জার্মানিতেও এঁটেল পোকার হানা | অন্বেষণ | DW | 12.11.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

জার্মানিতেও এঁটেল পোকার হানা

ক্ষুদ্র হলেও এঁটেল পোকা মারাত্মক রোগের কারণ হতে পারে৷ জার্মানি তথা ইউরোপের কিছু অংশে এই পোকার কামড়ে মেনেনজাইটিস রোগ হচ্ছে৷ টিকাসহ একাধিক পদক্ষেপের মাধ্যমে এই সমস্যার মোকাবিলার চেষ্টা চলছে৷

গোটা বিশ্বে টিক বা এঁটেল পোকা ছড়িয়ে রয়েছে৷ নানা প্রজাতির সব এঁটেল পোকাই রক্ত খায়৷ সেই তালিকায় হায়ালোমা নামের এক প্রজাতি যুক্ত হয়েছে৷ অন্যান্য প্রজাতির এঁটেল পোকার তুলনায় এটির আকার বেশ বড় ও আচরণও বাকিদের থেকে আলাদা৷ ইনসেক্ট সার্ভিসেসের ড. হান্স ডাউটেল এ বিষয়ে বলেন, ‘‘ভূমধ্যসাগরের পূ্র্বাঞ্চলে এই এঁটেল পোকার উৎস৷ ক্রাইমিয়ান কংগো হেমোরাজিক জ্বরের বাহক হিসেবে এরা পরিচিত৷ এই রোগ বেশ মারাত্মক৷ রোগীদের একাংশের মৃত্যু হয়৷ এই এঁটেল পোকার মাধ্যমে সেই ভাইরাস আমাদের কাছে চলে আসতে পারে, এমন আশঙ্কা রয়েছে৷’’

গত কয়েক বছরে হায়ালোমা ইউরোপের কিছু অংশে এসে পড়েছে৷ বলকান দেশগুলি থেকে স্পেন পর্যন্ত এই পোকা দেখা গেছে৷ এই প্রথম জার্মানিতেও এই এঁটেল পোকার অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেছে৷ অর্থাৎ অদূর ভবিষ্যতে জার্মানিতেও এই পোকা বাসা বাঁধতে পারে৷

সম্ভবত পরিজায়ী পাখির মাধ্যমে এই পোকা এসে পড়েছে৷ ড. ডাউটেল মনে করেন, ‘‘কিছু হিসাবের মডেল অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমাদের এখানে বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে উষ্ণতা বাড়লে এই প্রজাতির এঁটেল পোকা জার্মানির পূর্বাঞ্চলে, বিশেষ করে বার্লিনের দক্ষিণ পূর্বে ছড়িয়ে পড়তে পারে৷’’

তবে পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী জার্মানিতে পাওয়া হায়ালোমা পোকার মধ্যে বিপজ্জনক ক্রাইমিয়ান কংগো ভাইরাস ছিল না৷ স্বাস্থ্য ও পোকা সুরক্ষা কেন্দ্রের ড. মাসইয়ার মোনাজাইয়ান বলেন, ‘‘হায়ালোমা প্রজাতির এঁটেল পোকা সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্যপ্রমাণের মধ্যে একবারও ক্রাইমিয়ান কংগো জ্বর দেখা যায় নি৷ তবে আমরা সতর্ক রয়েছি৷ নজরদারি চালিয়ে যেতে হবে৷’’            

উত্তর গোলার্ধে বরং এঁটেল পোকা অনেক বেশি লাইম রোগ বহন করে থাকে৷ সেটির প্যাথোজেন হলো বোরেলিয়া নামের প্যাঁচানো ব্যাকটেরিয়া৷ ইনস্টিটিউট অফ জিওইকোলজির ড. ডানিয়া রিশটার বলেন, ‘‘বোরেলিয়া শরীরের মধ্যে ইনফ্ল্যামেশন বা প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে৷ যেমন জয়েন্টে প্রদাহের মাধ্যমে বাত রোগ হতে পারে৷ হৃদযন্ত্রের পেশিতে প্রদাহ বা মায়োকারডাইটিস হতে পারে৷ এমনকি মস্তিষ্কেও প্রদাহ সৃষ্টি করে নিউরো-লাইম রোগ সৃষ্টি করতে পারে৷’’  

ঝোপঝাড় ও ঘাসের কাছ দিয়ে হাঁটার সময় এঁটেল পোকা মানুষের শরীরে হামলা করে৷ খেয়াল না করলে এই পোকা ত্বকের উপরের স্তরে ফাটল সৃষ্টি করে৷ বোরেলিয়া তখন ১২ ঘণ্টা পরেই শরীরে প্রবেশ করতে পারে৷ ড. মোনাজাইয়ান বলেন, ‘‘তখন এমনটাও হতে পারে, যে বোরেলিয়া প্রথমে ত্বকের উপর জুড়ে বসে৷ এটাই প্রথম পর্যায়৷ তখন ত্বক লাল হয়ে যায়, যাকে এরিথাইমা মাইগ্রান্স বলা হয়৷ সেই অবস্থা দেখে অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে চিকিৎসা হলে তবেই নিরাপদ থাকা সম্ভব৷’’

আরও বিরল হলেও টিক-বর্ন এনসেফ্যালাইটিস রোগের চিকিৎসা বড়ই কঠিন৷ এর ফলে মেনেনজাইটিস হতে পারে৷ জার্মানির কিছু অংশে এফএসএমই ভাইরাস রয়েছে৷ বছরে ৩০০ থেকে ৫০০ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হন৷ মেনেনজাইটিসের আশঙ্কা তখন বেড়ে যায়, অনেকের মৃত্যুও হয়৷ একমাত্র টিকার মাধ্যমে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব৷ ড. মাসইয়ার মোনাজাইয়ানের পরামর্শ হলো, ‘‘প্রত্যেকের নিজের ঝুঁকির মাত্রা খতিয়ে দেখা জরুরি৷ আমার ঘনঘন এঁটেল পোকার সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা আছে কি? শুধু নিজের পরিবেশে না থেকে কারো যদি ঘনঘন পোল্যান্ড বা ইউরোপের অন্যান্য দেশে যাবার সম্ভাবনা থাকে, সে ক্ষেত্রে টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়৷’’

হায়ালোমা হোক অথবা উড টিক – এঁটেল পোকাবাহিত রোগের কবল থেকে বাঁচার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো এই পোকার কামড় পুরোপুরি এড়িয়ে চলা৷ এ ক্ষেত্রে শরীর ঢাকা লম্বা পোশাক এবং এঁটেল পোকা দূরে রাখার স্প্রে কার্যকর হতে পারে৷ তা সত্ত্বেও কামড় খেলে সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে পোকাটিকে দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে৷

ফল্কার ইডে/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন