জার্মানিতে নব্য-নাৎসিদের দমনে কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 20.01.2012
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

জার্মানিতে নব্য-নাৎসিদের দমনে কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার

একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে এসেও জার্মানিতে নব্য-নাৎসিদের তৎপরতা কমানো যায় নি৷ এবার জার্মান সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপের সাহায্যে তাদের নির্মূল করার প্রচেষ্টা শুরু করেছে৷

default

কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারে নব্য-নাৎসিদের যাবতীয় খবরাখবর রাখা হবে

একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে এসেও জার্মানিতে নব্য-নাৎসিদের তৎপরতা কমানো যায় নি৷ এবার জার্মান সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপের সাহায্যে তাদের নির্মূল করার প্রচেষ্টা শুরু করেছে৷

জার্মানিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করার ক্ষেত্রে প্রায়ই বাধা হয়ে দাঁড়ায় এদেশের ফেডারেল কাঠামো৷ ফেডারেল ও রাজ্য স্তরে এতগুলি কর্তৃপক্ষ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত, যে তাদের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় বা সহযোগিতা মোটেই সহজ কাজ নয়৷ কিন্তু কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক বেশ স্পর্শকাতর বিষয়৷ তাই রাতারাতি কোনো আমূল পরিবর্তনও সম্ভব নয়৷ তবে সম্প্রতি সুইকাউ শহরে এক বিস্ফোরণের জের ধরে জার্মানিতে নব্য-নাৎসিদের তৎপরতার যে ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে, তার পর রাজনীতি জগতের পক্ষে আর হাত গুটিয়ে বসে থাকা সম্ভব নয়৷ নানা পদক্ষেপের পাশাপাশি এবার এক কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে নব্য-নাৎসিদের সম্পর্কে প্রয়োজনীয় সব তথ্য জমা থাকবে৷ যে কোনো কর্তৃপক্ষ সেই তথ্যভাণ্ডার ঘেঁটে দেখতে পারবে৷ এমনকি আরও তথ্যের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারবে৷ এই পরিকাঠামো ভবিষ্যতে নব্য-নাৎসিদের মোকাবিলা করতে কাজে লাগবে বলে সরকারের বিশ্বাস৷

অতীতের উদ্যোগ

এই উদ্যোগ সম্পূর্ণ নতুন নয়৷ ২০০১ সাল থেকেই আলাদা আলাদা তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা হচ্ছে, যেখানে সেই সব চরম দক্ষিণপন্থী ও চরম বামপন্থীদের নথিভুক্ত করা হয়েছে, যারা হিংসাত্মক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত৷ রাজনৈতিক কারণে যেসব বিদেশি জার্মানিতে অপরাধমূলক কার্যকলাপ চালিয়েছে, তাদেরও তালিকা রয়েছে৷ নব্য-নাৎসিদের নতুন তালিকার প্রসঙ্গে জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হান্স পেটার ফ্রিডরিশ বলেন, ‘‘এই তথ্যভাণ্ডারে সব গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশ হিংসাপরায়ন চরম দক্ষিণপন্থীদের সম্পর্কে তাদের যাবতীয় তথ্য জমা দিতে পারবে৷ সব কর্তৃপক্ষই এটা করতে বাধ্য হবে৷ আমার ধারণা, এভাবে আমরা সহজে তথ্যের আদান-প্রদান নিশ্চিত করতে পারবো৷''

Neo-Nazi Demonstration in Leipzig

লাইপজিগে নব্য-নাৎসিদের মিছিল

তথ্যভাণ্ডারের উপযোগিতা

কীভাবে কাজে লাগবে এই তথ্যভাণ্ডার? এর প্রবক্তারা বলছেন, চরম দক্ষিণপন্থী ও তাদের কাঠামো ঠিক সময়ে চিহ্নিত করার মধ্যেই তাদের মোকাবিলার চাবিকাঠি লুকিয়ে রয়েছে৷ গত বছরের নভেম্বর মাসে সুইকাউ শহরে বিস্ফোরণের জের ধরে নব্য নাৎসিদের যে দলটিকে চিহ্নিত করা গিয়েছিল, তারা বহু বছর ধরে গোপনে তাদের কার্যকলাপ চালিয়ে কমপক্ষে ১০ জনকে হত্যা করেছিল৷ অথচ বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের মধ্যে যোগাযোগের অভাবে তাদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয় নি৷

জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থার কেন্দ্রীয় দপ্তরের পাশাপাশি ১৬টি রাজ্যে আলাদা শাখা রয়েছে৷ প্রত্যেকটি শাখাই স্বাধীনভাবে কাজ করে৷ পরস্পরের মধ্যে তথ্যের আদানপ্রদান করতে বাধ্য নয় তারা৷ এবার নব্য-নাৎসিদের ক্ষেত্রে সেই রীতির ব্যতিক্রম ঘটতে চলেছে৷ সকলকে বাধ্য হয়ে তথ্যের আদানপ্রদান করতেই হবে৷ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই তথ্যভাণ্ডারের উপযোগিতা সম্পর্কে আরও বলেন, ‘‘কার নাম এই তথ্যভাণ্ডারে স্থান পাবে? কোনো ব্যক্তি সন্ত্রাসবাদী বা অপরাধমূলক সংগঠনের সদস্য – এমন সন্দেহ করার স্পষ্ট কারণ যদি থাকে, অথবা অপরাধী বা আসামি হিসেবে তার নাম যদি পুলিশের খাতায় উঠে থাকে, তার সম্পর্কে সব তথ্য এই ভাণ্ডারে জমা পড়বে৷ কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তির কাছে যদি অস্ত্র, বিস্ফোরক অথবা বিপজ্জনক কোনো উপকরণ পাওয়া যায়, তাদের নামও এই তালিকায় স্থান পাবে৷ আমরা সেই সব চরম দক্ষিণপন্থীদের নামও তথ্যভাণ্ডারে রাখতে চাই, যারা নিজেরা হিংসাত্মক না হলেও হিংসার ডাক দিয়ে থাকে বা তাতে মদত দেয়৷ অর্থাৎ যারা নেপথ্যে থাকবে, তারাও রেহাই পাবে না৷''

জার্মানির অপরাধ দমন দপ্তরের প্রধান ইয়র্গ সিয়ার্কেও এই তথ্যভাণ্ডারকে উগ্র দক্ষিণপন্থী ভাবধারার বিরুদ্ধে সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন৷ ২০১১ সালের ডিসেম্বর মাস থেকেই তাঁর দপ্তরের এক বিশেষ সেল উগ্র দক্ষিণপন্থী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে৷ নতুন তথ্যভাণ্ডার এই সেল'এর জন্য অত্যন্ত জরুরি হবে বলে মনে করেন সিয়ার্কে৷ তাঁর মতে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের সম্পর্কে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রতিদিন নতুন তথ্য পেলে তাদের মোকাবিলার কাজও সহজ হয়ে যাবে৷ তাদের বাসস্থান, গতিবিধি, কার্যকলাপ সম্পর্কে ঠিক সময় খবর পেলে তাদের সনাক্ত করাও সহজ হবে৷

সমালোচনার সুর

জার্মানিতে তথ্য সংরক্ষণের বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর৷ বিরোধী বামপন্থী দল ‘ডি লিংকে' এর মধ্যেই নব্য-নাৎসি তথ্যভাণ্ডারের অপব্যবহার সম্পর্কে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছে৷ তাদের মতে, আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সব কর্তৃপক্ষ এতকাল উগ্র দক্ষিণপন্থী সন্ত্রাস দমন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে৷ এবার মৌলিক অধিকার সঙ্কুচিত করে তাদের এই তথ্যভাণ্ডারের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে৷ তবে সংসদ আপাতত ২০১৬ সাল পর্যন্ত এই তথ্যভাণ্ডারের মেয়াদ স্থির করে দিয়েছে৷ তার পর এর সাফল্য সহ বিভিন্ন বিষয় নতুন করে খতিয়ে দেখে মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে৷

প্রতিবেদন: মার্সেল ফ্যুর্স্টেনাউ / সঞ্জীব বর্মন

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

নির্বাচিত প্রতিবেদন