জার্মানদের খাদ্যাভ্যাসে মাংস আর মদের উপস্থিতি বেশি | জার্মানি ইউরোপ | DW | 19.12.2012
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জার্মানি ইউরোপ

জার্মানদের খাদ্যাভ্যাসে মাংস আর মদের উপস্থিতি বেশি

অনেক জার্মান এখনো তাদের অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মানে মাত্রাতিরিক্ত মাংস খাওয়া এবং মদ্যপান অব্যাহত রেখেছে৷ ইতিবাচক কিছু ধারা লক্ষ্য করা গেলেও অনেকে এখনো বাড়তি ওজনের অধিকারী এবং ক্যান্সারের মতো রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে৷

জার্মানির ঐতিহ্যবাহী খাবারের মধ্যে মাংসের আধিক্য খুব বেশি৷ শুকরের পা থেকে শুরু করে, সসেজ, বাছুরের মাংসের কাটলেট, কিংবা পটেটো স্যালাড – জার্মানির ঐতিহ্যবাহী এসব খাবারে মাংস, চর্বি আর ক্যালোরির উপস্থিতি অত্যন্ত বেশি৷ সাম্প্রতিক সময়ে অবশ্য জার্মানদের খাদ্য তালিকায় খানিকটা পরিবর্তন এসেছে৷ চলতি বছর খাদ্যাভ্যাস নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এসব তথ্য৷

Helmut Heseker Präsident der Deutschen Gesellschaft für Ernährung

পুষ্টি বিষয়ক সংগঠন ডিজিই'র প্রেসিডেন্ট হেলমুট হেসেকার

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জার্মানদের মাংস খাওয়ার পরিমাণ গত কয়েকবছর ধরে স্থির রয়েছে, তবে সেটি অনেক উঁচু পর্যায়ে৷ অর্থাৎ প্রত্যাশিত মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে মাংস খাচ্ছেন জার্মানরা, জানান পুষ্টি বিষয়ক সংগঠন ডিজিই'র প্রেসিডেন্ট হেলমুট হেসেকার৷ তিনি বলেন, ‘‘গত কয়েক বছরে মাংস খাওয়ার পরিমাণ বাড়েনি৷ তবে এই পরিমাণ উঁচু একটি মাত্রায় গিয়ে স্থির হয়ে আছে৷ এখানে বলা প্রয়োজন, এই মাত্রা আমাদের প্রত্যাশার অনেক উপরে৷''

ডিজিই'র বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতি সপ্তাহে গড়ে একজন ব্যক্তির ৬০০ গ্রামের বেশি মাংস খাওয়া উচিত নয়৷ কিন্তু দেখা যাচ্ছে, অনেকে, বিশেষ করে পুরুষরা একদিনেই এর চেয়ে বেশি মাংস খান৷ এমনকি কম-চর্বিযুক্ত মাংসও মাঝে মাঝে অস্বাস্থ্যকর, দাবি ডিজিই'র৷

বলাবাহুল্য, বাড়তি মাংস গ্রহণ শুধু মানুষের শরীরের ওজনই বাড়ায় না৷ এতে ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়ে৷ হেসেকার এই বিষয়ে বলেন, ‘‘সুশৃঙ্খল গবেষণা থেকে জানা গেছে, লাল মাংস ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়৷ বিস্তারিত ব্যাখ্যা করলে বলতে হয়, লাল মাংস হচ্ছে গরু, শুকর, ভেড়া আর ছাগলের মাংস৷ তবে মাছ এবং হাস-মুরগির মাংস খেলে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে না৷''

খাদ্যাভ্যাস বিষয়ক এই প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, জার্মানদের খাদ্য তালিকায় শাক-সবজির উপস্থিতি বাড়ছে৷ ২০০০ সাল থেকে হিসেব করলে প্রতি বছর গড়ে আগের চেয়ে এক কেজি করে বেশি শাক-সবজি খাচ্ছেন এখন জার্মানরা৷ বর্তমানে বছরে একজন ব্যক্তি ২৫ কেজি শাক-সবজি খান৷ দেহের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন, মিনারেলের অন্যতম উৎস এগুলো৷

শাক-সবজির মধ্যে টমেটো, শসা, গাজর এবং স্যালাডের চাহিদা যেমন বাড়ছে, অন্যদিকে বাঁধাকপি, মটর আর মসুর ডালের চাহিদা পড়তির দিকে৷ পড়তির দিকে থাকা শাক-সবজির জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্য প্রচারণার দিকে গুরুত্ব দিলেন হেসেকার৷ বললেন, ‘‘টেলিভিশনে অনুষ্ঠান করা পাচকরা যদি তাঁদের রন্ধনপ্রনালীতে এসব সবজি অন্তর্ভুক্ত করেন, তাহলে চমৎকার ব্যাপার হবে৷ তখন মানুষের খাদ্য তালিকায় এসবের ব্যবহার আবারো বাড়বে৷''

প্রতিবেদনে যে উদ্বেগজনক বিষয়টি ধরা পড়েছে, তা হচ্ছে, জার্মানরা ফলের দিক থেকে ক্রমশ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন৷

Übergewichtiger Mann

বাড়তি মাংস গ্রহণ শুধু মানুষের শরীরের ওজনই বাড়ায় না, এতে ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়ে

এছাড়া পানীয় গ্রহণের দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে৷ এতে দেখা যাচ্ছে, মিনারেল ওয়াটার এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়৷ পাশাপাশি চিনিমিশ্রিত হালকা পানীয়র চাহিদাও উপরের দিকে৷ এটিকে অবশ্য ইতিবাচক হিসেবে নিচ্ছেন না গবেষকরা৷ কেননা, চিনিমিশ্রিত হালকা পানীয়তে প্রচুর ক্যালোরি থাকলেও তা আমাদের ক্ষুধা মেটাতে পারে না৷

জার্মানদের ওয়াইন এবং বিয়ার পানের পরিমাণ আগের চেয়ে পড়তির দিকে৷ তবে তা এখনো প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি৷ বিশেষ করে ৩১ শতাংশ পুরুষ এবং ২৫ শতাংশ নারী পরিমিত মাত্রার চেয়ে বেশি ওয়াইন এবং বিয়ার পান করেন৷ পরিমিত মাত্রাটি হচ্ছে নারীর ক্ষেত্রে দশ গ্রাম, পুরুষের ক্ষেত্রে ২০ গ্রাম৷ এক বা দুই গ্লাস ওয়াইনেই এই মাত্রা রয়েছে৷

প্রসঙ্গত, ১৯৬৯ সাল থেকে প্রতি চার বছর অন্তর জার্মান সরকারের সহায়তায় খাদ্যাভাস সংক্রান্ত এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়৷ জার্মানদের পুষ্টিধারা বিশ্লেষণের এক বিজ্ঞানসম্মত পন্থা এটি৷ চলতি বছরের প্রতিবেদনে বয়স্ক মানুষদের দিকে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়৷ জার্মানিতে ৭০ থেকে ৭৪ বছর বয়সি ৭৪ শতাংশ নারী এবং ৬৩ শতাংশ পুরুষ বাড়তি ওজনের অধিকারী৷

তবে বাড়তি ওজনের শিশুর সংখ্যা কিন্তু আগের চেয়ে কমতির দিকে৷ প্রাক-বিদ্যালয় পর্যায়ের শিশুদের মধ্যে বাড়তি ওজনের হার কমেছে তিন শতাংশ৷ আর স্থূলতা কমার হার ১.৮ শতাংশ৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন