জার্মানিতে তুর্কি-কুর্দি দ্বন্দ্ব বাড়ছে | বিশ্ব | DW | 21.03.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি

জার্মানিতে তুর্কি-কুর্দি দ্বন্দ্ব বাড়ছে

চলতি বছরে জার্মানিতে বিভিন্ন তুর্কি মসজিদ, সাংস্কৃতিক সমিতি ও রেস্টুরেন্টের উপর আক্রমণের ঘটনা ২০১৭ সালে সাকুল্যে ১৩ থেকে বেড়ে ইতিমধ্যেই ৩৭-এ দাঁড়িয়েছে৷ এজন্য প্রধানত কুর্দি আন্দোলনকারীদেরই দায়ী করা হচ্ছে৷

জার্মানিতে তুর্কি প্রতিষ্ঠানসমূহের উপর আক্রমণের পরিসংখ্যান দেওয়ার সময় জার্মান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মন্তব্য করেন, ‘‘তুরস্কের সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষের জার্মানিতে বাস; ফলে জার্মানিতে চিরকালই তুর্কি-কুর্দি সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটেছে৷ আফরিনের সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর দরুণ তা বিশেষ তীব্রতা পেয়েছে৷’’

জার্মানিতে তুর্কি বংশোদ্ভূত ৩০ লাখ মানুষ বাস করেন, যাদের মধ্যে প্রায় এক-চতুর্থাংশ কুর্দি৷ অতীতেও জার্মানিতে বারংবার তুর্কি ও কুর্দিদের মধ্যে সংঘর্ষঘটেছে, বিশেষ করে যখন আশি ও নব্বই-এর দশকে কুর্দিদের সঙ্গে তুরস্কের সংঘাত চরমে ওঠে৷ সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে পুনরায় উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো আফরিনে তুরস্কের সামরিক অভিযান, যার পরিপ্রেক্ষিতে একটি কুর্দি যুব গোষ্ঠী সহিংসতার ডাক দিয়েছে৷

আফরিনে তুরস্কের অভিযান শুরু হয় গত জানুয়ারি মাসে৷ গত রবিবার তুর্কি সেনাবাহিনী ও তুরস্ক সমর্থিত সিরীয় যোদ্ধারা শহরটি পুরোপুরি দখল করে নেয়৷ হাজার হাজার অধিবাসী আফরিন ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন, বলে কুর্দি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন৷ আফরিনের পতনের পর জার্মানিতে কুর্দিদের রোষ ও হতাশা বার্লিন, নর্থ রাইন ওয়েস্ট ফেলিয়া, শ্লেষভিগ-হলস্টাইন ও বাডেন-ভ্যুর্টেনব্যার্গ রাজ্যে বিভিন্ন তুর্কি মসজিদ ও অপরাপর তুর্কি প্রতিষ্ঠানের উপর সহিংস আক্রমণের আকার ধারণ করে৷

বিক্ষোভ বনাম কূটনীতি

কুর্দি ভাষায় ‘নেভরোজ’ মানে হলো নওরোজ বা নববর্ষ, যা ছিল গত মঙ্গলবার৷ সেদিন হানোফার শহরে প্রায় ১১ হাজার কুর্দি ‘‘নেভরোজ মানে প্রতিরোধ – প্রতিরোধ মানে আফরিন'', এই নিশান হাতে নিয়ে আফরিনের উপর তুর্কি অভিযান ও জার্মান সরকারের তরফে তুরস্ককে অস্ত্র বিক্রয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রদর্শন করেন৷ জার্মানির বামদলের প্রতিনিধিরা তাদের সঙ্গে যোগ দেন৷ বিক্ষোভ মোটামুটি শান্তই থাকে, যদিও ওয়াইপিজি ও ওয়াইপিজে-র মতো সিরিয়ার কুর্দি গণসুরক্ষা গোষ্ঠীগুলির সমর্থনে ধ্বনি দেওয়া হয় ও ‘‘হত্যাকারী এর্দোয়ান’’৷

প্রবাসী ও অনাবাসী কুর্দিদের সমস্যা হলো এই যে, তাঁরা তাঁদের প্রচারণাকে বহুদিনের অভিজ্ঞতায় ফিলিস্তিনি কেফিয়ের পরিবর্তে সুট-বুট পরা অমায়িক লবিং-এ পরিণত করে ফেলেছে, যার প্রধান লক্ষণ, এই প্রচারণা প্রধানত শান্তিপূর্ণ ও সাংস্কৃতিক; কাজেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা জার্মানির মতো দেশগুলির তাতে আপত্তি নেই৷ বরং বামদল ও সাধারণভাবে জার্মান জনগণের তাতে সমর্থন আছে৷ কাজেই এ ধরনের ‘স্ট্রিট মবিলাইজেশন’ বা প্রকাশ্য বিক্ষোভ ও বিশৃঙ্খলা কুর্দিদের ‘লবিং অপারেশন' বা সরকার পর্যায়ে প্রচার প্রক্রিয়াকে বিপন্ন করতে পারে৷

এসি/এসিবি (এএফপি, ডিপিএ, ইপিডি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়