জার্মানিতে করোনাকালে সপ্তাহান্ত যেভাবে কাটছে | বিশ্ব | DW | 28.09.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জার্মানি

জার্মানিতে করোনাকালে সপ্তাহান্ত যেভাবে কাটছে

জার্মানিতে সপ্তাহান্ত মানেই বিশেষ কিছু করার পরিকল্পনা৷ কিন্তু করোনা মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে বদলে দিয়েছে৷ সংক্রমণ এড়াতে তাই জার্মান এবং অন্য দেশ থেকে আসা মানুষরা সপ্তাহান্ত কাটাচ্ছেন একটু অন্যভাবে৷

দুই সন্তানের মা মাইকে ম্যুলার বললেন, ‘‘করোনার কারণে গত কয়েক মাস হোম অফিস এবং পাশাপাশি বাচ্চাদের হোম স্কুলিং দেখাশোনা করেছি বলে এখন অনেকটাই ক্লান্ত৷ অন্য সময় বছরে কমপক্ষে দুইবার ছুটি কাটাতে যাই৷ এবার করোনা আমাদের আটকে রেখেছে৷ তবে সপ্তাহান্তে বাচ্চাদের নিয়ে বাগানে খেলাধুলা করি বা পার্কে যাই৷’’ কোলনের একটি বিমা কোম্পানির টিম লিডার মাইকে অত্যন্ত স্বাস্থ্য সচেতন৷ ৪৪ বছর বয়সি এই নারী প্রতি রোববার জিমে যান৷ মাঝে মাঝে পুরনো বান্ধবীদের সাথে দেখা করেন৷ সংকটের সময় পরিবারের সদস্য এবং পুরনো বন্ধুদের সাথে কথা বলতে ভালো লাগে তার৷

কোলনে ইন্ডিয়ান মাসালা নামে এক রোস্তোরাঁ চালান বাংলাদেশি নারী নাজমা আক্তার৷ করোনাকালে ছুটির দিন কিভাবে কাটান- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘সপ্তাহে সাতদিনই রেস্তোরা খোলা রাখি৷ তাই আমার কোনো ছুটি নেই৷ তবে রোববার বিকেল থেকে রেস্তোরাঁ খোলা হয় বলে সেদিনের সকালবেলাটা আমার নিজের৷’’ দুই সন্তানের মা নাজমা জানান, ওই সময়টুকুতেও সংসারের অনেক কাজ করতে হয় তাকে৷ একটি দিন আনন্দে কাটানোর কথা এখন তিনি ভাবতেই পারেন না৷

তবে তার মেয়ে আখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সের শিক্ষার্থী ছুটির দিনে বাড়িতে এলে ঘরের কাজে কিছুটা সাহায্য হয় বলে জানালেন নাজমা আক্তার৷ সপ্তাহান্ত কাটিয়ে চলে যাওয়ার সময় মেয়ের হাতে বক্স ভরে খাবার তুলে দেন, পাছে মেয়ে হোস্টেলে না খেয়ে থাকে!

কোলনের আরেক বাংলাদেশি নারী আফরোজা ভুইয়া জানালেন ছুটির দিনে তিনি বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে আড্ডা দেন, রেস্তোরাঁয় খেতে যান বা কোথাও ঘুরতে যান৷ গ্রীষ্মকালে আবহাওয়া অনুকূলে, তাই খোলা আকাশের নীচেই আড্ডা দিতে পেরে তিনি খুশি৷ ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও করোনাকালে একবারও হলে গিয়ে সিনেমা দেখতে পারেননি বলে একটু আফসোসও করলেন আফরোজা৷

জার্মানিতে করোনা সংক্রমণ এখন যে হারে বাড়ছে তাতে শীতের সময় কীভাবে সপ্তাহান্ত কাটাবেন তা নিয়ে কিছুটা চিন্তিত জার্মানিতে জন্ম ও বেড়ে ওঠা আফরোজা৷

এই করোনা ইতিমধ্যে খুব বড় আঘাত দিয়েছে অ্যামেরিকান কেমিকেল কোম্পানিতে কর্মরত আফরোজাকে৷ করোনায় তার দুই চাচাকে হারিয়েছেন তিনি৷ নিউ ইর্য়কে মারা গেছেন তারা৷

বন শহরের বাসিন্দা বন্যা ফেরদৌস বললেন, করোনার সময়ে তিনি তার বাড়িতে কাউকে ডাকেননি বা নিজেও কারো বাড়িতে বেড়াতে যাননি৷ তবে ছুটির দিনে শুধু তিনটি পরিবারের সাথে মাঝে মাঝে রেস্তোরা বা বাইরে কোথাও আড্ডা দিতে যান৷ তবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা ভোলেন না তিনি৷ একটি নার্সিং হোমে কাজ করেন বলে এ বিষয়ে তিনি সবসময়ই সচেতন৷

ডোরোথিয়া হামাখার রোববারটা শুধু ঘুমিয়েই কাটিয়ে দেন৷ এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘সারা সপ্তাহ অফিসের চাপ আর করোনার কারণে শনিবার বরাদ্দ রাখি মা-বাবার জন্য৷ তাদের বয়স ৭০-এর কাছাকাছি৷ প্রতি শনিবার তাদের জন্য পুরো সপ্তাহের কেনাকাটা করে প্রায় ঘণ্টা খানেক গাড়ি চালিয়ে সেগুলো দিয়ে আসি৷’’ ডরোথিয়া কোলনের একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেন৷ তিনি বলেন, ‘‘নিজেকে ফিট রাখতে রোববারটা আমি আরাম করি, ঘুমিয়ে কাটাই৷’’

ডিয়ার্ক কাইলের অফিস ড্যুসেলডর্ফে৷ আগে প্রতিদিন কোলন থেকে এক দেড় ঘন্টা গাড়ি চালিয়ে যেতে হতো সেখানে৷ এখন রাস্তার সময়টুকু বাঁচাতে পারছেন বলে তিনি খুশি৷ তবে হোম অফিস আর তার পছন্দ নয়৷ এখন আর আগের মতো কারো সাথে কোথাও যাওয়ার প্ল্যান করা যায় না৷ তাই এই আইটি বিশেষজ্ঞ হুট করেই একটা মোটর সাইকেল কিনে ফেলেছেন৷ সেটা নিয়ে ছুটির দিনে ঘুরতে বেরিয়ে পড়েন তিনি৷

তবে ব্যতিক্রম দেখা গেল বন-এর বাসিন্দা ইয়েরেস ফ্লেকের ক্ষেত্রে৷ করোনা থামাতে পারেনি তার বেড়ানো৷ ডাক্তারের পত্নী ইয়েরেস ফ্লেক প্রতি সপ্তাহান্তেই কোথাও না কোথাও ঘুরতে যাচ্ছেন৷ এরই মধ্যে দুবার গিয়েছেন ইটালিতে৷ সম্প্রতি ঘুরে এলেন অস্ট্রিয়া থেকে৷ আগামী সপ্তাহে জার্মানির কোনো এক দ্বীপে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে তাঁর৷ ইটালি ছাড়া সব জায়গাতেই অবশ্য গাড়িতে গিয়েছেন এবং করোনার সংক্রমণ এড়াতে সব জায়গাতেই বাড়ি ভাড়া করে থেকেছেন৷ ঘুরতে না গেলে সপ্তাহান্তে দুই ছেলেকে নিয়ে ঘোড়া চালান ইয়েরেস ফ্লেক৷ তাঁর পুরো পরিবারই ঘোড়া চালানোয় খুব পারদর্শী৷ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় একাধিক পুরস্কারও জিতেছেন তাঁরা৷

ফুলের দোকানের মালিক এক ইরানি দম্পতি জানালেন, ফুলের ব্যাপক চাহিদার কারণে প্রতিদিনই দোকান খোলা রাখতে হয়৷ এমনকি রোববার সকালেও দুই ঘন্টা খোলা থাকে দোকান৷ দিনের বাকি সময়টুকু আবহাওয়া ভালো থাকলে নিজেদেরও ফুলের মতো তরতাজা রাখতে স্বামী-স্ত্রী সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন