জাফর ইকবালদের সমাজ পরিবর্তনের চেষ্টা অব্যাহত থাকুক | বিশ্ব | DW | 05.03.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ব্লগ

জাফর ইকবালদের সমাজ পরিবর্তনের চেষ্টা অব্যাহত থাকুক

ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলার পর তাঁর অগ্রজ হুমায়ূন আহমেদের পুত্র নুহাশ ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া লিখেছেন, ‘‘আমার পরিবার সমাজ পরিবর্তনের চেষ্টা বন্ধ রাখবে না৷''

ঘটনার পরদিনই নুহাশ হুমায়ূন তাঁর ফেসবুক প্রোফাইলে এই প্রতিক্রিয়াটি দেন৷ তাঁর পুরো বক্তব্যে নেই কোনো আবেগের বাগাড়ম্বর৷ নেই কাউকে আঘাত করার মানসিকতা৷ কিন্তু একইসঙ্গে তা দৃঢ়সংকল্পের প্রতিচ্ছবি৷

তিনি ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন, যার বাংলা করলে মানে অনেকটা এমন হয়, ‘‘এটা সবার ক্ষেত্রেই হয়৷ আপনি হয়তো একটা ফোন পেলেন বা কেউ টেক্সট মেসেজ পাঠলো যে, আপনার পরিচিত কেউ ভালো নেই৷ আপনি হাসতাপালে ছুটে যান৷

সাধারণত, হার্টের অসুখ বা ব্রেন স্ট্রোক বা অন্য কিছু৷ কিন্তু আজ ভিন্ন কিছু ঘটেছে৷''

‘‘আমার পরিবারের একজনের ওপর হামলা হয়েছে৷ তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া, আঘাতের বিষয়টি নিয়ে হলিউড অ্যাকশন মুভির মতো সরাসরি খবর প্রচার করছে৷ আমার নিউজফিড ভেসে যাচ্ছে নানা প্রতিক্রিয়া, ভাবনা ও দোয়ায়৷''

তিনি কোনো অভিযোগ করেননি৷ কিন্তু ফুটিয়ে তুলেছেন হাসপাতালে নেয়ার চিত্র৷ মিডিয়া স্পট থেকে যেমনটি করে তখন প্রচারের প্রতিযোগিতা চালাচ্ছিল, তা অনেকেরই কাছে দৃষ্টিকটু ঠেকেছে৷

ছাত্রদের মধ্যে যারা সঙ্গে ছিলেন, তারা টিভি বা পত্রিকার আলোকচিত্রীদের ক্যামেরা সরিয়ে নেবার অনুরোধ করছিলেন৷ এ রকম ঘটনা প্রথম নয়৷ খবর প্রচারের প্রতিযোগিতায় দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়াটা ঠিক ঘটনা ঘটার মুহূর্তে অনেক সময়ই কঠিন হয়ে পড়ে৷ কিন্তু এ থেকে বেরিয়ে আসাটা জরুরি৷

তবে এ-ও ঠিক গণমাধ্যমের প্রচারণার কারণেই এত দ্রুত খবরটি ছড়িয়েছে৷ কর্তৃপক্ষ তড়িৎ সিদ্ধান্তও নিতে পেরেছেন৷ তাছাড়া গণমাধ্যমের ভূমিকার কারণেই প্রশাসনও বিষয়টি ভালোভাবে তলিয়ে দেখার একটা চাপ অনুভব করে৷

নুহাশের প্রতিক্রিয়ার দ্বিতীয় অংশটি আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ ঠেকেছে অনেকের কাছে৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘দেখুন, আমি শুধু চাই আমার চারপাশের মানুষগুলো এই দেশে নিরাপদে থাকুক৷ কিন্তু, বাস্তবতা সে কথা বলছে না৷ আমার জন্য এটা রাজনৈতিক, নৈতিক বা আদর্শিক বিষয় নয়৷ আমার কাছে এটা পারিবারিক বিষয়৷ আর আমি এটা বলতে পারি যে, আমার পরিবার অত্যন্ত শক্ত এবং অবিশ্বাস্য রকমের দৃঢ়৷ এবং সামনে যা-ই আসুক না কেন, যন্ত্রণা বা সংঘাত বা মৃত্যু, আমার পরিবার সমাজ পরিবর্তনের চেষ্টা বন্ধ রাখবে না৷ লিখে রাখতে পারেন৷'' অত্যন্ত সুদৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন তিনি৷

হামলার ঘটনার পর অধ্যাপক জাফর ইকবাল বা তাঁর স্ত্রী ইয়াসমিন হকের প্রতিক্রিয়াও উদাহরণ তৈরি করেছে৷ কতটা মানবিক হলে একজন মানুষ তাঁর ওপর হামলাকারীর খোঁজ খবর নিতে পারেন, ছুরির আঘাতে মাথা থেকে রক্ত পড়ার সময়ও ছাত্রদের শান্ত থাকতে বলতে পারেন, হামলাকারীর খোঁজ-খবর নিতে পারেন, ছাত্রদের অনুরোধ করতে পারেন হামলাকারীকে যেন মারধর না করে৷

Zobaer Ahmed (Zobaer Ahmed)

যুবায়ের আহমেদ, ডয়চে ভেলে

সামাজিক গণমাধ্যমেও এই বিষয়টি নিয়ে অনেকে লিখেছেন৷

জাফর ইকবালের স্ত্রী ইয়াসমিন হকও গণমাধ্যমের সামনে যা বলেছেন, তা প্রশংসনীয়৷ তিনি বলেছেন, ‘‘জাফর ইকবাল ক্যাম্পাসে ফিরে যাবেন৷ তাঁর পাঁচটা কোর্স আছে৷'' একটি দম্পতি পেশাগত দায়িত্বে কতটা নিবেদিত এমন সময়েও এ কথা বলতে পারে!

ঘটনার জন্য তিনি কাউকে দোষারোপ করতেও রাজি নন ইয়াসমিন হক৷ বারবারই বলছিলেন, পুলিশ সবসময়ই পাহারা দিয়েছে৷ বরং জাফর ইকবালই মাঝে মাঝে বিরক্ত হতেন, এতটা নিরাপত্তা কেন দেয়া হচ্ছে৷ তাঁর কণ্ঠে উদ্বেগ ছিল না, ছিল না অনুযোগ বা অভিযোগের সুর৷ বরং পুরো পরিবারটিরই বিপর্যয়ের সময়ও শান্ত থেকে লড়ে যাবার মানসিকতা প্রকাশ করতে দেখা গেছে, যা সত্যিই অনুসরণীয়৷

এ ব্যাপারে আপনার কিছু বলার থাকলে লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন