জার্মানিতে চালু হচ্ছে ‘ই-চিঠি′ | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 02.09.2010
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

জার্মানিতে চালু হচ্ছে ‘ই-চিঠি'

চিঠি না ইমেল – কোনটা আপনার পছন্দ? কখন কোন পথে আপনি ভাবের আদান-প্রদান করেন? কোনো একটি বেছে নেওয়ার প্রয়োজন নেই – জার্মানিতে অভিনব পরিষেবার মাধ্যমে এই দুইয়ের মেলবন্ধন ঘটানো হচ্ছে৷

default

মার্চ মাসে সেবিট মেলায় জার্মানির ডাক সংস্থা ‘ই-চিঠি’ পরিষেবার ঘোষণা করে

চিঠির গুরুত্ব

আজকের এই ই-মেলের যুগে কাগজে লেখা বা টাইপ করা চিঠিপত্রের চল কমেই চলেছে৷ তবে খামে ভরা চিঠির দিন একেবারে শেষ হয়ে যায় নি৷ কারণ সরকারি বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজে ভাবের আদান-প্রদানের প্রমাণ থাকা অত্যন্ত জরুরি৷ লিখিত কোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর থাকলে তবেই তা প্রামাণ্য হিসেবে গণ্য করা হয়৷ কে পাঠিয়েছে, কাকে পাঠিয়েছে – চিঠিতে তাও স্পষ্ট থাকে৷ ই-মেল অনেক দ্রুত ও সহজে পাঠানো গেলেও প্রেরক বা প্রাপকের পরিচয় সম্পর্কে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হওয়ার উপায় নেই৷ যে কেউ যে কোনো নাম নিয়ে বিনামূল্যের ই-মেল অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে এবং সেখান থেকে দিব্যি ই-মেল পাঠাতে পারে৷ তাছাড়া সেই ই-মেল মাঝপথে অন্য কেউ পড়ে ফেলছে কি না, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই৷

অর্থাৎ একদিকে কাগজে লেখা খামে ভরা চিঠি, অন্যদিকে কম্পিউটারের মনিটারে লেখা ই-মেল – এই দুইয়েরই কিছু সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে৷ চিঠির ক্ষেত্রে সমস্যা হলো, হাতে করে বা টাইপ করে কাগজে তা লিখতে হয়, খামে ভরে স্ট্যাম্প লাগিয়ে তা ডাক-বাক্স বা পোস্ট অফিসে পৌঁছে দিতে হয়৷ তারপর সেই চিঠি বিভিন্ন হাত ঘুরে প্রাপকের কাছে পৌঁছোয়৷ প্রাপক বাড়িতে না থাকলে খামও পড়ে থাকে৷ সে ফিরলে তারপর খাম খুলে চিঠি পড়তে পারে৷ প্রয়োজনে সে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে বলতে পারে, ‘‘কই, কোনো চিঠি পাই নি তো!'' অবশ্যই রেজিস্ট্রি করে পাঠালে অস্বীকার করার উপায় আর থাকে না, কিন্তু তার ঝক্কিও তো কম নয়৷

Screenshot E-Postbrief

জার্মানির ডাক সংস্থা ‘ডয়চে পস্ট’এর নতুন পরিষেবা ‘ই-চিঠি'

ইমেল ও চিঠির মেলবন্ধন

কিন্তু খামে ভরা চিঠির সুবিধা ও নিরাপত্তা যদি ই-মেলের মধ্যেও পাওয়া যেত, তাহলে কেমন হতো? জার্মানিতে ঠিক এই স্বপ্নই বাস্তবায়ন করার কাজ শুরু হয়েছে৷ দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে এই কাজ করা হচ্ছে৷

জার্মানিতে গত প্রায় ৫০০ বছর ধরে ডাক পরিষেবা চালু আছে৷ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই পরিষেবার অনেক উন্নতি হয়েছে বটে, কিন্তু তার মৌলিক কাঠামো একই রয়েছে৷ তবে গত জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকে চালু হয়েছে এক বিশেষ ইলেকট্রনিক চিঠির পরিষেবা৷ চিঠি ও ইমেলের সুবিধাগুলির মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন এই পরিষেবা৷ যারা এই পরিষেবার সুযোগ নিতে চান, তাদের প্রথমে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে হয় এবং বেশ কয়েক ধাপে নিজেদের পরিচয় সম্পর্কে অকাট্য প্রমাণ দিতে হয়৷ পরিচয়পত্র, মোবাইল টেলিফোন নম্বর ইত্যাদি অনেক তথ্য খতিয়ে দেখার পর জটিল প্রক্রিয়ার শেষে পাওয়া যায় বিশেষ এক ঠিকানা, যা দেখতে যে কোনো ইমেল ঠিকানার মতো হলেও বাইরে থেকে তাতে মেল পাঠানোর কোনো উপায় নেই৷ একমাত্র এই পরিষেবার গ্রাহকরাই নিজেদের মধ্যে এই ইমেল ঠিকানা ব্যবহার করে চিঠি পাঠাতে পারেন৷ বিশেষ নিরাপত্তার মোড়কে সেই চিঠি পৌঁছে যাবে পাঠকের কাছে৷ তবে গ্রাহক ইচ্ছে করলে যে কোনো বাড়ি বা দফতরের ঠিকানায়ও ইমেল পাঠাতে পারেন – ডাক সংস্থা সেই ইমেল প্রিন্ট করে খামে ভরে সাধারণ চিঠির মতোই বিলি করবে৷ দুটি ক্ষেত্রেই স্ট্যাম্পের মূল্য অনুযায়ী মাশুল গুনতে হবে৷ আর হ্যাঁ, প্রতিদিন অন্তত একবার নিয়ম করে ইন্টারনেটে নিজের ডাকবাক্স ঘেঁটে দেখতে হবে, নতুন কোনো চিঠি এল কি না৷ কারণ গোটা পরিষেবার মূলমন্ত্রই হচ্ছে দ্রুত ও নিরাপদে চিঠিপত্র চালাচালি করা৷ প্রাপক যদি চিঠি পেয়েও না পড়েন, তাহলে সেই উদ্যোগের কোনো অর্থ হয় না৷

Screenshot WEB.DE

কিছু বেসরকারি সংস্থার সহায়তায় জার্মান সরকার চালু করতে চলেছে ‘ডিই-মেল’

সরকারি উদ্যোগ

জার্মানির ডাক সংস্থা ‘ডয়চে পস্ট'এর এই বাণিজ্যিক পরিষেবার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় স্তরেও তোড়জোড় চলছে প্রায় একই ধরণের এক পরিষেবা চালু করা৷ ইন্টারনেটের জগতে দেশ হিসেবে জার্মানির পরিচয় রোমান অক্ষর ‘ডিই' হিসেবে, যেকারণে ওয়েবসাইটের ঠিকানার শেষে ‘ডিই' যোগ হয়৷ কিছু বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতায় সরকারের এই উদ্যোগের নামও ‘ডিই মেল'৷ ডাক সংস্থার পরিষেবার মতো এক্ষেত্রেও একটি বিশেষ ইমেল ঠিকানার জন্য আবেদন করতে হবে, যা পেতে গেলে নিজের পরিচয়ের প্রমাণ দিতে হবে৷ নিরাপত্তার বিশেষ ব্যবস্থা থাকায় সরকার ও প্রশাসনের প্রায় সব কাজকর্মেই এই ঠিকানা ব্যবহার করা যাবে৷ ফলে ঘরে বসেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে এমন অনেক কাজ সেরে ফেলা যাবে, যার জন্য এতদিন সশরীরে বিভিন্ন দপ্তরে হাজির হতে হতো এবং লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হতো৷ এছাড়াও, অন্য অনেক কাজ সেরে ফেলা যাবে এই পরিষেবার মাধ্যমে৷ এই কাঠামো চালু করার আগে জার্মান সংসদে একটি আইন পাশ করাতে হবে৷ চলতি বছরের শেষের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাওয়ার কথা৷ ধরে নেওয়া হচ্ছে, ২০১১ সাল থেকেই জার্মানিতে এই দুই বিশেষ ইমেল পরিষেবা ক্রমশঃ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করবে৷

প্রতিবেদন: সঞ্জীব বর্মন
সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন