে মনে করছেন৷ জার্মানির গ্রিন পার্টির অন্যতম প্রধান বলেছেন, ভাড়াটে প্রশংসাকারী না হয়ে শ্র্যোডারের উচিত রাশিয়ার গণতন্ত্রের ত্রুটি নিয়ে কথা বলা৷

শ্র্যোডারের দল এসপিডি ও শাসক দল সিডিইউর পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি৷

ম্যার্কেলের রাশিয়া সফর

পুটিনের শপথ অনুষ্ঠানে শ্র্যোডারের উপস্থিতি নিয়ে সমালোচনার মধ্যে জার্মানির বর্তমান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল দশদিন পর রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন৷ দক্ষিণ রাশিয়ার সোচি শহরে তিনি  রুশ প্রেসিডেন্ট পুটিনের সঙ্গে আলাপ করবেন৷ তার আগে সংক্ষিপ্ত নোটিশে জার্মানির অর্থনীতি বিষয়ক মন্ত্রী পেটার আল্টমায়ার ১৩ ও ১৪ তারিখে রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন৷ সেই সময় তিনি অর্থনীতি ও জ্বালানি খাত নিয়ে আলোচনা করবেন৷ ম্যার্কেল ও পুটিনের মধ্যকার বৈঠকের প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়েও রুশ সরকারের সঙ্গে কথা বলবেন আল্টমায়ার৷

পুটিনের কাছে প্রত্যাশা

চতুর্থবার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেয়া পুটিন তাঁর আগের মেয়াদগুলোর নীতিই চালিয়ে যাবেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা৷ জার্মানির গ্যোটিঙেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মানফ্রেড হিল্ডারমায়ার ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘(পুটিনের শাসন ব্যবস্থা) আরও কর্তৃত্বপরায়ণ হয়ে, স্বৈরাচারী অবস্থা পর্যন্ত যাবে না৷'' তবে পুটিনের জন্য সেটি প্রয়োজন নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি৷ ‘‘তিনি বিশ্বকে গণতন্ত্রের ধোঁয়াশাযুক্ত একটি পর্দা দেখাতে চান,'' বলেন হিল্ডারমায়ার৷

রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কাজ করা জার্মান সরকারের সাবেক প্রতিনিধি গেয়ারনট এর্লার মনে করেন, পুটিন তাঁর নতুন মেয়াদে আগের মেয়াদের নীতিগুলো ‘ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে' যাবেন৷

পুটিনের আগের মেয়াদের শেষ কয়েক বছরে রাশিয়ায় কয়েকজন মানুষের একসঙ্গে একত্র হওয়ার ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের ভয় দেখানো হয়েছে, ইন্টারনেট ও সামাজিক মাধ্যমের নেটওয়ার্কগুলোর উপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে৷ ‘‘আমার আশঙ্কা, গণতান্ত্রিক চর্চার সুযোগ ধ্বংস হয়ে যাবে,'' বলেন জার্মানির লুডভিগ মাক্সিমিলিয়ান ইউনিভার্সিটির পূর্ব ইউরোপের ইতিহাসের অধ্যাপক মার্টিন শ্যুলৎস ভেসেল৷

রোমান গনচারেঙ্কো/জেডএইচ (এএফপি, রয়টার্স, ডিপিএ, এপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন