জার্মানিতে নিরাপদে পরমাণু বর্জ্য মজুত রাখার উদ্যোগ | অন্বেষণ | DW | 19.08.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

জার্মানিতে নিরাপদে পরমাণু বর্জ্য মজুত রাখার উদ্যোগ

পরমাণু বিদ্যুতের সুবিধা ও ঝুঁকি নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই৷ কিন্তু জার্মানির মতো দেশ এই জ্বালানি ত্যাগ করেও তেজস্ক্রিয় বর্জ্যের সমস্যা এড়াতে পারছে না৷ এ ক্ষেত্রে নানারকম প্রচেষ্টা চলছে৷

২০২৭ সাল থেকে জার্মানির এক পরিত্যক্ত লোহার খনিতে তেজস্ক্রিয় পরমাণু বর্জ্য মজুত করা হবে৷ তখন সিমেন্টের প্রাচীর দিয়ে বিশাল সুড়ঙ্গপথ বন্ধ করে দেওয়া হবে৷ তার মধ্যে তেজস্ক্রিয় বর্জ্যের ক্ষয় হবে৷ এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, জার্মানির সালৎসগিটার শহরের কাছে চূড়ান্ত এই আধারে ৩ লক্ষ বছরের জন্য তেজস্ক্রিয়তা বশে আনা হবে৷

জার্মানিতে এখনো ৭টি সক্রিয় পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে৷ ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পরমাণু বর্জ্য জমা হচ্ছে৷ সেগুলি নিরাপদে মজুত রাখতে হবে৷ কয়েকশো মিটার পুরু মাটির স্তরের নীচে ইঞ্জিনিয়াররা সংরক্ষণের জন্য এমন কামরা তৈরি করছেন, যেগুলি বহুকাল শুকনা থাকবে৷ এখানে শুধু নিম্ন ও মাঝারি মাত্রার তেজস্ক্রিয় উপকরণ জমা রাখা হবে৷ তার একটা বড় অংশ বাতিল হয়ে যাওয়া পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে আসবে৷ এমন সব কামরায় বর্জ্যের আধার রাখা হবে৷ তারপর সিমেন্ট দিয়ে তা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে৷

বৃষ্টি বা ভূগর্ভস্থ পানি সেই কামরায় প্রবেশ করলে সেটা বড় বিপদের কারণ হবে৷ তখন তেজস্ক্রিয়তা বেরিয়ে এসে মাটির মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে৷ এই উদ্যোগের টেকনিক্যাল ম্যানেজার টোমাস লাউচ বলেন, ‘‘ভূগর্ভস্থ পানি যাতে খনিতে প্রবেশ না করে অথবা খনির দূষিত অংশ যাতে পানিতে মিশে না যায়, এর মাধ্যমে তা নিশ্চিত করা হচ্ছে৷ ''

২০২৭ সালের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে৷ সুড়ঙ্গ খনন যন্ত্র মাটি খুঁড়ে চলেছে৷ মাটি যেহেতু সরে যাচ্ছে, তাই উপরে সংযোজক লাগানো হয়েছে৷ মাটির নীচের তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস৷ সুড়ঙ্গের দেওয়ালে শটক্রিট বা কংক্রিটের স্প্রে করা হয়েছে৷ গোটা সংরক্ষণাগারের ব্যয় ৪২০ কোটি ইউরো ছুঁতে পারে৷ এর মধ্যে ৬০ শতাংশ পরমাণু শিল্প ও বাকিটা জার্মানির করদাতারা বহন করছেন৷

ভিডিও দেখুন 04:14

জার্মানির পরমাণু বর্জ্য সংরক্ষণাগার

এই কর্মকাণ্ড শুধু নিম্ন ও মাঝারি মাত্রার বর্জ্যের মধ্যে সীমিত থাকবে৷ পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে আনা উচ্চ মাত্রার তেজস্ক্রিয় জ্বালানির রড রাখার জায়গা খোঁজা আরও কঠিন কাজ হবে৷ টোমাস লাউচ বলেন, ‘‘এ ক্ষেত্রে ফিনল্যান্ড অনেক এগিয়ে রয়েছে৷ তারা ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে একটি সংরক্ষণাগার চালু করতে চলেছে৷ উচ্চ মাত্রার বর্জ্যের চূড়ান্ত সংরক্ষণাগার তৈরি করছে তারা৷''

লাউচ ফিনল্যান্ডের সংরক্ষণাগার সম্পর্কে অনেক খবর রাখেন৷ সেখানে কাজ প্রায় শেষ হয়ে গেছে৷ কয়েক বছরের মধ্যে বর্জ্য রাখা যাবে৷ এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ৷ ১০ লক্ষ বছরের জন্য নিরাপদে এমন বর্জ্য মজুত করা কি আদৌ সম্ভব? কারণ একমাত্র এতকাল পরই উচ্চ মাত্রার বর্জ্যের পুরোপুরি ক্ষয় হতে পারে৷

লাউচ ফিনল্যান্ডের ধাঁচেই জার্মানিতে সংরক্ষণাগার গড়ে তুলতে চান৷ সেটি ভূমিকম্প-নিরোধক হতে হবে৷ তাছাড়া যে কোনো সময়ে বর্জ্য আবার বার করে নেবার সুযোগ থাকতে হবে৷ টোমাস লাউচ মনে করেন, ‘‘অতীতের দিকে তাকালে তবেই ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়৷ এই কনরাড খনির গভীরে ১৫ কোটি বছর ধরে খনিজ জমা হয়েছে৷ ফলে এই সময়কালের দিকে ফিরে তাকানো যায়৷ তার ভিত্তিতে পরের ১০ কোটি বছর সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়৷''

আগামী ২০২২ সালের মধ্যে জার্মানিতে সব পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাবে৷ তারপর বিকল্প জ্বালানির পথে আরও অগ্রসর হওয়ার পাশাপাশি ১০ বছরের মধ্যে উচ্চ মাত্রার তেজস্ক্রিয় বর্জ্য মজুত রাখার সঠিক জায়গা খুঁজে বার করতে হবে৷

উটে শ্নাইডার/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন