জার্মানিতে কারা আগে টিকা পাবেন | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 19.12.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জার্মানি

জার্মানিতে কারা আগে টিকা পাবেন

২৭ ডিসেম্বর থেকে জার্মানিতে করোনার ভ্যাকসিন দেয়া শুরু হবে৷ শুরুতে এর আওতায় আসবেন আশি বছরের বেশি বয়সি আর স্বাস্থ্যকর্মীরা৷ যদিও ঘোষিত অগ্রাধিকার তালিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে৷

শুক্রবার জার্মান স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইয়েন্স স্পান সরকারের ভ্যাকসিন বিতরণ কৌশল প্রকাশ করেছেন৷ এর পরপরই বিরোধী দল, জার্মান এথিকস কাউন্সিল, সংসদ, চিকিৎসক ও পুলিশ সংগঠনগুলোর তরফ থেকে সমালোচনা ও উদ্বেগ জানানো হয়েছে৷

এরই মধ্যে বায়োনটেক-ফাইজারের টিকার অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশ৷ কিছুদিনের মধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়নও এর অনুমোদন দেয়ার কথা৷ পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী জার্মানিতে কেয়ার হোমগুলোতে ২৭ ডিসেম্বর থেকে টিকা দেয়া শুরুর কথা৷

তবে স্পান শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলনে সবাইকে ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘‘এখনও দীর্ঘ সময় আমাদেরকে এই ভাইরাসের সঙ্গে বসবাস করতে হবে৷''

ভ্যাকসিন দেয়ার ক্ষেত্রে সরকার অগ্রাধিকারের তিনটি পর্যায় নির্ধারণ করেছে৷ প্রতিটি পর্যায়ে ক্রমান্বরে বিভিন্ন জনগোষ্ঠী ভ্যাকসিন পাবেন৷ 

BG Coronavirus Impfung rund um die Welt | Deutschland Frankfurt

ফ্রাংকফুর্টে প্রস্তুতকৃত একটি ভ্যাকসিন কেন্দ্র৷

প্রথম অগ্রাধিকার:

১. আশি বছরোর্ধ্ব মানুষ৷

২. বয়স্ব মানুষ অথবা মানসিকভাবে অসুস্থদের নিয়মিত যারা দেখাশোনা করেন বা সেবা দেন৷

৩. কোভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা স্বাস্থ্য কর্মী, বিশেষ করে যারা আইসিইউ, ইমারজেন্সি বা জরুরি কক্ষ ও সামনের সারিতে কাজ করেন৷

৪. কোভিড-১৯ এর মৃত্যুঝুঁকিতে থাকা রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া স্বাস্থ্যকর্মীরা৷

দ্বিতীয় অগ্রাধিকার:

১. সত্তর বছরোর্ধ্ব মানুষ৷

২. কোভিড-১৯ আক্রান্ত হলে মৃত্যৃঝুঁকি বেশি এমন শারীরিক অবস্থায় যারা আছেন৷

৩. চলাফেরা করতে অক্ষম এবং গর্ভবতীদের সরাসরি সংস্পর্শে যারা বাস করেন বা সরাসরি তাদের সঙ্গে যারা কাজ করেন৷

৪. চিকিৎসক ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীরা যাদের কোভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি৷

৫. সরকারি হাসপাতালগুলো রক্ষণাবেক্ষণকারী জরুরি কর্মী৷

তৃতীয় অগ্রাধিকার:

১. ষাট বছরোর্ধ্ব মানুষ

২. কোভিড-১৯ আক্রান্ত হলে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হতে পারেন, এমন শারীরিক অবস্থায় রয়েছেন যারা৷ যেমন, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, কিডনি অথবা লিভার, এইচআইভি, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুক্তভোগীরা৷

৩. প্রথম দুই ধাপে যেসব স্বাস্থ্যকর্মীরা টিকা পাননি৷

৪. রাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কর্মী, পুলিশ, অগ্নি নির্বাপণে নিয়োজিতরা, ত্রাণ কর্মী, এবং সংসদ সদস্যরা৷

৫. বিদ্যুৎ, পানি, খাবার সরবরাহ, টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক, যোগাযোগ ব্যবস্থা, ঔষধ নেটওয়ার্কসহ জরুরি অবকাঠামোতে নিয়োজিত কর্মীরা৷

৬. শিক্ষক ও ডেকেয়ার কর্মীরা৷

৭. অনিশ্চিত পার্ট-টাইম চাকুরিতে নিয়োজিতরা, মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ, গুদামে কর্মরত কর্মীরা৷

৮. রিটেইল কর্মী

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী জানুয়ারির শেষ নাগাদ  জার্মানি ৩০ লাখ থেকে ৪০ লাখ টিকা হাতে পাবে৷ আর মার্চের মধ্যে তা বেড়ে হবে এক কোটি ১০ থেকে ৩০ লাখ৷ সেই হিসাবে শুধু প্রথম অগ্রাধিকারে থাকা সব জনগোষ্ঠীর টিকা পেতে আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে৷ এই প্রক্রিয়ায় তিন সপ্তাহর ব্যবধানে দুইবার টিকা ইনজেকশনের প্রয়োজন হবে৷ সব মিলিয়ে জার্মানির গোটা জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আসতে কমপক্ষে এক বছর অপেক্ষায় থাকতে হবে৷

তবে অগ্রাধিকারের ঘোষিত তালিকায় অনেকে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন৷ জার্মান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন এর প্রেসিডেন্ট ক্লাউস রাইনহার্টড বলেছেন সাধারণ স্বাস্থ্যকর্মীদেরকে তালিকার এত নীচে রাখাটা ঝুঁকিপূর্ণ৷ একই ধরনের অভিযোগ করেছে পুলিশ ইউনিয়নও৷ পুলিশ অফিসাররা পথেঘাটে অনেক মানুষের সংস্পর্শে আসেন, সেই ভিত্তিতে তাদেরকে উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর কাতারে বিবেচনা করা উচিত বলে মত দিয়েছেন তারা৷

অন্যদিকে জার্মান সংসদের প্রেসিডেন্ট ভল্ফগাং শয়েবলে সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রেও একই দাবি জানিয়েছেন৷ রাষ্ট্র পরিচালনার স্বার্থে অগ্রাধিকার তালিকায় সাংসদদের আরো উপরে থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি৷

ভ্যাকসিন প্রদান সংক্রান্ত আইন গঠনের বিষয়ে সংসদে বিতর্কের জোর দাবি জানিয়েছে বিরোধী দল ফ্রি ডেমোক্রেটিক পার্টি-এফডিপি৷

বেন নাইট/এফএস

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন