জার্মানিতে ‘শখের মালিদের’ নিয়ে ছবির প্রদর্শনী | অন্বেষণ | DW | 17.10.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

জার্মানিতে ‘শখের মালিদের’ নিয়ে ছবির প্রদর্শনী

শহরের ইট-কাঠের জঙ্গলে বাগানের স্বপ্ন অধরাই হয়ে থাকে৷ জার্মানির অনেক মানুষ সেই সাধ মেটাতে দূরে কোথাও বিচ্ছিন্ন জমিতে শখের বাগান করেন৷ এক ব্রিটিশ আলোকচিত্রী এই ‘অ্যালটমেন্ট গার্ডেনার'-দের নিয়ে দারুণ এক সিরিজ সৃষ্টি করেছেন৷

অনেক বছর ধরে জার্মানিতে শখের মালিদের ভাবমূর্তি মোটেই ইতিবাচক ছিল না৷ খামখেয়ালী, বয়স্ক ও বদমেজাজী এই মানুষগুলি শুধু শাকসবজি চাষ করতে সংঘে নাম লেখাতেন৷ আজ বিশেষ করে বড় শহরগুলিতে বাগান করার প্রবণতা বাড়ছে৷ এমন শখের মালিদের বিষয়বস্তু হিসেবে বেছে নেবার কারণ সম্পর্কে আলোকচিত্রী মার্টিন পার বলেন, ‘‘আমি সঙ্গে সঙ্গে বুঝেছিলাম যে বিষয়টি নিয়ে চর্চা করতে চাই৷ কারণ আমাদের ছাঁচে ফেলা এই গতানুগতিক জগতে ট্রাম্প, ব্রেক্সিট, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো যাবতীয় সমস্যা সত্ত্বেও এই মানুষগুলি সংঘবদ্ধ হয়ে গ্রীষ্মকালে এই সব বাগানে বসবাস করে৷ আমার কাছে এটা অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব৷’’

ভিডিও দেখুন 03:36

শখের মালিদের ছবি তোলেন যিনি

ব্রিটেনের তারকা ফটোগ্রাফার মার্টিন পার জার্মানির ‘ভাড়াটে মালি’-দের নিয়ে একটি গোটা সিরিজ সৃষ্টি করেছেন৷ যাঁরা শুধু বাগান করার জন্য একফালি বিচ্ছিন্ন জমি ভাড়া নেন বা কেনেন, তাঁদেরকে কেন্দ্র করেই গোটা প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়েছে৷ মার্টিন বলেন, ‘‘জগতের সঙ্গে আমার সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে আমি চর্চা করছি৷ আমি বলছি না, যে আপনার এভাবেই ভাবা উচিত৷ আমার তোলা ছবি দেখে মানুষ তাঁদের নিজস্ব ব্যাখ্যা করে নিতে পারেন৷’’

ব্রিটেনের এই আলোকচিত্রী দৈনন্দিন জীবনের রঙিন ও অদ্ভুত খণ্ডচিত্রের জন্য পরিচিত৷ সেই সব ছবি দেখলে কিছুটা প্রশ্রয়ের সঙ্গে মানুষের অদ্ভুত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য মেনে নিতে মন চাইবে৷ প্রদর্শনীর কিউরেটর রাল্ফ গ্যোর্ৎস মনে করেন, ‘‘পর্যটন হোক বা সমৃদ্ধি, নানা প্রেক্ষাপটে মানুষের অভিব্যক্তি সম্পর্কে ছবির মধ্যে প্রায়ই সমালোচনার ছোঁয়া থাকে৷ কিন্তু সবসময়ে ব্যক্তির নিজস্ব অভিব্যক্তির প্রতি স্নেহময় এক মনোভাব ধরা পড়ে৷’’

মাটিস রাচিনস্কির বয়স মাত্র ১৬৷ আইনের চোখে সে এখনো বাগানের মালিক হবার যোগ্য নয়৷ তার বাবামা-ই বাগানের আইনসিদ্ধ মালিক৷ কিন্তু সে একাই সব কাজ করে৷ মার্টিন বলে, ‘‘দারুণ মজা লাগে৷ কিছু করার সুযোগ পাই৷ এটা না থাকলে আমি শুধু বাসার মধ্যে ঘুরে বেড়াতাম৷ আমি টেকসই প্রক্রিয়া সম্পর্কে সত্যি আগ্রহী৷ নিজের প্রয়োজন মেটাতে গাছ লাগিয়ে সামান্য হলেও প্রথাগত ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চাই৷’’

এমন ‘অ্যালটমেন্ট গার্ডেনিং’-এর প্রতি তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ বেড়ে চলায় পোড়খাওয়া মালি হিসেবে ক্রিস্টা আডামস খুশি হচ্ছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘তাদের জন্য আমার দ্বার সবসময়ে খোলা রয়েছে৷ আমি তাদের বলেছি, প্রয়োজন হলেই আমি সাহায্য করতে প্রস্তুত৷’’

ক্রিস্টা আডামসের মতো শ্নাইডার পরিবারও অনেক বছর ধরে তাদের বিচ্ছিন্ন বাগানের পরিচর্যা করে চলেছে৷ তাঁদের এমনকি নিজস্ব মৌচাকও রয়েছে৷ তাঁদের কাছে নিজেদের বাগানই হলো শান্তির মরুদ্যান৷ একেবারেই ঘিঞ্জি নয়, বরং সেখানে আরও সহজে নিঃশ্বাস নেওয়া যায়৷ ক্লাউস-ডিটার শ্নাইডার বলেন, ‘‘আমার প্রতিবেশীরা সবাই ভালো মালি৷ আমাদের মধ্যে দারুণ সম্পর্ক৷ তাদের সান্নিধ্য মোটেই একঘেয়ে নয়৷ মাঝেমধ্যে আমরা জিরিয়ে নিয়ে বিয়ারের পাত্র হাতে আইডিয়ার আদানপ্রদান করি৷ তারপর রাত হলে বাসায় ফিরে যাই৷ মনে হয়, আজ বোধহয় কিছু একটা অর্থবহ কাজ করতে পেরেছি৷’’

প্রত্যেকেরই একফালি জমিতে বাগান করার নিজস্ব কারণ রয়েছে৷ কেউ নিশ্চিন্তে জিরিয়ে নিচ্ছেন, কেউ বা মহা ব্যস্ত৷ অনেকে লাগামহীন জীবনযাত্রা চান৷ মার্টিন পার-এর ছবির মধ্যে তাঁরা সবাই জীবন্ত হয়ে ওঠেন৷

ইনেস আইসেলে/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন