জার্মানিকে প্লাস্টিকের বিকল্প দিতে পারে বাংলাদেশ | আলাপ | DW | 18.09.2018

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্লগ

জার্মানিকে প্লাস্টিকের বিকল্প দিতে পারে বাংলাদেশ

প্লাস্টিক গোটা বিশ্বের জন্য এক বড় সমস্যা৷ প্রতি বছর কোটি কোটি টন প্লাস্টিক ব্যবহার করা হচ্ছে, যার এক বড় অংশ গিয়ে পড়ছে সমুদ্রে৷

প্লাস্টিক সহজে নষ্ট হয় না, টিকে থাকে শতবছর৷ ফলে পরিবেশের জন্য তা এক মারাত্মক হুমকি৷ আশার কথা হচ্ছে, প্লাস্টিকের বিকল্প আছে৷

বিশ্বের আরো অনেক দেশের মতো জার্মানিতেও ইদানীং প্লাস্টিকের বিকল্প ব্যবহারের ব্যাপারে সাধারণ মানুষ ক্রমশ সচেতন হচ্ছে৷ বনে ডয়চে ভেলের যে কার্যালয়ে বসে এই লেখা লিখছি, সেখানেও প্রায়ই দেখি, কিছু সহকর্মী কাঁচের বা স্টিলের মগ নিয়ে ক্যান্টিনে যান৷ সেখানে থাকা কফি মেশিন থেকে সাধারণত প্লাস্টিকের কাপে করে কফি নিতে হয়৷ মগ হাতে নিয়ে ঘোরা সহকর্মীরা প্লাস্টিকের কাপের বদলে নিজেদের কাঁচ বা স্টিলের মগে কফি নিয়ে নেন৷ এতে দু'টো সুবিধা; প্রথমত, প্লাস্টিকের ব্যবহার সামান্য হলেও কম হয়, দ্বিতীয়ত, প্লাস্টিকের কাপ ব্যবহার না করায় কফির দাম কিছুটা কমও পড়ে৷

তবে, আমার মনে হয় না শুধু পাঁচ সেন্ট কমে পাওয়া যাবে বলে আমার পরিবেশসচেতন সহকর্মীরা হাতে মগ নিয়ে ঘোরেন৷ তাঁদের কাছে আসলে পরিবেশ বাঁচানোটাই আসল কথা৷ সাধারণ মানুষের সচেতনতা এক্ষেত্রে এক বড় ভূমিকা পালন করতে পারে৷ আমার এই সহকর্মীরা সেটাই করছেন৷

শুধু চা বা কফি'র মগই নয়, মাঝেমাঝে অনেককে দেখি, পুরোপুরি প্লাস্টিক মুক্ত জীবনযাপনের চেষ্টা করতে৷ ডয়চে ভেলের বন কার্যালয়ে অনেক দেশের সাংবাদিকরা কাজ করেন৷ তাই এখানকার আরেকটি উদাহরন না দিলেই নয়৷ ইংরেজি বিভাগের কর্মী ইউলিয়া বায়ার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক প্রচারণা চালাচ্ছেন৷ ‘ইসনেমেওহনে' হ্যাশট্যাগে চালানো সেই প্রচারণার উদ্দেশ্য হচ্ছে যতটা সম্ভব প্লাস্টিকমুক্ত থাকা৷ প্রচারণায় অংশগ্রহণকারীরা সুপারমার্কেট থেকে কেনাকাটার সময় প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়নি, এমন পণ্য কেনার চেষ্টা করেন৷ প্লাস্টিকের বোতল, ব্যাগ থেকে শুরু করে সবকিছু ব্যবহারের ঘোর বিরোধী তাঁরা৷

আর শুধু জার্মানির সাধারণ মানুষের কথা বলছি কেন, এ দেশের সরকারও প্লাস্টিক তাড়াতে যথাসাধ্য উদ্যোগ নিতে শুরু করেছে৷ আগে অনেক এশীয় মুদি দোকানে কেনাকাটা করলে বিনামূল্যে প্লাস্টিকের ব্যাগ দেয়া হতো৷ এখন সেটা পয়সা দিয়ে কিনে নিতে হয়৷ উদ্দেশ্য, মানুষ যাতে এটির ব্যবহার কমিয়ে দেয়৷ কিছু সুপারমার্কেট ইতোমধ্যে প্লাস্টিকের ব্যাগ পুরোপুরি তুলে দেয়ার ঘোষণাও দিয়েছে৷ প্রশ্ন হচ্ছে, প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে তাহলে কী ব্যবহার করা হচ্ছে?

জার্মানিতে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে কাগজের ব্যাগ এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারোপযোগী কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করতে দেখা যায়৷ তবে প্লাস্টিক ব্যাগের এক ভালো বিকল্প হচ্ছে পাটের ব্যাগ৷ মানে, বাংলাদেশের সোনালী আঁশ জার্মানির মতো উন্নত দেশে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে যা খোঁজা হচ্ছে, তার এক ভালো জোগানদাতা হয়ে উঠতে পারে৷ পাটের ব্যাগ শতভাগ পরিবেশবান্ধব৷ আর পাট উৎপাদনের ক্ষেত্রেও পরিবেশের উপর চাপ পড়ে কম৷ ফলে পশ্চিমারা যেমন বিকল্প খুঁজছে, সেটা সবদিক থেকেই হতে পারে পাট৷

Arafatul Islam Kommentarbild App

আরাফাতুল ইসলাম, ডয়চে ভেলে

আশার কথা হচ্ছে, জার্মানিতে বাংলাদেশের পাট এবং পাটজাত পণ্য জনপ্রিয় করে তুলতে কিছু উদ্যোগও শুরু হয়েছে৷ জার্মানির নর্থরাইনওয়েস্টফেলিয়া রাজ্যের রাজ্য সরকারের অর্থ সহায়তায় বাসুগ নামের প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি সংগঠন প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পাটকে তুলে ধরতে কোলন এবং ডর্টমুন্ডে একাধিক ওয়ার্কশপের আয়োজন করেছে৷ শীঘ্রই বন শহরে বড় আকারে এ সংক্রান্ত এক কর্মসূচি পালনের উদ্যোগও নিচ্ছে সংগঠনটি৷

বাসুগ চাচ্ছে পাটজাত পণ্য ব্যবহার করতে জার্মানদের আগ্রহী করে তোলার পাশাপাশি পাটজাত পণ্য আমদানিতে জার্মান প্রতিষ্ঠানগুলোকেও আগ্রহী করতে৷ এজন্য ওয়ার্কশপগুলোতে পাটজাত বিভিন্ন পণ্যও তুলে ধরা হচ্ছে৷ সেখানে হাজির থাকছেন বাংলাদেশি একজন রপ্তানিকারকও, যিনি জার্মানি, তথা ইউরোপে পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে আগ্রহী৷

ছোট পর্যায়ে হলেও বাসুগ-এর এই উদ্যোগ আমাদের মনে আশা সৃষ্টি করতেই পারে৷ তবে এধরনের উদ্যোগ আরো বড় পরিসরে নিতে এগিয়ে আসতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে৷ বাংলাদেশের পোশাক খাত যেমন জার্মানিতে এক বড় অবস্থান তৈরিতে সক্ষম হয়েছে, তেমনি পাটজাত পণ্যের বিস্তৃতি ঘটাতেও প্রয়োজন বড় উদ্যোগ৷ তখন শুধু প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবেই নয়, পাট পাতার সবুজ চা, এমনকি জার্মানির গাড়িশিল্পেও বাংলাদেশের পাটজাত পণ্যের ব্যবহার চালু করা সক্ষম হবে৷

প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের সরকার কি সে বিষয়ে আগ্রহী হবে?

সরকারের কি এই বিষয়টি ভেবে দেখা উচিত? লিখুন নীচের ঘরে৷ 

নির্বাচিত প্রতিবেদন