জার্মানিতে অভিবাসনপ্রত্যাশীকে পিটিয়ে শূকরের মাংস খাওয়ানোর অভিযোগ | বিশ্ব | DW | 18.05.2015
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

জার্মানিতে অভিবাসনপ্রত্যাশীকে পিটিয়ে শূকরের মাংস খাওয়ানোর অভিযোগ

আফগান যুবককে পা ধরে টেনে নিয়ে অত্যাচার এবং এক মরোক্কানকে পিটিয়ে শূকরের মাংস খাওয়ানোর অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে৷ তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের শাস্তির আশ্বাস দিয়েছে জার্মান পুলিশ৷

জার্মানির লোয়ার স্যাক্সনি রাজ্যে পুলিশি নির্যাতনের রোমহর্ষক দুটি ঘটনা নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রচার করেছে নর্ডডয়েচ রুন্ডফুঙ্ক রেডিও (এনডেআর)৷ প্রতিবেদনে জানানো হয়, মোবাইলে তোলা বেশ কিছু ছবি এবং হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ হাতে পাওয়ার পর আইনজীবীরা তা খতিয়ে দেখছেন৷ ছবি এং মেসেজগুলোতে হ্যানোভার শহরের কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিবাসী নির্যাতনের অভিযোগের প্রমাণ রয়েছে৷ অ্যাটর্নি জেনারেল টোমাস ক্লিঙ্গে এনডেআরকে জানান, গত সপ্তাহে তাঁরা এ অভিযোগটি পেয়েছেন, এখন তদন্ত চলছে৷ তবে জার্মানির মানবাধিকার সংস্থা ‘প্রো অ্যাসাইল' ইতিমধ্যে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে৷ এক বিবৃতিতে হানোফার পুলিশকে ‘বর্ণবাদী' আখ্যা দিয়ে দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছে তারা৷

Deutschland Einreise Visum Reisepass Kontrolle

পুলিশ আফগান ছেলেটির পা ধরে টেনেহেঁচড়ে প্ল্যাটফর্ম থেকে বাইরে নিয়ে যায়, থানায় নিয়ে পেটায়

সরকারি রেডিও ও টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এনডেআর এক্সক্লুকিভ প্রতিবেদনে দুটি ঘটনা তুলে ধরেছে৷ প্রথম ঘটনাটি ২০১৪ সালের৷ সে বছরের মার্চ মাসে হ্যানোভার রেলস্টেশন থেকে এক আফগান যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ৷ ১৯ বছর বয়সি যুবকটির কাছে পাসপোর্ট বা অন্য কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিলনা৷ পুলিশ তাঁর শেকল বাঁধা পা ধরে টেনেহেঁচড়ে প্ল্যাটফর্ম থেকে বাইরে নিয়ে যায়৷ থানায় নিয়ে পেটানো হয় তাঁকে৷ এনডেআর-এর কাছে একটি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ এসেছে, যাতে এক পুলিশ কর্মকর্তা আফগান যুবকটিকে নির্যাতন করার খবর সানন্দে তাঁর এক সহকর্মীকে জানাতে গিয়ে লিখেছেন, ‘‘(জার্মানিতে) অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণে আফগানটিকে আমি আচ্ছামতো ধোলাই দিয়েছি৷ নাকের ভেতরে আঙুল ঢুকিয়ে দেয়ায় ও চিৎকার করে উঠল৷ মজা লাগছিল আমার৷ তারপর আমি ওকে পায়ের শেকল ধরে টেনেটেনে স্টেশন থেকে বাইরে নিয়ে যাই৷ সে তখন শুয়োরের মতো চিঁ চিঁ করছিল৷''

দ্বিতীয় ঘটনাটি গত বছরের সেপ্টেম্বরের৷ পুলিশি নির্যাতনের এই শিকারের বয়সও ১৯৷ তবে সে আফগান নয়, মরোক্কান৷ বৈধ কাগজপত্রও ছিল তাঁর কাছে৷

তাঁর অপরাধ, বিনা টিকিটে ট্রেনে ওঠা৷ এই অপরাধে পুলিশ তাঁকে ধরে থানায় নিয়ে যায় এবং সেখানেই চলে অকথ্য নির্যাতন৷ হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে নির্যাতন সম্পর্কে লেখা হয়েছে, ‘‘(এক কর্মকর্তা) ছেলেটির শুয়োরের মতো চিঁ চিঁ আওয়াজ শুনেছে৷ জারজটা ফ্রিজ আর মেঝে থেকে শূকরের মাংস গপ গপ করে খেয়েছে৷''

শূকরের মাংস মুসলমানদের কাছে হারাম৷ তাই মরক্কোর যুবকটিকে তা খেতে বাধ্য করা হয়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে৷ দুটি ঘটনারই সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের শাস্তির আশ্বাস দিয়েছে জার্মানির কেন্দ্রীয় পুলিশ৷

এদিকে এক অভিবাসনপ্রত্যাশীকে বাঁচানোর খবরও এসেছে সংবাদ মাধ্যমে৷ রবিবার লোয়ার স্যাক্সনির আরেক শহর লিঙ্গেনে নিজের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন ৩৬ বছর বয়সি এক মরোক্বান৷ পথচারীরা এসে তাঁকে মাটিতে ফেলে গায়ের আগুন নেভানোর চেষ্টা করে৷ তারপর পুলিশ এসে দ্রুত নিয়ে যায় হাসপাতালে৷ আত্মহত্যা করতে যাওয়া লোকটিকে সোমবার মরক্কোয় জোর করে ফেরত পাঠানোর কথা৷ অভিবাসী হতে চাইলেও তাঁর কাছে বৈধ কাগজপত্র ছিল না বলে জানিয়েছে পুলিশ৷ জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানোর একদিন আগে তাই আত্মহননের চেষ্টা করেন তিনি৷ তাঁর অবস্থা এখন বেশ সংকটাপন্ন৷

এসিবি/জেডএইচ (ডিপিএ, এএফপি, এনডেআর)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন