জার্মানিতে ‘মাইগ্রেন্ট ট্র্যান্সফার সেন্টার′ চালু | বিশ্ব | DW | 01.08.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জার্মানি

জার্মানিতে ‘মাইগ্রেন্ট ট্র্যান্সফার সেন্টার' চালু

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নথিভুক্ত শরণার্থীদেরকে সেই দেশে ফেরত পাঠানোর লক্ষ্যে ‘মাইগ্রেন্ট ট্র্যান্সফার সেন্টার‘ চালু করেছে জার্মানির বাভেরিয়া রাজ্য কর্তৃপক্ষ৷

বিমানবন্দরের ট্রানিজট জোনের মতো অস্ট্রিয়া সীমান্তের পাশে অবস্থিত এই মাইগ্রেন্ট ট্র্যান্সফার সেন্টারগুলো মূলত ইউরোপের অন্য কোনো দেশে নথিভূক্তির পর যে সকল শরণার্থী বাভেরিয়া রাজ্যে প্রবেশ করেছে, তাদের আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে আগের দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য কাজ করবে৷      

রক্ষণশীল দল সিডিইউ-সিএসউ ও সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটের মধ্যে একটি সমঝোতার ভিত্তিতে তিনটি ‘ট্র্যান্সফার সেন্টার‘ চালু করেছে বাভারিয়া রাজ্য কর্তৃপক্ষ৷ ‘ট্রান্সফার সেন্টার‘ চালুর মধ্য দিয়ে প্রশাসনিক কাযর্ক্রম দ্রুততর হবে, যা শরণার্থীদের আবেদন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করছে জার্মান সরকার৷

এ সেন্টারগুলোতে থাকা শরণার্থীরা তাদের ইচ্ছেমতো সেন্টারের বাইরে যাতায়াত করেত পারবে না৷ বিমানবন্দরের ট্রানজিট জোনে অবস্থান করা যাত্রীদের মতো সেন্টারগুলোতে থাকা শরণার্থীদের চলাফেরা হবে নিয়ন্ত্রিত৷

ভিডিও দেখুন 02:20

EU struggles to find common ground on migrants

এদিকে শরণার্থীদেরকে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে, নির্দিষ্ট সময় আটকে রাখার বিষয়টি জার্মান সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷ জার্মান সংবিধানের ১০৪নং ধারা অনুয়ায়ী, আদালতের অনুমতি ছাড়া কাউকে এক দিনের বেশি আটকে রাখা যাবে না৷ সেক্ষেত্রে আটক করার ২৪ ঘন্টার মধ্যে কোনো শরণার্থীর আবেদন প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করে তাঁকে অন্য কোনো স্থানে নির্দিষ্ট মাত্রায় চলাফেরার স্বাধীনতা প্রদানসহ স্থানান্তর করতে হবে৷ কিন্ত ডাবলিন রেগুলেশন অনুযায়ী, শরণার্থী অবেদন প্রক্রিয়া কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়, যার মধ্যে রয়েছে শরণার্থীর আবেদনের আইনগত বৈধতা নির্ধারণ, শরণার্থী প্রথমে ইউরোপের কোন দেশে এসেছে, তা নির্ধারণ, অভিবাবকহীন শিশু শরণার্থীর জন্য বিশেষ আইনের প্রয়োগ এবং শরণার্থী যে দেশ থেকে এসেছে সে দেশের আভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বিবেচনা৷

এ সকল দিক বিবেচনায় নিয়ে কোনো শরণার্থীর আবেদন জার্মান সংবিধানের বেধে দেয়া সময়ের মধ্যে পুনর্বিবেচনা করা কতটা সম্ভব, এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা৷ সংবিধান অনুযায়ী বেধে দেয়া সময়ের মধ্যে এ সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন শরণার্থী বিশেষজ্ঞ ও ওস্নাব্রুক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক টোমাস গ্রস৷ জার্মান হিউম্যান রাইটস ইনস্টিটিউটের আইন বিশেষজ্ঞ হেন্ড্রিক ক্রেমার মনে করেন, ‘মাইগ্রেন্ট ট্রান্সফার সেন্টার' প্রক্রিয়াটি জার্মান আইনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়৷ 

ভিডিও দেখুন 01:46

ছিলেন শরণার্থী, হয়ে গেলেন জার্মানির প্রতীক

এদিকে ‘মাইগ্রেন্ট ট্রান্সফার সেন্টার‘গুলো কী পরিমাণ শরণার্থীর আবেদন যাচাই বাছাই করতে পারবেএ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা জানা না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে, এ সেন্টারগুলো প্রায় ২৭ ভাগ শরণার্থীর আবেদন যাচাই বাছাই করতে পারবে৷ তবে এ সেন্টারগুলোর পাশাপাশি নতুন আর কোনো সেন্টার চালু করার ইচছা নেই সরকারের৷

আবার শরণার্থীদের পরিবার একত্রীকরণের সুযোগ

নতুন করে শরণার্থীর আগমন ঠেকাতে পরিবার একত্রীকরণের আইন আবারো কার্যকর করেছে সরকার৷ এ আইনের ফলে জার্মানিতে ‘সাবসিডিয়ারি' স্টেটাস নিয়ে বসবাসরত শরণার্থীরা তাদের স্বজনদেরকে নিয়ে আসার সুযোগ পাবে৷

আইন অনুযায়ী ‘সাবসিডিয়ারি' স্টেটাসধারী শরণার্থী বলতে ওই সকল শরণার্থীকে বুঝানো হয়েছে যাদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জার্মানিতে বসবাসের সুযোগ দেয়া হয়েছে৷

এ আইন অনুযায়ী, সরকার প্রতি মাসে এক হাজার স্বজনকে জার্মানিতে আসার সুযোগ দেবে৷ প্রাপ্ত বয়স্ক শরণার্থীরা তাঁদের স্ত্রী ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানদের জার্মানিতে আনার সুযোগ পাবেন৷ দু'বছর পর আবারো কার্যকর করা এ আইনটি জার্মান সরকারের রাজনৈতিক জোট, বিশেষ করে বামপন্থি সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস ও রক্ষণশীল খ্রিষ্টীয় সামাজিক ইউনিয়নের মধ্যে বিভক্তি তৈরি করেছে৷

২০১৬ সালের মার্চ মাসে সরকার এ আইনটি দু'বছরের জন্য স্থগিত করেছিল৷ ২০১৫ সালে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে জার্মানিতে শরণার্থী আসার হার বাড়তে থাকলে সরকার পরিবার একত্রীকরণ আইনটি সাময়িকভাবে স্থগিত করে৷ 

জেফারসন চেজ/আরআর

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন