জামায়াতে ইসলামীসহ দলটির সব স্তরের নেতৃত্ব নিষিদ্ধের সুপারিশ | বিশ্ব | DW | 25.03.2014
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

জামায়াতে ইসলামীসহ দলটির সব স্তরের নেতৃত্ব নিষিদ্ধের সুপারিশ

জামায়াতে ইসলামীসহ দলটির সব স্তরের নেতৃত্ব, সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও দলটির মুখপাত্র দৈনিক সংগ্রামকে নিষিদ্ধ করতে অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে সুপারিশ করেছে তদন্ত সংস্থা৷ মঙ্গলবার তারা প্রধান প্রসিকিউটরের কাছে রিপোর্ট জমা দিয়েছে৷

রাজধানীর ধানমণ্ডির তদন্ত কার্যালয়ের সেইফ হোমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের তদন্ত প্রতিবেদনের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়৷ তদন্ত দলের প্রধান আব্দুল হান্নান খান ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘তদন্ত সংস্থার কাছে প্রমাণিত হয়েছে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ থেকে ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পুরো বাংলাদেশে সংগঠিত সকল মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী জামায়াতে ইসলামী৷'' এছাড়াও দলটির তত্‍কালীন ছাত্রসংগঠন ছাত্র সংঘ, শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও দৈনিক সংগ্রামকে দায়ী করা হয় তদন্ত প্রতিবেদনে৷ ৩৭৩ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন তার বিস্তারিত তথ্য প্রমাণ আছে বলে জানান তিনি৷

প্রতিবেদনে জামায়াতের ৭ ধরনের অপরাধের কথা বলা হয়েছে৷ অভিযোগগুলো হল: ১. মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ২. গণহত্যা ৩. যুদ্ধাপরাধ ৪. জেনেভা কনভেনশন বিরোধী অপরাধ ৫. আন্তর্জাতিক আইনে মানবতা বিরোধী অপরাধ ৬. অপরাধের ষড়যন্ত্র ও সহযোগিতা এবং ৭. অপরাধ প্রতিরোধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়া৷ সংগঠন হিসাবে জামায়াতের সব স্তরের কর্মী এই অপরাধে অংশ নিয়েছে৷ আর তাদের সহযোগী সংগঠন এবং মুখপাত্র দৈনিক সংগ্রামও একই অপরাধে জড়িত ছিল৷ তাই প্রতিবেদনে জামায়াতসহ দলটির কেন্দ্র থেকে সব স্তরের নেতাদের অভিযুক্ত করে তাঁদের নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে৷ সাক্ষী রাখা হয়েছে ৭০ জন৷

মঙ্গলবার সকালেই প্রধান প্রসিকিউটরের কাছে এই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়৷ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর রানা দাসগুপ্ত ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘চিফ প্রসিকিউটর তদন্ত প্রতিবেদন এখন পর্যালোচনা করে দেখবেন৷ প্রতিবেদনে যদি জামায়াতের বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়, তা হলে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের আবেদন করা হবে৷ আর ট্রাইব্যুনাল শুনানি করে সন্তুষ্ট হলে অভিযোগ গঠন এবং বিচার কাজ শুরু করবেন৷''

তিনি আরও বলেন, ‘‘ট্রাইব্যুনালের আইন সংশোধন করে ব্যক্তির পাশাপাশি সংগঠনের বিচারের বিধান করা হয়েছে৷ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২০ ধারায় বলা হয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড অথবা ট্রাইব্যুনাল যে রকম শাস্তি দেয়া যৌক্তিক মনে করেন৷ তাই বিচারে জামায়াত দোষী প্রমাণিত হলে দলটি নিষিদ্ধ হতে পারে৷ দলের সব ধরনের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হতে পারে৷ জামায়াতের সঙ্গে জড়িতরাও নিষিদ্ধ হতে পারেন৷''

গত বছরের ১লা আগস্ট জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট৷ কিন্তু জামায়াত এখনো নিষিদ্ধ নয়৷ তবে এর আগে তিনবার নিষিদ্ধ হয়েছিল জামায়াতে ইসলামী৷ ১৯৫৯ এবং ১৯৬৪ সালে পাকিস্তানে নিষিদ্ধ হয় জামায়াত৷ আর বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হয় ১৯৭২ সালে৷ জিয়াউর রহমানের শাসনামলে আমলে ১৯৭৯ সালের ২৫শে মে বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ পায় জামায়াতে ইসলামী৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন