জার্মানিতে অঙ্গদানের ক্ষেত্রে নতুন আইন প্রণয়নের চিন্তাভাবনা | বিজ্ঞান পরিবেশ | DW | 26.03.2012
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞান পরিবেশ

জার্মানিতে অঙ্গদানের ক্ষেত্রে নতুন আইন প্রণয়নের চিন্তাভাবনা

অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দানের ব্যাপারে জার্মানিতে এখনও সচেতনতার অভাব রয়েছে৷ অথচ কারো মস্তিষ্কের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অন্য কোনো মরণাপন্ন রোগীর জীবন রক্ষা করতে পারে৷

১৯ বছরের কেভিন কিছুদিন আগেও ছিল সুস্থ সবল এক তরুণ৷ কিন্তু হঠাৎ একদিন অজ্ঞান হয়ে যায় সে৷ পরীক্ষা করে জানা গেল মারাত্মক এক ধরনের হৃদরোগে ভুগছে সে৷ নতুন হৃদযন্ত্র না পেয়ে কৃত্রিম এক ধরনের পাম্প বসিয়ে দেয়া হয়েছে তার হার্টে৷ এই মেশিনেই এখন আবদ্ধ কেভিনের জীবন৷ কেভিন জানায়, ‘‘এটা কোনো ভাল অনুভূতি নয়, খুবই খারাপ৷ কিন্তু মেশিন খুলে ফেললে আমি আধ ঘন্টার মধ্যে মারা যাব৷''

হার্টের পাম্পটি তার শরীরকে কাহিল করে ফেলছে৷ এই ভাবে চললে বেঁচে থাকবে সে আর মাত্র কয়েক বছর৷ ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ১০০ কিলোমিটার দূরে লাইপৎজিগের হার্ট ক্লিনিকে কেভিনকে নিয়ে যান তার বাবা৷ নিজের অনুভূতি জানায় কেভিন এভাবে, ‘‘গাড়িতে করে যাওয়ার সময় সবসময় ভয়ে ভয়ে থাকি৷ হাসপাতালে গিয়ে শুনতে হবে, অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যায়নি তো? সংক্রমণ হয়নি তো? হাসপাতালে থাকতে হবেনা তো? সংক্রমণ হলে সেটা খুব বিপজ্জনক হবে৷ আবার প্রথম থেকে শুরু করতে হবে সব কিছু৷''

Das menschliche Herz

হৃদযন্ত্র

কেভিনের বাবা বলেন, ‘‘মনে হয় সব কিছুই যেন ছবির মত ঘটে যায়৷ স্পষ্ট কোনো চিন্তাভাবনা করা যায়না৷ বাবা হয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই করতে পারিনা৷ কিডনির সমস্যা হলে আমি ওকে একটা কিডনি দিতে পারতাম৷ কিন্তু হার্টের ক্ষেত্রে তো তা সম্ভব নয়৷''

অঙ্গদানের ক্ষেত্রে দ্বিধাদ্বন্দ্ব

কেভিনের মত ভাগ্য আরো অনেকেরই৷ জার্মানিতে রয়েছে অঙ্গদাতার অভাব৷ ব্রেইন ডেড বা মস্তিষ্কের মৃত্যু হলে হার্ট, লিভার, কিডনি, ফুসফুস এসব অঙ্গ অনেক সময় ভাল থাকে৷ কিন্তু অন্যান্য অনেক ইউরোপীয় দেশের মত জার্মানিতে অঙ্গদানের ক্ষেত্রে উইল করতে দ্বিধা লক্ষ্য করা যায় মানুষের মধ্যে৷ আত্মীয়স্বজনের সিদ্ধান্তটাও ইতিবাচক হয়না বেশির ভাগ ক্ষেত্রে৷ প্রতি সাতে একজন অঙ্গদাতা পাওয়া যায়৷

সমস্ত ব্যবস্থাটা পরিচালিত হয় জার্মানির অঙ্গদানের সমন্বয় কেন্দ্র থেকে৷ জার্মানিতে হাজার হাজার রোগী বৃথাই কোনো অঙ্গের জন্যে অপেক্ষা করে থাকেন দিনের পর দিন৷ খ্যাতনামা অঙ্গ প্রতিস্থাপন বিশেষজ্ঞ গ্যুনটার কির্সটে'র মতে স্বাস্থ্য বিভাগ ও রাজনীতিকদের উদ্যোগের অভাবই এক্ষেত্রে দায়ী৷

Organtransplantation Organspende Operation Nierentransplantation

নতুন কিডনি বসানো হচ্ছে

তাঁর ভাষায়, ‘‘আমরা সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রতিস্থাপন সংক্রান্ত আইন বাস্তবায়নের আহ্বান জানাচ্ছি৷ তাদের উচিত জনগণকে অঙ্গদানের ক্ষেত্রে সচেতন করা৷''

জ্ঞানের অভাব৷ এ কারণে কেভিন কেরুটের মত রোগীদের ভুগতে হচ্ছে৷ লাইপৎজিগের হার্ট ক্লিনিকে পরীক্ষা করে দেখা গেল কেভিনের অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে৷ অদ্ভুত ব্যাপার হল, অবস্থা আরো খারাপ হলেই কেবল কেভিনের সুস্থ একটি হৃদযন্ত্র পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে৷

নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ

অঙ্গদানের ক্ষেত্রে এই দুরবস্থার কারণে রাজনীতিকদের টনকও নড়েছে৷ তাঁরা এখন অঙ্গদান ও প্রতিস্থাপন আইনের পরিবর্তন করতে চাইছেন৷ জার্মান সংসদের নিম্নকক্ষ বুন্ডেসটাগের সিডিইউ/সিএসইউ দলের সংসদীয় প্রধান ফল্কার কাউডার এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘আমরা জার্মানিতে আরো বেশি অঙ্গদাতার প্রয়োজন অনুভব করছি৷ এ জন্য আমরা প্রচেষ্টা চালাচ্ছি, যাতে মানুষরা জীবনে অন্তত একবার বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামায়৷ আমি কী অঙ্গ দান করতে চাই, না চাইনা, নাকি এই বিষয়ে আমার কিছুই বলার নেই৷''

Organhandel International Dossierbild 1

পাকিস্তানে ঋণ শোধ করতে এরা কিডনি বিক্রি করেছে

পাসপোর্ট, পরিচিতি পত্র বা ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার সময় প্রত্যেককে অঙ্গ দানের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হবে৷ সিদ্ধান্তটা ডকুমেন্টে লিখে রাখা হবে৷ এসপিডি দলের সংসদীয় প্রধান শ্টাইনমায়ারও এই নতুন আইন প্রণয়নের ব্যাপারে সহযোগিতা করছেন৷ দুরারোগ্য কিডনির রোগে আক্রান্ত স্ত্রীকে নিজের কিডনি দিয়েছেন শ্টাইনমায়ার কিছুদিন আগে৷ কিন্তু সংসদের নিম্নকক্ষে এব্যাপারে বিরোধী কন্ঠও শোনা যাচ্ছে৷ সবুজ দলের স্বাস্থ্যবিষয়ক সাংসদ এলিজাবেথ শার্ফেনব্যার্গ বলেন, ‘‘আমার পাসপোর্টটি বিশ্বের যে কোনো বিমান বন্দরে দেখাতে হয়৷ সেখানকার কর্মীদের আমি এ সম্পর্কে তথ্য দিতে ইচ্ছুক নই৷ এ ছাড়া মানুষকে এই বিষয়টি নিয়ে মাথা না ঘামানোর অধিকারও দিতে হবে৷''

অঙ্গ প্রতিস্থাপন সংক্রান্ত জার্মান ফাউন্ডেশনের মুখপাত্র গ্যুন্টার কির্সটে এই ধরনের বিতর্ককে ভুল বলে আখ্যা দেন৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘সমস্যাটা হল, এক্ষেত্রে আবার আতঙ্ক দেখা দিতে পারে, প্রশ্ন জাগতে পারে মস্তিষ্কের মৃত্যু নিয়ে৷ বৈজ্ঞানিক দিক দিয়ে বিষয়টি খুবই স্পষ্ট৷ এ ক্ষেত্রে কোনো সন্দেহ নেই৷ কিন্তু বিতর্ক শুরু হলেই মানুষের মনে দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা দিতে পারে৷''

কেভিন কেরুট'এর আশা, অঙ্গদানের ব্যাপারে আইনের সংস্কার হলে সুস্থ হৃদযন্ত্র পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে তার৷ মৃত্যুর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়াও সহজ হবে৷

প্রতিবেদন: রায়হানা বেগম
সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন