জার্মানিতে উগ্র ডানপন্থিদের উত্থানে মুসলিম শরণার্থীরা উদ্বিগ্ন  | বিশ্ব | DW | 27.09.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জার্মানি

জার্মানিতে উগ্র ডানপন্থিদের উত্থানে মুসলিম শরণার্থীরা উদ্বিগ্ন 

জার্মানির জাতীয় নির্বাচনে ডানপন্থি দল ‘জার্মানির জন্য বিকল্প’ বা এএফডি ১৩ শতাংশের মতো ভোট পাওয়ায় মুসলিম শরণার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে৷ দলটি কার্যত অভিবাসী এবং ইসলামবিরোধী হিসেবে পরিচিত৷

ডানপন্থি পপুলিস্ট দল এএফডি জার্মান সংসদে প্রবেশের সুযোগ পাওয়ায় অনেক জার্মান বিস্মিত হয়েছেন৷ পাশাপাশি, অভিবাসনবিরোধী এই দলের জনসমর্থন বাড়ায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে আফগান এবং অন্যান্য মুসলিম শরণার্থীদের মধ্যেও৷

রবিবারের জাতীয় নির্বাচনে এএফডি ১৩ শতাংশের মতো ভোট পেয়ে জার্মানির তৃতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দলে পরিনত হয়েছে৷ দেশটির বড় দুই রাজনৈতিক দল, অর্থাৎ খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী দল সিডিইউ এবং সামাজিক গণতন্ত্রী এসপিডির অনেক সমর্থকও এই দলকে ভোট দিয়েছে৷ ফলে পঞ্চাশ বছর পর এই প্রথম একটি উগ্র ডানপন্থি দল জার্মান সংসদে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে৷

নির্বাচনে এএফডি'র এত ভালো করার পেছনে মূলত তাদের অভিবাসীবিরোধী নীতি কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে৷ ২০১৫ সালে ইউরোপে ব্যাপকহারে শরণার্থী প্রবেশ করলে জার্মানিসহ ইউরোপে এক ধরনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়, যা পুঁজি করে এগিয়েছে ডানপন্থি দলটি৷ যদিও অভিবাসীবিরোধী মানুষের সংখ্যা সামগ্রিকভাবে বেশি নয়, তা সত্ত্বেও বিষয়টি উদ্বেগের কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে৷ ডানপন্থি দলটি গত কয়েক বছর ধরে দাবি করে আসছে যে, জার্মানিকে ‘ইসলামিকীকরন’করা হচ্ছে৷

ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা

রবিবারের নির্বাচনে জয়লাভের পর সিডিইউ দলের প্রধান আঙ্গেলা ম্যার্কেল তাঁর বিজয়ী ভাষণে জানান যে, ডানপন্থি ভোটারদের পুনরায় কাছে টানতে আগামী চার বছর কাজ করবেন তিনি৷ তাঁর এই বক্তব্যের ফলে অনেকে ধারণা করতে শুরু করেছেন যে, এএফডি'র সাফল্যের কারণে হয়ত মূলধারার রাজনৈতিক দল সিডিইউ চাপে পড়ে তাদের অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন আনতে পারে, যার ফলে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার বিষয়টি আরো জটিল হয়ে যেতে পারে এবং আশ্রয়ের আবেদন বাতিল হওয়াদের আরো দ্রুত নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে৷

ফ্রাঙ্কফুর্টে বসবাসরত আফগান রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী কবির উসমানি এই বিষয়ে বলেন, ‘‘রবিবারের নির্বাচনের ফলাফল জানার পর থেকে আমি নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছি৷ আমার আশঙ্কা, সরকার আমাকে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠাতে পারে৷’’

তিন বছর ধরে জার্মানিতে বসবাসরত উসমানি বলেন, ‘‘আমি জীবনের ভয়ে আফগানিস্তান ত্যাগ করেছিলাম৷ এখনো ভয়ে আছি - বিতাড়নের ভয়৷’’

আরো কঠোর নীতি

২০১৩ সালের তুলনায় তাঁর দল আট শতাংশ কম ভোট পাওয়া সত্ত্বেও অভিবাসন নীতিতে নিজের অবস্থানে কোনো ভুল ছিল না বলে জানিয়েছেন ম্যার্কেল৷ তিনি পরিষ্কারভাবেই জানান যে, ২০১৫ সালে সিরিয়া, ইরান এবং আফগানিস্তান থেকে আসা শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল৷ তবে অনেকেই, এমনকি তাঁর দলের কোনো কোনো রাজনীতিবিদও মনে করেন, ম্যার্কেলের সেই সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না৷

সর্বশেষ নির্বাচনের পর কেউ কেউ মনে করছেন ডানপন্থি সমর্থকদের ফিরে পেতে ম্যার্কেল হয়ত শরণার্থী নীতিতে আরো কঠোর হতে বাধ্য হতে পারেন৷ কোলনে বসবাসরত আফগান শরণার্থী ওয়াফা খান ওয়াফা বলেন, ‘‘আমি আমার ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন৷ আমি আশঙ্কা করি যে, ডানপন্থিদের সমর্থন ফিরে পেতে মূলধারার দলগুলো আমাদের প্রতি কঠোর হতে পারে৷’’

এদিকে, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শরণার্থী ইস্যুতে ইতোমধ্যে একটি কঠোর অবস্থানে চলে গেছে জার্মান সরকার৷ নির্বাচনের আগে আগে আফগান শরণার্থীদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করা হয়, যা গত জুনে সেদেশে জার্মান দূতাবাসের সামনে হামলার পর বন্ধ ছিল৷

কিছু শরণার্থী অবশ্য এখনো আশাবাদী৷ তারা মনে করেন, সমাজের রক্ষণশীল অংশকে সন্তুষ্ট করতে খুব বেশি চেষ্টা সম্ভবত ম্যার্কেল করবেন না৷ কেননা, এএফডি'র মতো একটি দলের পক্ষে জার্মানির ধর্মনিরপেক্ষ শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে না৷

মাসুদ সাইফুল্লাহ/এআই

প্রিয় পাঠক, আপনি কিছু বলতে চাইলে লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে...

২৩ ফেব্রুয়ারির এই ছবিঘরটি দেখুন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন