জার্মানিতে মার্কিন ভিন্টেজ গাড়ি | বিশ্ব | DW | 19.09.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

জার্মানিতে মার্কিন ভিন্টেজ গাড়ি

দক্ষিণ জার্মানির বাভেরিয়া প্রদেশের গার্মিশ-পাটেনকিয়র্শেন শহরে ফ্লোরিয়ান গেজিন-এর ‘ফ্লো'জ গ্যারেজ'-এ বহুমূল্য সব মার্কিন ভিন্টেজ গাড়ির দেখা পাওয়া যাব – কোনোটা সদ্য কলোরাডো থেকে আসা৷

একটি অ্যামেরিকান ওল্ডটাইমার বা ভিন্টেজ গাড়ি – কিন্তু দক্ষিণ জার্মানির বাভেরিয়া প্রদেশে, তাও আবার পর্যটকদের প্রিয় গার্মিশ-পাটেনকিয়র্শেনে৷ ফ্লোরিয়ান গেজিন হেডলাইট রিপেয়ার করছেন বটে, কিন্তু তাঁর মন পড়ে রয়েছে অন্যদিকে৷ আজ একটি ট্রান্সপোর্টারে করে সুদূর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে নতুন ডেলিভারি আসার কথা: নতুন বলতে দু'টি বিশেষ ওল্ডটাইমার৷

 ‘ফ্লো'জ গ্যারেজ'-এর মালিক ফ্লোরিয়ান গেজিন জানালেন, ‘‘কলোরাডো থেকে দু'টো গাড়ি আসছে: ১৯৫০ সালের একটি ওল্ডস রকেট এইটি-এইট আর একটি শেভি সি-টেন পিকআপ ট্রাক৷ আমি স্বভাবতই একটু টেনশানে আছি, কারণ দু'টো গাড়িই প্রায় না দেখে কেনা – মানে শুধু ছবি দেখে৷ আমি আমার স্থানীয় এজেন্টকে চোখ বুজে বিশ্বাস করেছি, বলা চলে৷ নিজেই চমকে গেছি৷ আশা করি, গাড়িগুলো সব ঠিকঠাক৷''

ওল্ডটাইমার দু'টির কলোরাডো থেকে গার্মিশ-পাটেনকিয়র্শেনে আসতে চার সপ্তাহ লেগে গেছে৷ প্রথমে জাহাজে করে রটারডাম; তারপর সেখান থেকে ট্রান্সপোর্টারে করে ফ্লো'জ গ্যারেজ অবধি৷ লম্বা রাস্তায় অনেক কিছু ভেঙে কিংবা খোয়া গিয়ে থাকতে পারে৷

প্রথম দর্শন মানে খুঁটিয়ে দেখা৷ ফ্লোরিয়ান গেজিন নিজে মোটর মেকানিক, পুরনো গাড়ি ভালোবাসেন৷ ট্রান্সপোর্টারে প্রথম গাড়িটা দেখে তাঁর প্রতিক্রিয়া: ‘‘দারুণ৷ আমি খুব খুশি৷ খানিকটা আশ্বস্তও৷ আরো একটা গাড়ি আছে৷ সেটাও দেখা যাক!''

পিকআপটাও দীর্ঘ যাত্রাপথ মোটামুটি অক্ষত অবস্থাতেই পার হয়েছে বলে মনে হচ্ছে৷ তবে ‘‘তিনটে মিরর বোধহয় পথে খোয়া গেছে,'' খেয়াল করেছেন ‘ফ্লো'৷ কখনো-সখনো বন্দর কর্মীরাই এটা-সেটা সরিয়ে থাকেন৷

 ‘ওল্ডসমোবাইল' গাড়িটা প্রথম রেজিস্ট্রি করা হয় ১৯৫০ সালে৷ ১৩৫ অশ্বশক্তির আট সিলিন্ডারের ইঞ্জিনটা বেশ ভালোই আছে মনে হচ্ছে৷ এবার ফ্লোরিয়ানকে গাড়িটা খোলার পন্থা আবিষ্কার করতে হবে – সাথে তো আর কোনো ম্যানুয়াল নেই৷ কিন্থু ফ্লোরিয়ানের মনোভাব হল: ‘‘সেটাই তো চ্যালেঞ্জ, সেটাই তো রোমাঞ্চ৷ প্রতিবার নতুন একটা কিছু৷ রোজ সেই চাকা বদলাও, ব্রেক ঠিক করো নয়; মাঝেমধ্যে মগজটাও ব্যবহার করো, দেখো কী করা যায়৷'' ফ্লোরিয়ানের কল্পনাশক্তিও কম নয়: ‘‘এরকম একটা গাড়িতে কী কী হয়েছে, তা জানতে মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে বৈকি৷ বিশেষ করে ব্যাকসিটে৷ কিন্তু সব মিলিয়ে নিজেই ভেবে নেওয়া যায়: গাড়িটা কত কী দেখেছে৷ ব্যাকসিটটা খোলার সময় অনেক সময় কাগজের চিট পাওয়া যায়৷ গ্লাভ কম্পার্টমেন্টেও অনেক সময় জিনিসপত্র পাওয়া যায়: হয়ত সত্তরের দশকের কোনো রক-এন-রোল পার্টির হ্যান্ডবিল বা কিছু৷''

১৯৬৯ সালে তৈরি পিকআপটা হয়ত স্টার্ট পর্যন্ত করতে পারে৷ তবে নিরাপত্তার কারণে দীর্ঘ যাত্রার আগে তেলের ট্যাংক খালি করে দেওয়া হয়৷ তেল ভরার পরে সেই বিশেষ মুহূর্ত: চাবি ঘোরালেই গাড়িটা স্টার্ট করবে কি? ‘‘এই তো চলেছে! সব কিছু ঠিকঠাক৷''

ফ্লো গেজিনের মোটর গ্যারেজটা আসলে একটা পুরনো পেট্রোল স্টেশন – বলতে কি, গার্মিশ-পাটেনকিয়র্শনের প্রথম পেট্রোল স্টেশনগুলির মধ্যে এটি ছিল একটি৷ কাজেই ওল্ডটাইমাররা আর যাবে কোথায়?

ইয়ুরগেন নয়মান/এসি

 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন