জার্মানিতে বন্যা: ৬০০ মৃত শিশুর ভুয়া সংবাদ | বিশ্ব | DW | 02.08.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জার্মানি

জার্মানিতে বন্যা: ৬০০ মৃত শিশুর ভুয়া সংবাদ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং অন্যান্য অনলাইন মাধ্যমে বন্যাদুর্গত এলাকা থেকে ৬০০ শিশুর মরদেহ উদ্ধারের গুজব ছড়িয়ে পড়েছে৷ কিন্তু এই গুজব ছড়ালো কিভাবে? ডয়চে ভেলে চেষ্টা করেছে এই গুজবের উৎস খুঁজে বের করার৷

জার্মানিতে বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে

জার্মানিতে বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে

প্রথমত এটা জেনে রাখা জরুরি যে, কোবলেনৎস পুলিশ মধ্য জুলাইয়ের বন্যায় ‘আর উপত্যকা' থেকে ৬০০ শিশুর মরদেহ উদ্ধারের খবরের কোনো ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছে৷

ডয়চে ভেলেকে দেয়া এক লিখিত বক্তব্যে পুলিশের মুখপাত্র জানান, ‘‘যেসব এলাকায় বিশাল সংখ্যায় মরদেহ উদ্ধারের গুজব শোনা যাচ্ছে, সেসব জায়গায় এমন কোনো তথ্য আমরা পাইনি৷ অন্য কোনো এলাকাতেও এত বিপুল সংখ্যক মরদেহ পাওয়া যাওয়ার কথা আমাদের নজরে আসেনি৷ ‘চিন্তাভাবনা না করেই' অনলাইনে গুজব ছড়ানোর ব্যপারে জনগণকে সতর্কও করেছে পুলিশ৷ 

ভিডিও দেখুন 02:58

বন্যাপরবর্তী সংকট নিয়ে জার্মানিতে উদ্বেগ

পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া সবশেষ তথ্য অনুযায়ী রাইনলান্ড-পালাটিনেট রাজ্যে ১৩৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৫৯ জন৷ পার্শ্ববর্তী নর্থরাইন-ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যে ৪৭ জন মারা গেছেন৷ বেলজিয়ামেও মারা গেছেন ৪১ জন৷

গুজব ছড়াচ্ছে কোত্থেকে?

ডয়চে ভেলের অনুসন্ধানে জানা গেছে, একটি সংবাদের কিছু অংশ বিকৃত হয়ে এই গুজব ছড়াতে ভূমিকা রেখেছে৷ জার্মান টিভি চ্যানেল এনটিভির সকালের সংবাদ আয়োজনে একটি প্রতিবেদন প্রচার করা হয়৷ সেই প্রতিবেদনের ১৫ সেকেন্ডের একটি ক্লিপ কেটে অনলাইনে ছড়িয়ে দেয়া হয়৷ সেটিই পরবর্তীতে ভাইরাল হয়ে পড়ে৷

এই ভিডিও ক্লিপে দেখা যায় এক জার্মান প্রতিবেদক ধ্বংসস্তুপের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন৷ ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘‘... এখনও লাইভ৷ একদিকে এটি একটি বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা৷ দূর থেকে ভেসে আসা শিশুদের মরদেহ নিজেদের বাড়িতে পেয়েছেন, এমন বাসিন্দাদের সঙ্গে আমরা কথা বলতে পেরেছি৷ অন্যদিকে প্রশ্ন হচ্ছে, বন্যা কি আরো হবে? তারা বলছেন...''৷ কথার মাঝখানেই ক্লিপটি শেষ হয়ে গেছে৷

বিস্তারিত তথ্যের জন্য এনটিভি এবং টিভি চ্যানেলটির মালিক আরটিএল ডয়েচলান্ড মিডিয়া গ্রুপের মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল ডয়চে ভেলে৷ তারা নিশ্চিত করেছেন যে ২২ জুলাই সকাল নয়টার সংবাদে প্রচারিত হওয়া প্রতিবেদনের একটি ক্ষুদ্র অংশ এটি৷ প্রতিবেদক উপস্থিত ছিলেন বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর একটি আল্টেনআর এর আল্টেনবুর্গে৷

সংবাদ প্রচারের কিছুক্ষণের মধ্যেই ভিডিও ভাইরাল হতে শুরু করে৷ নীচের স্ক্রিনশটটিতে দেখা যাচ্ছে ২২ জুলাই সকাল ১০:৫৫ তে ফেসবুকে এই ভিডিও পোস্ট করা হয়৷ তবে এই পোস্টে ৬০০ মৃতদেহের কোনো উল্লেখ ছিল না৷

Verschwörungen um NTV Nachrichtenbeitrag

গুজব ছড়াতে এই ভিডিও ক্লিপটি ব্যবহার করা হয়েছে

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব

শুরুর দিককার পোস্টগুলোর সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হওয়া চরম ডানপন্থি কিউআনোন আন্দোলনের সংযোগ স্পষ্ট৷ কিউআনোন সমর্থকরা মনে করেন, একটি বৈশ্বিক গ্রুপ শিশুদের মাটির নীচে বাংকার ও টানেলে আটকে রেখে তাদের ওপর গোপন ও প্রাণঘাতি পরীক্ষানিরীক্ষা চালাচ্ছে৷ এই ষড়যন্ত্র তত্ত্ব যারা প্রচার করেন, তারা মনে করছেন যে বন্যার কারণে মাটির নীচের পরীক্ষাগার থেকে শিশিদের মরদেহ ভেসে উঠেছে৷

এই ক্লিপের সঙ্গে ৬০০ সংখ্যাটি কোত্থেকে প্রচার হলো, তা শনাক্ত করা বেশ কঠিন৷ ডয়চে ভেলে পুরো প্রতিবেদনটি দেখেছে, কিন্তু সেখানে কোথাও এই সংখ্যার উল্লেখ করা হয়নি৷

এরপর দ্রুতই বিশ্বজুড়ে ভিডিও ক্লিপটি ছড়িয়ে পড়ে৷ ২৬ জুলাই ইউটিউবে ইংরেজি শিরোনাম দিয়ে এটি আপলোড করা হয়৷ ভিডিওর বর্ণনা অংশে দাবি করা হয় জার্মান রিপোর্টার ৬০০ শিশুর মরদেহ ভেসে আসার কথা বলে হয়েছে৷ অনেক ভিউয়ার প্রতিবেদনকের কথার সঠিক অনুবাদ মন্তব্যে লিখলেও সেগুলো তেমন একটা গুরুত্ব দেয়া হয়নি৷ 

বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটির একই ধরনের বর্ণনা জাপানি, ডাচ এবং স্প্যানিশ ভাষাতেও খুঁজে পেয়েছে ডয়চে ভেলে৷ একটি টুইটে দাবি করা হয়, এই তথ্য জানানোর সময় নাকি রিপোর্টারকে থামিয়ে দেয়া হয়েছিল৷

কিন্তু শিশুদের মরদেহ সত্যিই পাওয়া গেছে, তাই না?

উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তুপে মরদেহ খুঁজে পেয়েছেন, এনটিভিও দুটি জায়গায় এ বিষয় উল্লেখ করেছে৷ এর একটি হচ্ছে এই প্রতিবেদনে, অন্যটি আল্টেনআর এর এক পুলিশ কর্মকর্তার সাক্ষাৎকারে৷

এনটিভির প্রতিবেদক এই তথ্যের সূত্র হিসেবে কী ব্যবহার করেছে জানতে চায় ডয়চে ভেলে৷ উত্তরে এনটিভি জানায়, ‘‘কেউ কেউ আমাদের শিশুদের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছেন৷ একজন ছিলেন আল্টেনবুর্গের বাসিন্দা যিনি আমাদের প্রতিবেদকের কাছে বন্যার রাতের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন৷ তার বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনেই বলা রয়েছে৷''

‘সংবেদনশীল' বিষয় হওয়ায় শিশুর মরদেহ নিয়ে কোনো তথ্য জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছে কোবলেনৎস পুলিশ৷ তারা জানিয়েছে, ‘‘সম্মান প্রদর্শনের জায়গা থেকে আমরা মৃতদেহ ঠিক কোন জায়টগায় পাওয়া গেছে বা অন্য কোনো ব্যক্তিগত তথ্য দিতে পারছি না৷ কোনো তথ্য দিলে ছোট শহরগুলোতে মৃত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা অপেক্ষাকৃত সহজ হবে৷''

তথ্য বিশ্লেষণ করে সবশেষে এটা বলা যায় যে, জার্মানির বন্যাদুর্গত এলাকায় বিশাল সংখ্যায় শিশুদের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য সঠিক নয়৷

সম্পাদকের নোট: ভুয়া সংবাদ আরো বেশি প্রচার হওয়া ঠেকাতে সোমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার হওয়া পোস্টগুলোর লিংক এই সংবাদে যুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডয়চে ভেলে৷ একই কারণে নাম প্রকাশ না করে পোস্টগুলোর স্ক্রিনশট যুক্ত করা হয়েছে৷

প্রতিবেদন: উটা শ্টাইনভের/এডিকে

সংশ্লিষ্ট বিষয়