জার্মানিতে করোনা আবারো ‘বিপদজনক’ মাত্রায় | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 21.03.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জার্মানি

জার্মানিতে করোনা আবারো ‘বিপদজনক’ মাত্রায়

জার্মানিতে করোনার সংক্রমণ আবারো সরকারের নির্ধারিত বিপদজনক মাত্রা স্পর্শ করেছে৷ হামবুর্গে নেমে এসেছে কড়া লকডাউন৷ অন্যান্য জায়গাতেও কড়াকড়ি ফের বাড়তে পারে৷ সোমবার জানা যাবে সিদ্ধান্ত৷

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গেল এক সপ্তাহে জার্মানিতে প্রতি লাখে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১০৩ জনেরও বেশি৷ রোববার দেশটির স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থা রবার্ট কখ ইনস্টিটিটিউট এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে৷  সংক্রমণের হার ১০০ ছাড়ালে কড়া লকডাউন আরোপ করার বিষয়ে সরকারের আগের একটি সিদ্ধান্ত ছিল৷ সে অনুযায়ী, শুক্রবার হামবুর্গে স্থানীয় সরকার শহরটিতে কড়া লকডাউন ফিরিয়ে এনেছে৷

সোমবার চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের সঙ্গে ১৬টি রাজ্যের প্রধানমন্ত্রীদের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক রয়েছে৷ সেখানে লকডাউন বিষয়ে নতুন কিছু সিদ্ধান্ত আসতে পারে৷ ম্যার্কেল আগেই জানিয়ে রেখেছেন সংক্রমণের হার বাড়তে থাকলে প্রয়োজনে আবারো কড়া লকডাউনে ফিরতে সরকার দ্বিধা করবে না৷

বিদেশ থেকে আগতদের বাধ্যতামূলক কোয়ারান্টিন

বিদেশ থেকে কেউ জার্মানিতে আসলে তাদেরকে বাধ্যতামূলক কোয়ারান্টিনে পাঠানোর কথা ভাবছে জার্মানির সরকার৷ এই সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা দেখেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স৷ সামনের ছুটিতে বিদেশে ভ্রমনে যেতে ইচ্ছুক নাগরিকদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে খসড়া প্রস্তাবে৷ পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের সংস্পর্শে সহজে করোনার নতুন ধরনে তারা আক্রান্ত হতে পারেন৷ তাদের কথা মাথায় রেখে তাই ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে৷ 

পরিকল্পনায় কোম্পানিগুলোর উপরও নতুন নির্দেশনার প্রস্তাব থাকছে৷ সে অনুযায়ী কোন প্রতিষ্ঠান কর্মীদের ঘর থেকে অফিস করার সুযোগ দিতে ব্যর্থ হলে সপ্তাহে দুই দিন তাদেরকে করোনার .ব্যাপিড টেস্ট করাতে হবে৷

Deutschland | Demonstration gegen Corona-Maßnahmen in Kassel

শনিবার কাসেল-এ লকডাউন বিরোধী বিক্ষোভে জড়ো হন ২০ হাজার মানুষ৷

লকডাউন বিরোধী প্রতিবাদ

দীর্ঘদিনের লকডাউনে এরইমধ্যে হতাশ হয়ে পড়েছেন দেশটির অনেক মানুষ৷ নতুন কড়াকড়ি তো নয়ই বরং বিদ্যমান নিয়ম কানুনও তুলে দেয়ার দাবিতে শনিবার বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করেছেন অনেকে৷

জার্মানির শহর কাসেল-এ জড়ো হন ২০ হাজার মানুষ৷ তাদের অনেকে স্বাস্থ্যবিধি মানেননি৷ এক পর্যায়ে কিছু প্রতিবাদকারী পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা করেন৷ সেখানে লকডাউনের পক্ষে-বিপক্ষের সমর্থকদের মধ্যেও সংঘাত হয়৷ পরে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ৷ বিক্ষোভকারীরা কয়েকজন সাংবিদেকের উপরও হামলা চালিয়েছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা ডিপিএ৷ কাসেল থেকে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের কথা উল্লেখ করেছে বার্তা সংস্থা এপি৷

টিকা প্রদানে গতি

এদিকে জার্মানিতে করোনার টিকা দেয়ার ধীরগতি নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে৷ রবার্ট কখ ইনস্টিটিউট এর হিসাবে ৩০ লাখ মানুষ এরইমধ্যে দুই ডোজ টিকা পেয়েছেন৷ প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৭০ লাখ৷

তবে টিকা প্রদানে আরো গতি আনতে বেশি কিছু নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার৷ শুক্রবার ফেডারেল সরকার ও রাজ্য সরকারের বৈঠক অনুযায়ী, ইস্টারের পরে পারিবারিক ও সাধারণ চিকিৎসকদেরও টিকা বিতরণের অনুমতি দেয়া হবে৷ এপ্রিলের মধ্যে দ্রুত ও আরো বিস্তৃত পরিসরে টিকার কার্যক্রম শুরু হবে৷

রোববারের হিসাবে, ২৪ ঘণ্টায় জার্মানিতে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৩,৭৩৩ জন, যেখানে আগের সপ্তাহে শনাক্ত হয়েছেন ১০,৭৯০ জন৷ বেড়েছে মৃত্যুর সংখ্যাও৷ এক সপ্তাহ আগে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছিলেন ৭০ জন৷ সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ হারিয়েছেন ৯৯ জন৷

এফএস/জেডএ (ডিপিএ, এপি, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়