জার্মানির কারাগারে উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে লড়াই | বিশ্ব | DW | 09.08.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জার্মানি

জার্মানির কারাগারে উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে লড়াই

প্যারিস, ব্রাসেলস ও বার্লিনে সন্ত্রাসী হামলাকারীরা কারাগারের ভেতরে সহিংস মৌলবাদের ধারণায় উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন৷ চরমপন্থার বিস্তার ঠেকাতে জার্মানির কারাগারগুলোতে নেয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ৷

জার্মানির সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য নর্থ রাইন ওয়েস্টফালিয়া৷ এখানে ৩৬টি কারাগার আছে৷ তার একটি বখুম শহরে৷ বাটুহান (ছদ্মনাম) ২০১৪ সাল থেকে এই কারাগারে জালিয়াতির অভিযোগে সাজা ভোগ করছেন৷  এই রাজ্যের ১৬ হাজার কারাবন্দির এক চতুর্থাংশ মুসলিম৷ বাটুহান তাদের একজন৷ তিনি সাধারণ অপরাধী৷

তবে রাজ্যের কারাগারগুলোতে এ বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সহিংস উগ্রবাদের ধারণায় উদ্বুদ্ধ এমন ৩৩ জন মুসলিম আটক আছেন৷ তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলেও অনুমতি মেলেনি৷ তবে বাটুহানের মতো সাধারণ কয়েদিদের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছে ডয়চে ভেলে৷ 

তার মতে, অনেক বন্দির কাছে ধর্ম খুব গুরুত্বপূর্ণ, তিনি যে ধর্মেরই হোন না কেন৷ বলেন, অন্য বন্দিদের সঙ্গে ইসলাম নিয়ে আলোচনা করেছেন তিনি৷ ইসলামের নামে যখনই কোনো সন্ত্রাসী হামলা হয়, ‘‘তখন এর কারণ নিয়ে আমরা আলোচনা করি৷''

সাধারণ বন্দিদের সঙ্গে ইসলাম নিয়ে আলোচনার নামে অনেকে জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাসবাদের ধারণা ঢুকিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে৷ জার্মানির কারাগারগুলোতে এমন চেষ্টার খবর আগেও মিলেছে৷ গত বছর জার্মানির শহর কার্লসরুহের ফেডেরাল প্রসিকিউটরস অফিস এমন ৮৫৫টি ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত করেছে৷

এছাড়া গত বছরের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সিরিয়ার কুর্দিশ এলাকায় আইএস-এর পরাজয়ের পর আটককৃতদের ১২০ জন জার্মান বা জার্মানির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত৷

ইউরোপে এর আগে যতজন মুসলিম সন্ত্রাসী হামলা করেছেন তারা বেশিরভাগই কারাগারের ভেতরে অন্য বন্দির মাধ্যমে উগ্রপন্থায় উদ্বুদ্ধ হয়েছেন৷ ২০১৫ সালে প্যারিস ও ২০১৬ সালে ব্রাসেলসে হামলায় জড়িতরা কারাগারে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন৷ এমনকি ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে বার্লিনে ক্রিস্টমাস মার্কেট হামলায় সাত জন মারা যান৷ এই আমলার হোতা আনিস আমরিও একইভাবে কারাগার থেকেই উগ্রভাবাপন্ন হয়ে ওঠেন৷

লন্ডন কিংস কলেজের .ব্যাডিক্যালাইজেশন রিসার্চ সেন্টারের গবেষণা বলছে, পশ্চিম ইউরোপ থেকে পাঁচ হাজারেরও বেশি জিহাদি আইএস-এ যোগ দিয়েছেন৷ এদের অর্ধেকেরও বেশি বিভিন্ন অপরাধী চক্রের সদস্য ছিলেন কিংবা চুরি ও মাদক চোরাচালানের মতো অপরাধে অতীতে জড়িত ছিলেন৷

জার্মানির কারাগারগুলোতে সাধারণত উগ্র মৌলবাদীদের আলাদা রাখা হলেও ২৪ ঘন্টা সেটা করা সম্ভব হয় না৷ যখন তারা ক্ষেতে কাজ করতে যান, তখন আর আলাদা করা সম্ভব হয় না৷

‘‘তাদের জন্য কাউকে দলে টানা (বাইরের চেয়ে) এখানে বেশি সোজা,'' বলেন বাটুহান৷ অবশ্য এখনো তার তেমন অভিজ্ঞতা হয়নি বলে জানান তিনি৷

তুর্কি বংশোদ্ভুত জার্মান আইনজীবী নুমান ও্যসার গত সাত বছর ধরে কোলনের একটি সংশোধন প্রকল্পে কাজ করেন, যার নাম ‘ওয়ান এইটি ডিগ্রি টার্ন অ্যারাউন্ড'৷ ২০১৫ সাল থেকে তিনি নিয়মিত নর্থ রাইন ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যের কারাগারগুলোতে যান৷ তিনি মুসলিম বন্দিদের সঙ্গে কথা বলেন৷ তিনি জানান, উগ্রপন্থিরা নিজেদের মতাদর্শ ছড়াতে কারাগারগুলোকে ব্যবহার করছেন৷

‘‘কারাবন্দিরা মানসিকভাবে একটা গর্তের মধ্যে থাকেন,'' বলেন তিনি৷ উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সহিংস মৌলবাদীরা অন্যদের বলেন যে পশ্চিমা বিশ্ব তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে৷ যুদ্ধে লুটপাট করা জায়েজ৷

‘‘এগুলো বলে তারা তরুণদের তাদের দলে টানার চেষ্টা করেন,'' বলেন তিনি৷

বলেন, এরপর তাদের দিয়ে নানা অপরাধে অভ্যস্ত করানো হয়৷

নর্থ রাইন ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যের কারাগারগুলোতে চরমপন্থার বিরুদ্ধে নানা কার্যক্রম নেয়া হয়েছে৷ যারা উগ্র মতাবাদে জড়িয়েছেন তাদের সংশোধনে যেমন গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে, এসব মতবাদ যেন ছড়াতে না পারে৷

বিচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ২০১৬ সালে প্রায় তিন হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে৷ এছাড়া কারাগারগুলোতে ২৬ জন ইমাম রয়েছেন, যাদের সব রকম নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে৷ এই ইমামরা বন্দিদের জুম্মাসহ অন্যান্য ওয়াক্তের নামাজ পড়ান৷ তারাও উগ্র মতবাদ যেন না ছড়ায় সে লক্ষ্যে কাজ করেন৷

তবে বাটুহান ধর্মের প্রতি আগের চেয়ে বেশি মনোযোগী হয়েছেন কারাগারে এসে৷ চার দেয়ালের মাঝে থাকেন৷ হাতে অফুরন্ত সময়৷ এখানে থাকতে থাকতে আগের মতো বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, অযথা সময় নষ্ট করা এসব নিয়ে চিন্তা করার অনেক সময় পেয়েছেন৷ ২০২১ সালে তিনি মু্ক্তি পাবেন৷ তিনি মনে করেন, বাইরে বেরিয়ে তিনি কারাগারের মতো ধর্মচর্চা অব্যাহত রাখবেন৷

এসথার ফেলডেন, মাথিয়াস ফন হাইন/জেডএ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন