জার্মানিতে পুলিশি নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন ‘অবৈধ অভিবাসীরা’ | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 13.08.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জার্মানি

জার্মানিতে পুলিশি নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন ‘অবৈধ অভিবাসীরা’

আইনপ্রণেতা আর মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখেও জার্মানিতে অভিবাসনের আবেদন প্রত্যাখ্যাতদের বিতাড়নে কঠোর হচ্ছে পুলিশ৷শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও উঠেছে৷

তবে পুলিশ বলছে, অভিবাসীদের প্রতিরোধ তাদের বল প্রয়োগ করতে বাধ্য করছে৷ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অনেকেই আদালতের অনুমতি নিয়ে জার্মানিতে থাকছেন৷ কিন্তু যাঁরা অনুমতি আদায় করতে পারছেন না, তাঁদের অনেকেই পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে পালিয়ে বেড়ায়৷ তাঁদের খুঁজে বের করা হলেও দেশে ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানায় তাঁরা৷ এমনকি শেষমূহুর্তে বিমানের মধ্যেও সহিংস হয়ে ওঠেন আশ্রয়প্রার্থীদের অনেকে৷ চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের হিসেবে দেখা যায়, জার্মানি এবং অন্য দেশের পাইলটরা অন্তত ৩৩৪ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে তাঁদের ফ্লাইটে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে৷ জার্মানির লেফট পার্টির করা এক সংসদীয় তদন্তে এসব তথ্য উঠে আসে৷

হাতকড়ার ব্যবহার বাড়ছে

অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ফেরত পাঠানো প্রসঙ্গে আরো বিশদ জানতে চেয়ে সরকারের কাছে ২৬টি প্রশ্ন রেখেছে লেফট পার্টির আইন প্রণেতা উল্লা ইয়েল্পকে৷ কারণ, তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৫ সালেও হাতকড়া কিংবা পায়ে বেড়ি পরানোর ঘটনা ঘটেছে মাত্র ১৩৫টি৷ ২০১৮ সালে এসে এই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে এক হাজার ২৩১৷

বছরের হিসেবে বিতাড়িত অভিবাসীদের সংখ্যার হিসেবটা কাছাকাছি থাকলেও বল প্রয়োগের মাত্রাটা বেড়ে যাচ্ছে৷ ২০১৭ সালে ফেরত পাঠানো হয়েছে ২৩ হাজার ৯৬৬ জনকে৷ বিপরীতে ২০১৮ সালে পাঠানো হয় ২৩ হাজার ৬১৭ জনকে৷ এ বছর প্রথম ছয় মাসে ফেরত পাঠানো লোকের সংখ্যা ১১ হাজার ৪৯৬জন৷ হিসেব বলছে, বছর শেষে মোট সংখ্যাটিও অন্য বছরগুলোর কাছাকাছি থাকবে৷

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সহিংস আচরণের কারণে পুলিশ বল প্রয়োগ করতে বাধ্য হচ্ছে৷ বিষয়টি নিয়ে নির্ভরযোগ্য অনুসন্ধানের ঘাটতি রয়েছে বলেও দাবি করেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়৷

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মন্তব্য

সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইলেওনোরে পেটারমান জানান, অনেকেই বাধা দেয়, অনেকই সহিংস হয়ে ওঠে৷ তাই তাঁদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াটি চালু রাখতে এবং সাধারণ মানুষকে আক্রমণের শিকার থেকে রক্ষা করতে হাতকড়াসহ অন্য উপায়গুলো ব্যবহার করতে হয় বলে জানান তিনি৷ পেটারমান জানান, নিতান্ত বাধ্য হয়েই তাঁদের এই উপায় বেছে নিতে হয়৷

লেফট পার্টির ইয়েল্পকে হাতকড়া আর বলপ্রয়োগকে ‘অসহনীয়‘ হিসেবে উল্লেখ করেছেন৷ অভিবাসনপ্রত্যাশী মানুষগুলোকে ইচ্ছের বিরুদ্ধে ফেরত পাঠিয়ে তাঁদের আরো কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দেয়া হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি৷ তদন্তে বেশকিছু মর্মান্তিক ঘটনার প্রমাণ পেয়েছেন বলেও জানান তিনি৷

স্বচ্ছতার অভাব

অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াটিকে অস্বচ্ছ বলছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো৷ কোনো ব্যক্তিকে ফেরত পাঠানোর উদ্দেশ্যে আটক করা হলে সেই মূহুর্ত থেকে বিমানে তুলে দেয়া পর্যন্ত তাঁর ওপর পুলিশ শারীরিক নির্যাতন করে বলেও অভিযোগ করছে মানবাধিকার সংগঠন প্রো অ্যাসাইল৷ মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এসব ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী না থাকায় সঠিক বিবরণ পাওয়াটাও মুশকিল হয়ে পড়েছে৷

মার্সেল ফ্রুসটেনাও/টিএম

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন