জার্মানিতে নতুন জোট সরকার গড়ার লক্ষ্যে আরো অগ্রগতি | বিশ্ব | DW | 11.11.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জার্মানি

জার্মানিতে নতুন জোট সরকার গড়ার লক্ষ্যে আরো অগ্রগতি

বুধবার সন্ধ্যায় জার্মানির সম্ভাব্য জোট সরকারের তিন শরিক দলের বিশেষজ্ঞরা প্রাথমিক কাজ শেষ করেছেন৷ এবার দলের শীর্ষ নেতাদের অবশিষ্ট মতপার্থক্য দূর করে কোয়ালিশন চুক্তি ও মন্ত্রণালয়ের বণ্টন স্থির করতে হবে৷

করোনা সংকট সামলাতে হিমসিম খেলেও জার্মানিতে আগামী জোট সরকার গড়ার প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়সূচি মেনেই এগোচ্ছে৷ সামাজিক গণতন্ত্রী এসপিডি, উদারপন্থি এফডিপি ও পরিবেশবাদী সবুজ দল ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই সরকার গড়ার লক্ষ্য স্থির করেছে৷ এর আওতায় তিন দলের ২২টি কমিটির প্রায় ৩০০ প্রতিনিধি বুধবার সন্ধ্যায় তাদের কাজ শেষ করেছেন৷ বিশেষজ্ঞ রাজনীতিকদের আলোচনায় বিভিন্ন বিষয়ে যতটুকু ঐকমত্য অর্জন করা সম্ভব হয়েছে, সেই সাফল্যের পাশাপাশি মতপার্থক্যগুলিও লিপিবদ্ধ করতে হয়েছে৷ দলের প্রতীকী রং অনুযায়ী লাল, হলুদ ও সবুজ রং দিয়ে সেই অংশ তুলে ধরা হয়েছে৷ প্রত্যেক কমিটিকে তিন পৃষ্ঠার মধ্যে সেই রিপোর্ট লেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল৷ এমনকি হরফ, হরফের সাইজ ও লাইনের মধ্যে ফারাকও স্থির করে দেওয়া হয়েছিল৷ গোপনীয়তার বেড়াজালে সেই আলোচনার খুঁটিনাটী সংবাদ মাধ্যমের কাছে পৌঁছতে পারে নি৷

এবার বাকি মতপার্থক্য দূর করতে আসরে নামছেন দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা৷ তাদের জন্যও সময়সূচি স্থির করে দেওয়া আছে৷ ৬ই ডিসেম্বর অথবা সেই সপ্তাহে এসপিডি নেতা ওলাফ শলৎস জার্মানির আগামী চ্যান্সেলর হিসেবে যাতে শপথ নিতে পারেন, সেই লক্ষ্যে ২২শ নভেম্বরের মধ্যে কোয়ালিশন চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করতে হবে৷ তারপর দলীয় স্তরে সেই চুক্তির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন করাতে হবে৷ গুরুত্বপূর্ণ এই পর্যায়ে কোনো বিঘ্ন ঘটলে নির্ধারিত সময়সূচি মেনে চলা কঠিন হবে৷

তিন দলই আপাতত মতপার্থক্য সত্ত্বেও সরকার গড়ার প্রশ্নে যথেষ্ট আশাবাদী৷ তবে শেষ পর্যন্ত বিষয় সম্পর্কে ঐকমত্য সত্ত্বেও মন্ত্রণালয় বণ্টনের প্রশ্নে সংঘাতের আশঙ্কা দূর হচ্ছে না৷ বিশেষ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দখল নিতে এফডিপি ও সবুজ দলের মধ্যে রেষারেষি বার বার সংবাদ মাধ্যমেও স্থান পাচ্ছে৷ সবুজ দল সেই দাবি থেকে সরে এসেছে বলে সংবাদ মাধ্যমের একাংশে দাবি করা হলেও সেই দল এমন ‘ছাড়'-এর দাবি অস্বীকার করেছে৷

তিন দলের উচ্চাকাঙ্ক্ষী সংস্কার প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান নিয়েও সংশয় এখনো দূর হয় নি৷ বিশেষ করে এফডিপি দল বাজেট ঘাটতির অনুমোদিত মাত্রার ক্ষেত্রে কোনো আপোশ করতে রাজি নয়৷ বৃহস্পতিবারই বিদায়ী সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে ওলাফ শলৎস কর বাবদ অর্থের অংক সম্পর্কে পূর্বাভাস দিচ্ছেন৷ করোনা সংকট সত্ত্বেও অর্থনীতি জগত যথেষ্ট চাঙ্গা হওয়ায় এবং মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় রাজস্বও বেড়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ ফলে আগামী সরকারের হাতে কিছুটা বাড়তি অর্থ থাকতে পারে৷ বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী বাকি বাড়তি ব্যয় সরাসরি বাজেট থেকে না নিয়ে বিকল্প পথের সন্ধান করছে ট্রাফিক লাইট কোয়ালিশনের শরিক দলগুলি৷

ডিসেম্বরে জার্মানিতে নতুন সরকার গঠন করা সম্ভব হলেও শীর্ষ নেতাদের সবার আগে ভয়াবহ করোনা সংকটের মোকাবিলা করতে হবে৷ বৃহস্পতিবারই সংসদে এই তিন দলের আনা প্রস্তাব নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে৷ সংক্রমণ সুরক্ষা সংক্রান্ত আইনে রদবদল করে ভবিষ্যৎ সরকার মহামারি মোকাবিলার ক্ষেত্রে ভিন্ন পথ বেছে নিতে চায়৷ উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার জার্মানিতে প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে সাপ্তাহিক গড় সংক্রমণের হার প্রায় ২৫০ ছুঁয়েছে৷ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৫০,০০০ নতুন সংক্রমণের রেকর্ড ভাঙলে এই দেশ৷

এসবি/কেএম (ডিপিএ, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়