জার্মানিতে নতুন অভিবাসন নীতির খসড়া উত্থাপন | বিশ্ব | DW | 10.05.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জার্মানি

জার্মানিতে নতুন অভিবাসন নীতির খসড়া উত্থাপন

দীর্ঘদিন আলোচনায় থাকা অভিবাসন আইনের খসড়া সংসদে উত্থাপন করেছে জার্মান সরকার৷ এরপর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে শুরু হয়েছে সমালোচনা৷ কেউ কেউ বলছেন, দক্ষ শ্রমিকদের আকৃষ্ট করতে আইনের যথেষ্ট সংস্কার হয়নি৷

বৃহস্পতিবার জার্মান পার্লামেন্ট বুন্ডেসটাগে দক্ষ শ্রমিকদের অভিবাসনে প্রস্তাবিত আইনের খসড়া উত্থাপনের পর তুমুল বিতর্ক হয়৷

নতুন প্রস্তাবে পাঁচ মাস আগেই মন্ত্রিসভার সায় পেয়েছিলেন চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল৷ কয়েক বছর ধরেই জার্মানিতে তথ্য-প্রযুক্তি ও প্রকৌশল খাতে দক্ষ শ্রমিকের অভাবের কথা বলে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা৷ অন্যান্য কারিগরি খাতেও রয়েছে যথেষ্ট জনবল সংকট৷ জার্মানিতে ধীরে ধীরে বাড়ছে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা৷ তাঁদের জন্য সেবাখাতেও প্রয়োজন প্রচুর লোক৷

ঐতিহাসিক মোড়

রক্ষণশীল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হোর্স্ট সেহোফার বুন্ডেসটাগে খসড়া উপস্থাপন করেন৷ একে একটি ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বলে উল্লেখ করেন তিনি৷ প্রস্তাবিত আইনে কারা, কী শর্তে জার্মানিতে কাজ করতে আসতে পারবে, তা স্পষ্ট করা হয়েছে বলেও জানান তিনি৷

তবে খুব সতর্কতার সঙ্গে তিনি এটিও জানিয়ে দিয়েছেন, জার্মানিতে অভিবাসননীতি কিছুটা শিথিল করা হলেও চাকরির বাজারের অবস্থা পুনর্মূল্যায়ন করে তা যে-কোনো সময় পালটে ফেলা যাবে৷

এতদিন পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের কাউকে চাকরি দিতে হলে আগে সেই কাজে ইউরোপের কোনো যোগ্য নাগরিককে না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হতো৷ কিন্তু নতুন প্রস্তাবে সে বাধ্যবাধকতা আর রাখা হচ্ছে না৷ খসড়া প্রস্তাবে এই বিষয়টিকেই সবচেয়ে বড় করে দেখা হচ্ছে৷

এই আইন পাস হলে কারিগরি দক্ষতা থাকা অভিবাসীদের জার্মানিতে আসা অনেক সহজ হয়ে যাবে৷ এখন পর্যন্ত কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হতো৷

শ্রমিক হিসেবে মেনে নেয়ার প্রস্তাব

জার্মান শ্রমমন্ত্রী হুব্যার্টুস হাইল আরেকটি প্রস্তাবে অভিবাসনের আবেদন প্রত্যাখ্যান হওয়া কিছু প্রত্যাশীকেও মেনে নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন৷ প্রস্তাবে বলা হয়েছে, যেসব অভিবাসনপ্রত্যাশী রাষ্ট্র-অনুমদিত কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন, বা সপ্তাহে অন্তত ২০ ঘণ্টা কাজ করেন, জার্মান ভাষা শিখেছেন এবং এরই মধ্যে ১৮ মাস ব্যক্তিগত খরচ বহন করার সক্ষমতা দেখিয়েছেন, তাঁদের এই স্ট্যাটাস দেয়া যেতে পারে৷

হাইল এই প্রস্তাবকেই ‘বাস্তবধর্মী’ বলে উল্লেখ করেন৷ তাঁর যুক্তি, জার্মানিতে যাঁরা এখন কাজ করছে. তাঁদের ফেরত পাঠিয়ে আবার অন্যদিকে অন্য দক্ষ শ্রমিকদের বাইরে থেকে নিয়ে আসার পরিকল্পনা খুবই অযৌক্তিক৷

সর্বপ্যাপী সমালোচনা

আঙ্গেলা ম্যার্কেলের মধ্য-ডানপন্থি খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী ইউনিয়ন- সিডিইউ, বাভারিয়া রাজ্যে দলটির সহযোগী খ্রিষ্টীয় সামাজিক ইউনিয়ন- সিএসইউ এবং মধ্য-বামপন্থি সামাজিক গণতন্ত্রী দল- এসপিডি জোটবদ্ধ হয়ে চালাচ্ছে জার্মান সরকার৷ নতুন এই অভিবাসন নীতি নিয়ে সব পক্ষের সমালোচনার মুখেই পড়েছে সরকার৷

লিন্ডা টয়টেবার্গের নেতৃত্বে ব্যবসাবান্ধব মুক্ত গণতন্ত্রী দল- এফডিপি খসড়া আইনকে ‘অনুপ্রেরণাহীন’ বলে উল্লেখ করেছেন৷ এর ফলে তেমন বিশেষ কিছু পরিবর্তন আসবে না বলেও মনে করে দলটি৷

সবুজ দলের পার্লামেন্টারি নেতা কাটরিন গ্যোরিং-একার্ড্ট প্রস্তাবটিতে অভিবাসন আইন আধুনিক করার বদলে আরো ‘বাধা দেয়ার’ ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন৷ সমাজতন্ত্রী বাম দলও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছে৷

প্রো অ্যাসাইলের মতো মানবাধিকার সংস্থাগুলোও এই প্রস্তাবের সমালোচনা করেছে৷ সংস্থাটি বলছে, এ প্রস্তাবে কেবল জার্মানির অর্থনৈতির স্বার্থের কথাই বিবেচনা করা হচ্ছে, এর ফলে জার্মানিতে অভিবাসনে আগ্রহীদের খুব একটা লাভ হবে না৷

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরাও এই প্রস্তাব নিয়ে তেমন একটা উচ্ছ্বাসের কিছু দেখছেন না৷ ওসনাব্র্যুক ইউনিভার্সিটির অভিবাসন আইনের অধ্যাপক থমাস গ্রস বলছেন, ‘‘এত নিয়ন্ত্রিত আইনের কোনো মানে নেই৷ অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশীরই কী হবে, তা এখনো মীমাংসা করা হয়নি৷ তাঁরা অনেক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী কাজের অনুমতি পাবেন৷ কিন্তু এটা রেসিডেন্স পারমিট নয়, বরং দ্বিতীয় শ্রেণীর অনিশ্চিত এক অনুমতি৷ খুব অল্প কিছু লোকের ওপর এটা প্রযোজ্য হবে৷’’

তবে স্বভাবতই অন্য সবার চেয়ে ঠিক বিপরীত মন্তব্য এসেছে কট্টর ডানপন্থি ও অভিবাসনবিরোধী দল অলটারনেটিভ ফর ডয়েচল্যান্ড- এএফডির পক্ষ থেকে৷ দলটির প্রতিনিধি গোটপ্রিড কুরিও মনে করেন, এই প্রস্তাবিত আইন কেবল আরো ‘অদক্ষ দরিদ্র শ্রমিকদের অভিবাসনে উৎসাহিত’ করবে৷

নতুন আইনটি ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা৷ সরকার অবশ্য সতর্ক করে দিয়েছে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আইন কার্যকরে অন্তত ছয় মাস সময় লেগে যেতে পারে৷ ফলে আগামী জানুয়ারিতে আইন কার্যকর করতে চাইলে তা পাস করতে হবে এই গ্রীষ্মেই৷

বেন নাইট/এডিকে

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন