জার্মানিতে শরণার্থী নির্যাতনের বিচার | জার্মানি ইউরোপ | DW | 09.11.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি

জার্মানিতে শরণার্থী নির্যাতনের বিচার

চার বছর আগে খবরে উঠে এসেছিল জার্মানিতে একটি আশ্রয় কেন্দ্রে শরণার্থী নিপীড়নের ঘটনা৷ কারারক্ষী, সমাজকর্মীসহ মোট ৩০ জনের অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা এখন আদালতে ওঠার অপেক্ষায়৷

জার্মানির বুর্বাখের শহরের একটি আশ্রয় কেন্দ্রে চার বছর আগে শরণার্থী নিপীড়নের একটি ঘটনা ঘটে৷ ঘটনাটি তখন খবরের শিরোনামে উঠে এলেও, গত সপ্তাহে এই ঘটনার সম্পূর্ণ অভিযোগপত্র প্রকাশ করেন সরকার পক্ষের আইনজীবী, ক্রিস্টিয়ান কুহলি৷ সিগেন শহরের একটি সভায় ১৫৫ পাতার এই দীর্ঘ অভিযোগপত্রটি সাধারণ জনতার সামনে পাঠ করা হলে ঘটনার ভয়াবহতা নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে৷

নয় মাস ধরে শরণার্থীদের সাথে আশ্রয় কেন্দ্রের কর্মীরা যেভাবে অত্যাচার করতেন, তার বিস্তারিত বিবরণ এই অভিযোগপত্রে পাওয়া যায়৷ শরণার্থীদের নিপীড়নে কেন্দ্রটির রক্ষী, পরিচালক ও সমাজকর্মীদের জড়িত থাকার কথা এই অভিযোগপত্রে আছে৷

শুধু এই দীর্ঘ পত্রই নয়, শরণার্থীদের সাথে ঘটা অন্যায়ের প্রমাণ হিসাবে রয়েছে কিছু ছবি ও ভিডিও৷ এমনই একটি ছবিতে দেখা গেছে হাতকড়া পরা অচেতন এক শরণার্থীকে৷ তাঁর গলা পা দিয়ে চেপে আছেন আশ্রয়কেন্দ্রের এক প্রহরী৷ আরেকটি ভিডিওতে এক শরণার্থীকে নোংরা তোশকে জোর করে শোয়াতে দেখা যায়৷

ছবি বা ভিডিওতে দেখা যাওয়া অভিযুক্তদের মধ্যে একজন পুলিশকর্মী রয়েছেন৷ ছবিগুলি তোলার আগে শরণার্থীকে মেরে অচেতন করে ফেলার কাজটি তিনিই করেন বলে জানা গেছে৷

এই ছবিগুলি দেখে পাশের শহর, হাগেনের পুলিশপ্রধান ফ্রাঙ্ক রিখটার এই পরিস্থিতিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘গুয়ান্তানামো বে’-র সাথে তুলনা করেন৷

আশ্রয় কেন্দ্রের রক্ষীরা বেশ কয়েকদিন ধরে শরণার্থীদের একটি ‘প্রবলেম রুম’-এ বন্দি করে প্রবল মারধর করতেন৷ কুহলির বক্তব্য থেকে জানা যায় যে, এই মারের কারণ  হতো লুকিয়ে ধূমপান করার মতো তুচ্ছ কোনো ‘অপরাধ’৷

জেনে শুনেও চুপ!

এই আশ্রয় কেন্দ্রটি চালানো হতো ‘ইউরোপিয়ান হোম কেয়ার’ সংস্থার তত্ত্বাবধানে৷ এই সংস্থার এক কর্মচারীও শরণার্থীদের সাথে দুর্ব্যবহারের সাথে জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে৷ সেই ব্যক্তির নির্দেশেই ঠিক হতো কোন শরণার্থীকে নিয়ে যাওয়া হবে ‘প্রবলেম রুম'-এ৷ এবং বিনা প্রতিবাদে তার সব আদেশ মেনে অত্যাচার চালিয়ে যেতেন আশ্রয় কেন্দ্রের আরেক সমাজকর্মীও৷

আর্ন্সবের্গ শহরের দুই পৌরসভা সদস্যের দিকেও উঠেছে অভিযোগের আঙুল৷ কুহলির বয়ান থেকে জানা যায় যে, এই দুজনের ঘর কুখ্যাত ‘প্রবলেম রুম’-এর ঠিক পাশে ছিল৷ তিনি আরো বলেন, ‘‘শরণার্থীদের সাথে এমন অপরাধের কথা জানা সত্ত্বেও এ বিষয়ে তারা কিছু করেননি৷''

সমস্ত অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের দায়ী করা হবে শারীরিক নির্যাতন, স্বাধীনতা হরণ, নিগ্রহ ও চুরির মতো একাধিক অপরাধে৷ শাস্তি হিসাবে তারা পেতে পারেন বড় অঙ্কের জরিমানা বা কারাদণ্ডও৷

২০১৯ সালের গোড়ায় নর্থ রাইন ওয়েস্টফালিয়ার আদালতে শুরু হবে এই মামলার বিচারকার্য৷

আশ্রয় কেন্দ্রে শরণার্থী নিপীড়নের খবর সামনে আসার পর থেকেই সেখানের সমস্ত কার্যকলাপ জার্মান রেড ক্রস-এ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে৷

এসএস/এসিবি (এএফপি/ইপিডি)

২০১৬ সালের ছবিঘরটি দেখুন...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন